জাহানারা ইমামের কলমে একাত্তর

ইতিহাস শুধু রাষ্ট্রের নথিতে লেখা হয় না। ইতিহাস লেখা হয় মানুষের জীবনেও। সেই ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল দলিল একাত্তরের দিনগুলি। একজন শিক্ষিকা, একজন মা এবং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে জাহানারা ইমাম মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোকে যেভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন, তা বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সংযোজন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তাই তাঁকে শুধু ‘শহীদ জননী’ পরিচয়ে স্মরণ করলে…

Read More

অদ্বিতীয় সম্পাদক বঙ্কিমচন্দ্র

উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি বাংলা ভাষায় পত্রপত্রিকা প্রকাশের যে ধারাটি বয়ে চলেছিল, তার চরম উৎকর্ষতা লক্ষ‍্য করা যায় কথাসাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায়। সেসময়ে বাংলা সাহিত্যের গদ্যরীতির আদর্শ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘বঙ্গদর্শন’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। এই পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে বাংলা সাময়িকপত্রের জগতে এক নতুন ধারার সূত্রপাত হয়। এই পত্রিকা প্রকাশের পিছনে বঙ্কিমের উদ্দেশ্য…

Read More

বাঁচার জন্য ও অন্যান্য কবিতা

বাঁচার জন্য আকাশকে বললাম ছবি আঁকতে, মেঘের ছবি; শৈশবের সেই কল্পছবি, কৈশোরের সেই গল্পছবি; অনেক অনেক, অনেক ছবি… আকাশ বলল—আঁকছি তো আমি রাতদিন, তুমি তো দেখেছো না আর… আমি বললাম—সে কি কথা! তাকাই তো তোমার দিকে সময় পেলে, তোমার দেখার ইচ্ছা হলে; —সময় কি সেভাবে পাও কখনও? মুচকি হেসে বলল আকাশ; সত্যি তো, সময় সেভাবে…

Read More

নষ্ট মেয়ে

অনসূয়াকে রুট ডিরেকশনটা দিয়ে দিয়েছিল তারই সহপাঠিনী বন্ধু মৈত্রেয়ী। মৈত্রেয়ীদের দেশের বাড়ি জলপাইগুড়ি শহরেই। জয়েন্টে অত্যন্ত ভালো রেজাল্ট করে সে কলকাতার মেডিকেল কলেজেই চান্স পেয়েছিল। তার রুমমেট হওয়ার জন্য মৈত্রেয়ীর সঙ্গে সম্পর্কটা হয়ে উঠেছিল ভীষণ ঘনিষ্ঠ। তাদের ফাইনাল পরীক্ষা হয়ে যাবার পর দুজনের ইন্টার্নশিপ শেষের মুখে। ঠিক এই সময়েই ঘটনাটা ঘটে গেল। সারাটা ছাত্রজীবনে শুধুই…

Read More

ক্লিন্টন বি সিলি এবং আমাদের সাংস্কৃতিক ঋণ

সুদূর শিকাগোর প্রাতিষ্ঠানিক পরিমণ্ডল থেকে যিনি বারবার ফিরে এসেছিলেন কার্তিকের নবান্ন, কুয়াশামোড়া রূপসী বাংলা এবং জীবনানন্দের কাব্যভূমিতে, তিনি ক্লিন্টন বি. সিলি। রবার্ট ফ্রস্ট একদা সংশয় প্রকাশ করেছিলেন যে, শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলো অনুবাদের ফলে তাদের মৌলিক সত্তার অনেকটাই হারিয়ে ফেলে। সিলি সেই সংশয়কে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছেন। এই নিবেদিতপ্রাণ গবেষক বাংলার ধুলোবালি, স্তব্ধতা ও বিপন্ন বিস্ময়কে ইংরেজি…

Read More

বিধবাবিবাহের সমর্থনে ঊনিশ শতকের কাব্য

বিধবাবিবাহের সমর্থনে ঊনিশ শতকের বাঙালি কবিরা একাধিক কাব্য লিখেছিলেন। এবিষয়ে বিপিনবিহারী গুপ্ত লিখিত ‘পুরাতন প্রসঙ্গ’ গ্রন্থটি থেকে জানা যায় যে, বাংলায় বিধবাবিবাহ আন্দোলনের উদ্যোক্তা পণ্ডিত বিদ্যাসাগরকে ব্যঙ্গ করে সেযুগের স্বভাবকবি ধীরাজ ‘বিদ্যাসাগরের বিদ্যে বোঝা গিয়েছে’ শিরোনামের প্রথম গানটি রচনা করেছিলেন, এবং কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন যে, অশ্লীল ও রুচিবিগর্হিত এই গানটি ধীরাজের কণ্ঠে শুনে স্বয়ং বিদ্যাসাগরও…

Read More

১৮ জুন ১৯৭১: কান্দাপাড়া, সাতগাঁও ও পাগলা দেওয়ান গণহত্যা

১৯৭১ সালের ১৮ জুন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা একাধিক হত্যাযজ্ঞ চালায়। বাগেরহাটের কান্দাপাড়া, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সাতগাঁও এবং জয়পুরহাটের পাগলা দেওয়ান সেদিনের তিনটি উল্লেখযোগ্য গণহত্যার স্থান। এসব হত্যাকাণ্ডে সাধারণ গ্রামবাসী, শিক্ষক, শিশু ও শরণার্থীসহ বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান। কান্দাপাড়া গণহত্যা, বাগেরহাট: ১৮ জুন ছিল শুক্রবার। দুপুরের দিকে কান্দাপাড়া ও আশপাশের…

Read More

১৭ জুন ১৯৭১: ঝালকাঠির জগদীশপুর গণহত্যা

১৯৭১ সালের ১৭ জুন ঝালকাঠির জগদীশপুরে সংঘটিত হয় মুক্তিযুদ্ধের এক নির্মম গণহত্যা। সেদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী স্থানীয় রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্যদের সহযোগিতায় জগদীশপুর, খাজুরা, রামপুর, মিরাখালি ও বেতরা গ্রামের বহু হিন্দু পরিবারকে হত্যা করে। মার্চের পর থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রাণ বাঁচানোর আশায় অনেক পরিবার…

Read More

চোরাবালি

ষড়ভূজদের কে না চেনে? বাঘা, চুনি, লাল্টু ,ভোকো, কেবো আর নোচো– এই ছয় বন্ধু মিলে বিচ্ছুদের দল ষড়ভূজ। শুরুতে অবশ্য দলটা ষড়ভুজ ছিল না, ছিল পঞ্চভূত। পাঁচজনেই পড়ত একই স্কুলের একই ক্লাসে। ফলে স্কুলতুতো বদমাইশিগুলো ভালোই চলত। কিছু পরে নোচো সেই দলে যোগ দেয়। সে তো নিজেই একটা মহা ওস্তাদ! যত রকম বাঁদরগিরি, উচ্চিংড়েপনা, উদ্ভট…

Read More

১৬ জুন ১৯৭১: বরিশালের বাগদা দাসপাড়া গণহত্যা

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ চালায়। আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগদা দাসপাড়া সেই ধরনের একটি আক্রমণের শিকার হয়। ১৬ জুন ১৯৭১ পাকিস্তানি বাহিনী স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় এ গ্রামে হামলা চালায়। হামলায় বহু মানুষ নিহত হন, ঘরবাড়ি লুট হয় এবং এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক…

Read More

১৫ জুন ১৯৭১: নোয়াখালীর শ্রীপুর গণহত্যা

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন চালায়। এসব ঘটনার কিছু জাতীয় ইতিহাসে স্থান পেয়েছে, আবার কিছু ঘটনা স্থানীয় স্মৃতির ভেতরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। নোয়াখালীর শ্রীপুর, সোনাপুর ও মধ্য করিমপুর এলাকায় ১৯৭১ সালের ১৫ জুন সংঘটিত গণহত্যা তেমনই একটি ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক দলিলপত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং স্থানীয় স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, সেদিন…

Read More

১৪ জুন ১৯৭১: আদিত্যপুর, বেশাইন খান ও ভদ্রঘাট ধামকোলে গণহত্যা

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ১৪ জুন ছিল এক বেদনাবিধুর দিন। এদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও দমন-পীড়নের নৃশংস অভিযান চালায়। সিলেটের আদিত্যপুর, ঝালকাঠির বেশাইন খান এবং সিরাজগঞ্জের ভদ্রঘাট ধামকোলে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ সেই নির্মমতারই সাক্ষ্য বহন করে। আদিত্যপুর গণহত্যা: ১৯৭১ সালের ১৪ জুন ভোররাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ২৫ থেকে ৩০ জন সদস্যের একটি…

Read More
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!