পথে হলো দেখা
আজ বিকেলটা আর পাঁচটা বিকেলের মতো নয়, বারবার ঝালমুড়ি আনমোনা হয়ে পড়ছে— পিকলু, রিঙ্কু দাদা,…

আমাদের নদী আর সেই স্রোতস্বিনী জলতরঙ্গের নদী নেই। জলপ্রবাহের বদলে নদীতে এখন খুনপ্রবাহের ঢেউ ওঠে। কেউ আর নদীতে নাইতে নামে না। শঙ্কার ঘূর্ণিচক্রে কখন কার লাশ এসে শোনাবে বেহুলার গান। জেলেপাড়ায় মধ্যাহ্নের রোদের বিস্তার। সারাবেলা জেলেরা বুনে যায় দুঃখের জাল। তারা আর তুরাগে মাছ মারতে যায় না। জলে নেই মাছ, জালভর্তি উঠে আসে লাশ। তারা…
লন্ডন থেকে গিলবার্ট থমাসের সম্পাদনায় ‘দ্য ভেনচারার’ ছোটকাগজের ১৯২১ সালের একটি সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাতিদীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল। সে সাক্ষাৎকারটির বঙ্গানুবাদ করেছেন তুহিন দাস। সাক্ষাৎকারটি কে নিয়েছেন তা উল্লেখ নেই; সম্ভবত সম্পাদকের নেয়া। সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনেক প্রতিকৃতি ছিল এবং সবগুলোই তার মতো! সম্ভবত তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি অভিবাদন জানাতে নিজের ক্যানভাস থেকে বেরিয়ে আসছেন…
ঐতিহাসিকদের মতে, খৃষ্টীয় ঊনিশ শতকের বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতির নবজাগরণ বা রেনেসাঁস কোনো একক রৈখিক স্রোত ছিল না; বরং, তা বহুবিধ আদর্শ, সমাজবীক্ষা এবং মতাদর্শগত সংঘাতের এক জটিল তন্তুজাল ছিল। আর তখন এ বৌদ্ধিক আলোড়নের কেন্দ্রবিন্দুতে যে দু’জন প্রাতঃস্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব অবস্থান করছিলেন, তাঁরা ছিলেন পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০–১৮৯১) এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮–১৮৯৪)। এঁদের…
সম্পর্ক ছিমছাম নদীর সীমান্ত ধরে একটা তরুন সম্পর্ক হাঁটছিলো কোথায় যাচ্ছে তা সে জানে না তাকে ছুঁয়ে গোটা গোটা রাত দিনগুলো বড় বেশী হই হই করতে করতে নদীর গভীরে ডুবে যাচ্ছে দূরে কারা যেন নাম ধরে ডাকছে তাকে খুব স্পষ্ট নয় অথচ তা যেন শোনা যায় পাখিরা, গাছেরা তাকে একে একে চিনতে পারছে শিশিরের ফিসফিস,…
কিন্তু সুবই আর ফিরে আসেনি। অথচ একজন তার প্রাণের আকুতি ঢেলে সুবইকে আরেকটিবার ফিরে আসার কথা বলেছিলেন। যদিও সুবইয়ের ফিরে আসার জন্য আমার কোনো অপেক্ষা ছিল না। তবু কেন জানি না, কতকাল আগে শোনা সেই আহ্বানের কয়েকটি শব্দ আর সুর আমার কানে প্রায়ই বেহাগের রাগে বেজে ওঠে— “অ সুবুই, সুদিনে আরকবার আইসগো।” একজনের স্নেহের ধন-কন্যাসমা…
ইতিহাস শুধু রাষ্ট্রের নথিতে লেখা হয় না। ইতিহাস লেখা হয় মানুষের জীবনেও। সেই ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল দলিল একাত্তরের দিনগুলি। একজন শিক্ষিকা, একজন মা এবং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে জাহানারা ইমাম মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোকে যেভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন, তা বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সংযোজন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তাই তাঁকে শুধু ‘শহীদ জননী’ পরিচয়ে স্মরণ করলে…
উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি বাংলা ভাষায় পত্রপত্রিকা প্রকাশের যে ধারাটি বয়ে চলেছিল, তার চরম উৎকর্ষতা লক্ষ্য করা যায় কথাসাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায়। সেসময়ে বাংলা সাহিত্যের গদ্যরীতির আদর্শ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘বঙ্গদর্শন’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। এই পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে বাংলা সাময়িকপত্রের জগতে এক নতুন ধারার সূত্রপাত হয়। এই পত্রিকা প্রকাশের পিছনে বঙ্কিমের উদ্দেশ্য…
বাঁচার জন্য আকাশকে বললাম ছবি আঁকতে, মেঘের ছবি; শৈশবের সেই কল্পছবি, কৈশোরের সেই গল্পছবি; অনেক অনেক, অনেক ছবি… আকাশ বলল—আঁকছি তো আমি রাতদিন, তুমি তো দেখেছো না আর… আমি বললাম—সে কি কথা! তাকাই তো তোমার দিকে সময় পেলে, তোমার দেখার ইচ্ছা হলে; —সময় কি সেভাবে পাও কখনও? মুচকি হেসে বলল আকাশ; সত্যি তো, সময় সেভাবে…
অনসূয়াকে রুট ডিরেকশনটা দিয়ে দিয়েছিল তারই সহপাঠিনী বন্ধু মৈত্রেয়ী। মৈত্রেয়ীদের দেশের বাড়ি জলপাইগুড়ি শহরেই। জয়েন্টে অত্যন্ত ভালো রেজাল্ট করে সে কলকাতার মেডিকেল কলেজেই চান্স পেয়েছিল। তার রুমমেট হওয়ার জন্য মৈত্রেয়ীর সঙ্গে সম্পর্কটা হয়ে উঠেছিল ভীষণ ঘনিষ্ঠ। তাদের ফাইনাল পরীক্ষা হয়ে যাবার পর দুজনের ইন্টার্নশিপ শেষের মুখে। ঠিক এই সময়েই ঘটনাটা ঘটে গেল। সারাটা ছাত্রজীবনে শুধুই…
সুদূর শিকাগোর প্রাতিষ্ঠানিক পরিমণ্ডল থেকে যিনি বারবার ফিরে এসেছিলেন কার্তিকের নবান্ন, কুয়াশামোড়া রূপসী বাংলা এবং জীবনানন্দের কাব্যভূমিতে, তিনি ক্লিন্টন বি. সিলি। রবার্ট ফ্রস্ট একদা সংশয় প্রকাশ করেছিলেন যে, শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলো অনুবাদের ফলে তাদের মৌলিক সত্তার অনেকটাই হারিয়ে ফেলে। সিলি সেই সংশয়কে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছেন। এই নিবেদিতপ্রাণ গবেষক বাংলার ধুলোবালি, স্তব্ধতা ও বিপন্ন বিস্ময়কে ইংরেজি…
বিধবাবিবাহের সমর্থনে ঊনিশ শতকের বাঙালি কবিরা একাধিক কাব্য লিখেছিলেন। এবিষয়ে বিপিনবিহারী গুপ্ত লিখিত ‘পুরাতন প্রসঙ্গ’ গ্রন্থটি থেকে জানা যায় যে, বাংলায় বিধবাবিবাহ আন্দোলনের উদ্যোক্তা পণ্ডিত বিদ্যাসাগরকে ব্যঙ্গ করে সেযুগের স্বভাবকবি ধীরাজ ‘বিদ্যাসাগরের বিদ্যে বোঝা গিয়েছে’ শিরোনামের প্রথম গানটি রচনা করেছিলেন, এবং কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন যে, অশ্লীল ও রুচিবিগর্হিত এই গানটি ধীরাজের কণ্ঠে শুনে স্বয়ং বিদ্যাসাগরও…
১৯৭১ সালের ১৮ জুন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা একাধিক হত্যাযজ্ঞ চালায়। বাগেরহাটের কান্দাপাড়া, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সাতগাঁও এবং জয়পুরহাটের পাগলা দেওয়ান সেদিনের তিনটি উল্লেখযোগ্য গণহত্যার স্থান। এসব হত্যাকাণ্ডে সাধারণ গ্রামবাসী, শিক্ষক, শিশু ও শরণার্থীসহ বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান। কান্দাপাড়া গণহত্যা, বাগেরহাট: ১৮ জুন ছিল শুক্রবার। দুপুরের দিকে কান্দাপাড়া ও আশপাশের…