জীবনানন্দের প্রথম তিনটি কাব্যগ্রন্থ
জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হল – ঝরা পালক। এই গ্রন্থের প্রথম সংস্করণের শিরোনাম পৃষ্ঠায়…

ছোটবেলায় পড়া কোনো কোনো কবিতা বড় হওয়ার পরও আমাদের সঙ্গে থেকে যায়। বয়স বাড়লে কবিতার কথাগুলোর অর্থ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কামিনী রায়ের ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ তেমনই একটি কবিতা। নিজের কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করতে গিয়ে থেমে যাওয়া, ভুল হওয়ার ভয়ে কাজ শুরু না করা কিংবা কারও পাশে দাঁড়াতে চেয়েও পিছিয়ে আসার মধ্যে কথাটি ফিরে…
সময় কখনও মরে না, শুধু মুখ বদলায়, পুরোনো ক্ষত নিয়ে নতুন সকাল আসে। শহরের ভিড়ে কত মুখ নিঃশব্দে কাঁদে, অদৃশ্য প্রশ্ন জমে থাকে বাতাসে। যে হাত মাটি চষে অন্ন ফলায়, তার ঘরেই কেন অভাবের অন্ধকার? যে শ্রমিক শহরের স্বপ্ন গড়ে, তার স্বপ্ন কেন ভাঙা চালের নিচে? একটি শিশুর চোখে যে ক্ষুধা জ্বলে, তার সামনে সভ্যতা…
কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক এবং ধ্রুপদী সাহিত্যের অনুবাদক অ্যান কার্সনের সাহিত্যে নোবেলপ্রাপ্তি সমকালীন বিশ্বের প্রথাবিরোধী ও নিরীক্ষাধর্মী সাহিত্যধারার এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। ১৯৫০ সালে অন্টারিওর টরন্টোতে জন্ম নেওয়া কার্সন শৈশব ও কৈশোর থেকেই প্রাচীন গ্রিক ভাষা এবং ধ্রুপদী সাহিত্যের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান ও অনুবাদচর্চার সূত্রে তিনি প্রাচীন গ্রিক দর্শন ও রূপকথাকে কেবল অতীতের প্রত্নতাত্ত্বিক…
১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর রাতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার আঙ্গুলকাটা ও সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় রাজাকার বাহিনী হিন্দু বাঙালিদের বাড়িতে হামলা চালায়। লুটপাট ও নির্যাতনের পাশাপাশি বিভিন্ন বাড়ি থেকে ৩৭ জনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে সাতজনকে আলাদা করে আটকে রাখা হয়। বাকি ৩০ জনকে সূর্যমণি গ্রামের ওয়াপদা বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে গুলি করা হয়। ৬ অক্টোবর রাতে…
উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এক অনন্য নাম। তবে তাঁকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে সেই সময়ের মনীষা ও নবজাগরণের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না। বিদ্যাসাগরের পাশাপাশি রাজা রামমোহন রায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, অক্ষয়কুমার দত্তসহ বহু মনীষীর চিন্তা, সাহিত্যচর্চা ও সমাজসংস্কারের মধ্য দিয়ে উনিশ শতকের বাংলায় এক নতুন মননশীলতার বিকাশ ঘটেছিল। তাঁদের কর্ম ও চিন্তার…
একটি রাস্তা। রাস্তার দু’ধারে সারি সারি বটগাছ। বিশাল ডালপালা ছড়িয়ে আছে আকাশের দিকে। কোথাও ঝুলে পড়েছে শিকড়। কোথাও পাখির বাসা। দুপুরের তীব্র রোদে পথিকেরা এসে দাঁড়াচ্ছেন গাছের ছায়ায়। বাতাসে পাতার মর্মর শব্দ। চারপাশে সবুজের শান্তি। কর্ণাটকের হুলিকাল থেকে কুদুরের পথে আজ এমনই এক দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু একদিন এই পথ এমন ছিল না। তখন রোদ…
লোকটাকে দেখে একেবারে ভক্তি হল না রিঙ্কুর। গায়ে একটা সাদা হাফ শার্ট। শার্টটায় অসংখ্য ভাঁজ পড়া। দেখে মনে হয় কোনও কালেও ইস্তিরি করা হয়নি। পাজামার অবস্থা তো আরও খারাপ! মনে হয় ফেলে দেওয়া কাপড় কুড়ুনির কাছ থেকে বিনে পয়সায় চেয়ে নেওয়া হয়েছে। আর নামেরও কী ছিরি, দেবু! এই পাগল পাগল ভিখিরি গোছের লোকটা নাকি বাবার…
শূন্যে চেয়ে থাকি বিকেল শীতের খড় শুকিয়ে নিতে থাকে রোদের ওড়না মেলে দাঁড়িয়ে থাকে গাছ শালিক পাখির ঠোঁটে নরম ইশারা ঘুরেফিরে কার ছায়া আসে? মুঠো খুলি স্মৃতির স্পর্শগুলি শিহরন ছড়ায় বালিপথ জুড়ে সময়ের পদচিহ্ন আঁকা শেষ নিশানায় জলপাখি ডুব মারে কী মাছ? কী মাছ ওর ঠোঁটে? সাম্রাজ্যের কারুকাজগুলি জলের ওপরে দুলে ওঠে তীরে কার ছায়ার…
সত্যিকারের প্রেম, ভালোবাসা, স্নেহ, মায়া-মমতা, এসব স্বর্গীয় জীবনবোধ আমাদের মানবজীবনে কোথা থেকে, কীভাবে, কোন সময়ে চলে আসে, সেটা রীতিমতো এক রহস্যময় ব্যাপার। কখনো আবার নিজেরই প্রেমহীন শূন্য জীবনে হঠাৎ করে প্রেম-ভালোবাসা নীরবে এসে যায়। রেশমা সুলতানা একজন গায়িকা এবং গীতিকার। বয়স চব্বিশ বছর, বেশ সুন্দরী। মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ছাত্রী। সংগীত তার…
গবেষক: ড. বরুণ কুমার মণ্ডল প্রতিষ্ঠান: পি.পি.কে. কলেজ, বুন্ডু, রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা: সময়ের শব্দ ISSN: 2704-1387 প্রকাশের তারিখ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ সারসংক্ষেপ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘরে-বাইরে উপন্যাসটি ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গবিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত হলেও এর তাৎপর্য কেবল রাজনৈতিক ইতিহাসে সীমাবদ্ধ নয়। উপন্যাসটিতে স্বদেশী আন্দোলনের অর্থনৈতিক অভিঘাত, গ্রামীণ সমাজের সংকট এবং নিম্নবর্গের মানুষের প্রান্তিক অবস্থান গভীরভাবে…
খৃষ্টীয় ঊনিশ শতকের সূচনায় ইউরোপীয় আধুনিকতা ও প্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী সমাজব্যবস্থার এক সন্ধিক্ষণে ভারতের আধুনিক ভাবধারার পথিকৃৎ রাজা রামমোহন রায়ের (১৭৭২–১৮৩৩) আবির্ভাব ঘটেছিল। তিনি শুধুমাত্র একজন সমাজসংস্কারক বা ধর্মীয় চিন্তাবিদ ছিলেন না; তিনি এক দূরদর্শী জাতীয় ও সামাজিক রূপকারও ছিলেন। তিনি খৃষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ ও ঊনিশ শতকের সূচনালগ্নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাহীন, সামাজিক কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং শিক্ষাগত দিক…
ভারতবর্ষের প্রখ্যাত দার্শনিক ডক্টর সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান একবার বলেছিলেন যে একজন প্রকৃত কবি হবেন দার্শনিক এবং একজন প্রকৃত দার্শনিক হবেন কবি। তিনি মনে করতেন যে একজন কবি যদি দার্শনিক না হতে পারেন তবে তার কোনো মূল্য নেই। রাধাকৃষ্ণান এ কথাগুলোই বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথের কবিতা পাঠ করে। রবীন্দ্রনাথের কবিতা পাঠ করে তিনি অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন। বিশেষ করে তাঁর…