আমাদের কবি নজরুল ইসলাম

‘কারার ওই লৌহকপাট, ভেঙে ফেল, করলে লোপাট, রক্ত জমাট শিকল পূজার পাষাণ বেদী’- এই আসমুদ্র হিমাচল রক্ত গরম করা গান রচনা, তোমার পক্ষেই সম্ভব কবিবর। তরবারির থেকেও শাণিত অস্ত্র কলম থেকে আগুন ঝরিয়ে তুমি হয়েছ ‘বিদ্রোহী’ কবি। ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় তরুণ সমাজকে যেভাবে করেছ জাগৃত, দেশপ্রেমে করেছ উদ্বুদ্ধ, তা শতবর্ষ পরেও প্রাসঙ্গিক।

‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’, ‘আমার কৈফিয়ত’, ‘অন্ধ স্বদেশ দেবতা’, ‘ফরিয়াদ’ কবিতাগুলির ছত্রে ছত্রে পরাধীনতার নাগপাশ ছেদনের আহ্বান, স্বপ্নের স্বাধীন দেশে জীবনের জয়গান।

কত যত্নে করেছ দেশমাতৃকার বন্দনা, করেছ স্তূতি। তুলে ধরেছ সোনার বাংলার স্বর্ণালী রূপ। প্রতিটি ঋতুর প্রেক্ষিতে করেছ বাংলা মায়ের রূপের পূজো। ‘ঝিঙেফুল’, ‘মিলন মোহনায়’, ‘বাদল দিনে’ ও ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’ এ তুমি স্বদেশ ও স্বদেশের মানুষের সাথে শিখিয়েছ একাত্ম হতে।

নিপীড়িত ও নির্যাতিতদের পক্ষ হয়ে রক্ত ঝরেছে, অশ্রু ঝরেছে তোমার কলম থেকে। অত্যাচারী শাসক গোষ্ঠীর বিপক্ষে গর্জে উঠেছে সেই বলিষ্ঠ লেখনী। তীব্র ধিক্কার, তীব্র যন্ত্রণার প্রতিফলন তোমার রচনার প্রতি ছত্রে। তোমার সেই বিদ্রোহী সত্তার স্বীকৃতি দিয়ে তোমার ‘গুরুদেব’ স্বয়ং কবিগুরু তোমাকে ‘বিদ্রোহী কবি’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

‘বিদ্রোহী’ কবির রচিত ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষ পরে ও (তোমার ১২৫ তম জন্মদিবসে) এক বিরল প্রতিভা, অসামান্য গুণ ও বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন এক অমরকবি কে জানাই শ্রদ্ধা ‘প্রণাম, তোমায় প্রণাম, তোমায় প্রণাম শতবার।’#

Facebook
Twitter
LinkedIn
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!