চুম্বন
কত লক্ষ চুম্বন পথে চলে যাচ্ছে হামা দিয়ে কত নষ্ট চুম্বন মিলেছে শহরের মুক্ত নাভিতটে…

কি ভাবে দেখা যায় নারীর ভালোবাসা যখন তখন অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে না, তাই হয়তো দুধ, গুড় ফুরিয়ে গেলেও মায়ের চোখে জ্বল – জ্বল করে ওঠে রোদ্দুর চোখ ধাঁধানো আলোয় মিলিয়ে যায় পুরুষের আদর কিন্তু অকস্মাৎ দেখলে মনে পড়ে মাঠ ভর্তি সোনালী ধান মনে পড়ে তার আলো ঝরা হাসি যা লেগে থাকে সদর দরজার গায়ে…
রাষ্ট্রবিদ ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়াভ লেনিনের রাষ্ট্রচিন্তা, দর্শন ও ভাবনার মাধ্যমে সাহিত্য সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নতুন একটি ধারা প্রবর্তিত হয়েছে। বিশেষ করে কার্ল মার্কসের সাথে লেনিনের ভাবনা মিলে সৃষ্টি হয়েছে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ। এই তাত্ত্বিক পথের সাথে সাহিত্য সংস্কৃতির অঙ্গন নতুন এক উদ্দীপনায় মার্কস ও লেনিনের আদর্শে প্রগতিশীল সমাজতান্ত্রিক ধারা সৃষ্টি করেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ উত্তর বিশ্বে নয়া সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র…
ভারতীয় বৈদিক সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গঙ্গাসাগরসঙ্গম বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাতীর্থ। অতি প্রাচীনকাল থেকেই অধ্যাত্ম পথের সাধক, মুনিঋষি ও সাধুসন্তরা গঙ্গার তটভূমিতে আশ্রয় নিয়ে নিজেদের পরম প্রাপ্তি লাভ করে চলেছেন। একারণে সুদূর অতীত থেকে গঙ্গার উভয় তীরে অগণিত মঠ, মন্দির, দেবালয়, তীর্থক্ষেত্র গড়ে উঠেছে। শাস্ত্র বলে যে, গঙ্গাতীরে যাগ-যজ্ঞ, শাস্ত্রপাঠ, দান, তপস্যা, জপ, শ্রাদ্ধকৃত্য, দেবতা পূজন…
যখন উপমহাদেশে নিষ্ঠুর ধর্ষণ হয় তখন মনে পড়ে ‘দ্রৌপদী’ গল্পের কথা। মহাশ্বেতা দেবী আজ একশো পূর্ণ করলেন। মহাশ্বেতা দেবী কেবল একজন কথাসাহিত্যিক নন, বরং একজন সমাজসচেতন বুদ্ধিজীবী ও সক্রিয় মানবাধিকারকর্মী। তাঁর লেখার কেন্দ্রে বারবার উঠে এসেছে ভারতের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী— বিশেষত আদিবাসী সমাজের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, শোষণ ও লাঞ্ছনার ইতিহাস। এই প্রেক্ষিতে আদিবাসী নারী তাঁর সাহিত্যে এক…
আবৃত্তি: রাষ্ট্রীয় অবহেলায় স্তব্ধ হতে চলেছে বাঙালির বাচনিক শিল্প! বাঙালি জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ তার ভাষা, আর সেই ভাষার শৈল্পিক ও মননশীল প্রকাশ সর্বোচ্চ রূপ লাভ করে আবৃত্তির মাধ্যমে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, “বলা সহজ, কিন্তু বলা শিখতে হয়”— এই চিরন্তন সত্যই বাচনিক শিল্পের সারকথা। অথচ পরিতাপের বিষয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তার নব-অনুমোদিত জনবল কাঠামোতে আবৃত্তি…
।। এক ।। স্বপ্নরেণু মুঠো ভর্তি ফুলরেণু রংবেরংয়ের আশা একদিন ভাষা পাবে ভেবে তুলে রাখি গোপনে সিন্দুকে পরম আদরে নিন্দুকে বলবে কত কথা তা ও জানি তবু কাঁথা কানি জড়িয়ে এসো বসি এখন এইবার শীতে আর কোথাও যাব না বেড়াতে অন্তরে তুমি গান ধরবে গুনগুন স্বরে মৌমাছিরা ছুটে আসবে ঘরে আদর করবে সবরেণু ঝরে পড়বে…
ঊনিশ শতকের বাংলায় বিধবাবিবাহ আন্দোলনের সময় থেকেই বাংলার জনচিত্ত যে প্রকৃত অর্থে আলোড়িত হয়ে উঠেছিল, একথা তখনকার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত জনমতের আধিক্য থেকেই বুঝতে পারা যায়। এপ্রসঙ্গে ১৮৫২ সালের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় সর্বপ্রথম একটি মজার চিঠি প্রকাশিত হয়েছিল বলে দেখা যায়। বিধবাবিবাহের বিষয়ে মতামত প্রকাশের অভিনবত্বের বিচারে এবং বর্তমানে রীতিমত দুষ্প্রাপ্য হওয়ার কারণে উক্ত চিঠিটির…
একটি রাষ্ট্র যখন ঘোষণা করে যে একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সম্মতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারে, তখন তা কেবল একটি আইনি ব্যাখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র নিজের নৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করে দেয়। এই অবস্থান নারীর সম্মতি, মর্যাদা ও নিরাপত্তাকে গৌণ করে তোলে, যা কোনোভাবেই একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।…
স্বাধীনতা কোনো বিমূর্ত রোমান্টিক ধারণা কিংবা কোনো অলৌকিক দান নয়; এটি মূলত এক যন্ত্রণাদায়ক দীর্ঘস্থায়ী জন্মপ্রক্রিয়া। এই সার্বভৌমত্বের ভিত্তিপ্রস্তর নির্মিত হয়েছে লক্ষ কোটি মানুষের চূর্ণ হাড় ও জমাটবদ্ধ মজ্জার ভস্মস্তূপে, কোটি মায়ের হৃদপিণ্ড নিংড়ানো হাহাকারে, দীর্ঘশ্বাস ও অবিনাশী সংগ্রামের রক্তিম প্রবাহে। একটি মানচিত্রের সার্বভৌমত্ব আসলে কেবল ভূখণ্ডের সীমানা নয়, বরং তা হাজার হাজার নামহীন আত্মার…
পয়লা-আষাঢ়। সকাল এগারোটা। দোতলা বাড়ির একটি ফাঁকা ঘর। জলপূর্ণ টাঙ্গন নদী। বিনীতা একা-একা ব্রিফকেস থেকে তার পরার জন্য নাইটি বের করছিল। বিনীতার বয়স তিরিশ বছর। বিবাহিতা। নবনীতা আস্তে-আস্তে ঘরের মধ্যে ঢুকল। বিনীতা তাকাল নবনীতার দিকে। নবনীতার পরণে হলুদ শাড়ি। কানে ঝুমকা নামক সোনার দুল। খুবই সুন্দর লাগছিল নবনীতাকে। বিনীতা জিজ্ঞেস করল,”নবনীতা, কিছু বলবি।” নবনীতার বয়স…
একজন প্রকৃত কবির চরিত্র কেমন হবে? তাঁর ব্যক্তিজীবন ও সৃজনজীবন কতটা সমন্বয়ী? একজন প্রকৃত কবির চরিত্র, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সুখ-দুঃখ এবং সৃষ্টির যন্ত্রণার সমীকরণটি অত্যন্ত জটিল। ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, মহান কবিদের জীবন সচরাচর মসৃণ বা তথাকথিত ‘সুখী’ হয় না। তাঁদের সংবেদনশীল মন ও সংসারের রূঢ় বাস্তবতার মধ্যে প্রায়শই এক ধরনের সংঘাত বা…
প্রাচীন ভারতের শাস্ত্রশাসিত সমাজে বেদপাঠে নারীর আদৌ কোন অধিকার ছিল কিনা, এবিষয়ে প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থগুলিতে, এবং এমনকি বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের প্রদত্ত তথ্যে প্রধানতঃ দুটি পরস্পরবিরোধী মত দেখতে পাওয়া যায়। এরমধ্যে একটি মতানুসারে প্রাচীন ভারতের নারীরা বেদের অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা বা বৈদিক যাগযজ্ঞের অনুষ্ঠান, সাবিত্রী মন্ত্র, প্রণব, যজুর্মন্ত্র প্রভৃতি উচ্চারণ করবার অনধিকারী ছিলেন। “সাবিত্রীং প্রণবং যজুলক্ষ্মীঃ স্ত্রীশূদ্রায়…