প্রাচ্য সংস্কৃতির বলিষ্ঠ উত্তরাধিকার হিসেবে বাংলার সংস্কৃতি অনন্য উজ্জ্বলতায় ভাস্বর। বাংলার সংকর সংস্কৃতির প্রধান প্রভাব বেদ, উপনিষদ, পুরাণ, গীতা, মহাভারত, রামায়ণ; পর্যায়ক্রমে বৌদ্ধ পালি সংস্কৃতি এবং মধ্যযুগে ইসলামী সুফিবাদ। শ্রীকৃষ্ণের ভক্তিবাদের ধর্মতত্ত্ব, বুদ্ধের জ্ঞানতত্ত্ব, মহানবীর (স.) সুফিবাদ-একেশ্বরবাদের মাধ্যমে বাঙালি ও বাংলা সংস্কৃতির আদি মৌলিক কাঠামো সৃষ্টি হয়েছে।
খ্রিস্টপূর্বে প্রেম ও ভক্তির মাধ্যমে মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার মহৎ বাণী শ্রীকৃষ্ণের মাধ্যমে বাহিত হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে তিনিই যুগপ্রবর্তক পরমসত্ত্বা এবং ভগবান। জ্ঞানে-কর্মে-রূপে সনাতন দর্শনের ভিত্তির প্রধান হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকে মনে করা হয়। ভগবান বিষ্ণুর অবতার, ভাদ্রপক্ষের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমীতে তাঁর আবির্ভাব ঘটে। তিনিই ভগবদগীতার প্রবর্তক। কৃষ্ণ শব্দের উৎপত্তি কৃষ এবং ণ থেকে, যার অর্থ সকল দিক থেকে আকর্ষণীয়।
তক্ষশিলা ছিল বিশ্ববিদ্যাতীর্থের প্রাচীন জ্ঞানভান্ডার। প্রাচীন বিশ্ব ভূমিতে তক্ষশিলার ঋষি পণ্ডিতগণ জ্ঞানের শিখা প্রজ্জ্বলিত করেছিলেন, সেই আলোর উজ্জ্বল আভা বর্তমান অবধি বাহিত হচ্ছে। সেই আলোর অনন্য রূপ শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর মাধ্যমে ধর্মদর্শন, বিদ্যা, সংস্কৃতির কলাবিদ্যা মহিমা সৃষ্টি করেছে। আদি ভারত ও বঙ্গশ্চ ভূমিতে যে সংস্কৃতি ও নীতিশাস্ত্র প্রাচীন কাল থেকে বিস্তৃত হয়েছে, তার মৌলিক দ্রষ্টা শ্রীকৃষ্ণকে মনে করা হয়।
মহামুনি কৃষ্ণ-দ্বৈপায়ন (ব্যাসদেব) কর্তৃক প্রণীত গ্রন্থসমূহে বিশ্ব দর্শন ও সংস্কৃতির আদিপর্বের উজ্জ্বল ঐতিহ্য উপস্থাপিত হয়েছে। আদি প্রাচ্য ভূমি থেকে দর্শন, সংস্কৃতি বিশ্বের সর্বত্র বাহিত হয়েছে। তক্ষশিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানভাণ্ডারের উত্তরাধিকার ইন্দো-ইউরোপীয় ভূঅঞ্চলের সকল জনজাতির মধ্যে পরিলক্ষিত হয়।
বিশ্ব সংস্কৃতির আদিভিত্তি নটরাজ, তাঁরই প্রতিরূপ শ্রীকৃষ্ণ; অর্থাৎ বিশ্ব সংস্কৃতির প্রাচ্য ভিত্তির নির্মাতা শ্রীকৃষ্ণ। সঙ্গত কারণে শ্রীকৃষ্ণ সর্বমানবের বিশ্বসংস্কৃতি গড়ে তুলেছিলেন। ভূমি বিষয়ক পুরাণের ঐতিহ্যে বঙ্গশ্চ অঞ্চলে তাঁর প্রভাব ভক্তিবাদে পরিগ্রহ করেছে। শ্রীকৃষ্ণের ভক্তিবাদ বিশ্ব সংস্কৃতিতে শক্তিশালীরূপে বিদ্যমান।
“উদারাঃ সর্ব এবৈতে জ্ঞানী তৃবাত্মৈব মে মতম্।” শ্রীকৃষ্ণই বলেন, ‘জ্ঞানী ভক্তই শ্রেষ্ঠ।’… ‘জ্ঞানী আমার আত্মস্বরূপ।’ সত্যি এক বিস্ময়কর শ্রীকৃষ্ণের বাণী, যা অসীম বিশ্বে শান্তি সৃষ্টি করতে সহায়ক হতে পারে।
শাস্ত্রীয় ও জ্যোতিষ গণনার ভিত্তিতে কৃষ্ণের জন্ম ৩২০০ খ্রি.পূ. বলে পণ্ডিতগণ মনে করেন। Search of the Historical KRiSHNA (Sept. 4, 1999) গ্রন্থে Prof. N. S. Rajaram বলেন, ‘We have therefore overhelming evidence showing that Krishna was a historical figure who must have lived within a century on the other side of that date I.e, in the 3200-3000 BC period.’
তবে এই মতামত সর্বগ্রাহ্য তা বলা যাবে না। ভারতীয় বিজ্ঞানী পি. ভি. বারটেক তাঁর বক্তব্য এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন।মেগাস্থিনিস তাঁর ‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থে ভারত ভ্রমণের সময় জামুনা (যমুনা) নদীর ধারে মেথোরা (মথুরা) নগরের শূরসেনীয়দের কাছ থেকে উপহারের কথা লিখেছেন। মেগাস্থিনিসের মতে, শূরসেনীয়রা ‘হেরাকলস’ নামে এক দেবতার আরাধনা করতেন। যাঁর জন্ম চন্দ্রগুপ্তের ১৩৮ প্রজন্ম পূর্বে এবং তিনি অতি মহান ছিলেন। এই হেরাকলসই শ্রীকৃষ্ণ, হরিকৃষ্ণ। এই দৃষ্টান্তে তিনি মনে করেন, কৃষ্ণের আবির্ভাব ৫৬০০-৩১০০ খ্রি.পূ. হয়েছিল।
প্রত্যেক ধর্মে উল্লেখ আছে, যুগে যুগে মানব সমাজের পরিত্রাণের জন্য স্রষ্টার প্রতিনিধির আগমন ঘটে। সেই বাণী পাই:
‘ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।’ অর্থাৎ ধর্ম সংস্থাপনের জন্য ভগবান যুগে যুগে অবতীর্ণ হন। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল বিশ্ববাসীর কল্যাণে এবং সময়কাল নির্ণীত হয়েছে দ্বাপরযুগে। কৃষ্ণ শব্দের অর্থ আনন্দ। তাঁর প্রদত্ত বাণী নীতিশাস্ত্রের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। সকলের জীবন আনন্দময় শান্তিপূর্ণ হোক।
আদিগ্রন্থ ‘মহাভারত’ প্রণেতা মহাঋষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব শ্রীকৃষ্ণকে কালজয়ী করে উপস্থাপন করেছেন। মহাভারতের ষষ্ঠপর্বের ভীষ্মপর্বে কৃষ্ণের উপদেশ আঠারোটি অধ্যায়ে ‘ভগবদগীতা’ নামে সন্নিবেশিত হয়েছে। গীতা ৭০০ শ্লোকের ধর্মগ্রন্থ, যা নীতিবাদ নামে অভিহিত করা হয়। গীতা উপনিষদের সারাংশ, গীতোপনিষদ, যা বৈদান্তিক সাহিত্যের অন্তর্গত।
মহাঋষি ব্যাসদেব প্রণীত ‘মহাভারতে’ শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র বাণী ‘ভগবদগীতা’ সন্নিবেশিত হয়েছে। ‘মহাভারতের’ দশম অধ্যায়ে অর্জুনের উদ্ধৃতিতে শ্রীকৃষ্ণকে পাওয়া যায়:
‘পরং ব্রহ্ম পরং ধাম পবিত্রং পরমং ভবান্।
পুরুষং শাশ্বতং দিব্যমাদিদেবমজং বিভুম্।।
অহস্ত্বামৃষয়ঃ সর্ব্বে দেবর্ষিনারদস্তথা।’
যার অর্থ, ‘তুমিই পরব্রহ্ম, পরম ধাম, এবং পরম পবিত্র। তুমিই শাশ্বত সত্য এবং অনন্ত দিব্য, আদি দেব। তুমি অজ এবং সমস্ত সৌন্দর্যের উৎস।’ এই বর্ণনাই শ্রীকৃষ্ণ।
(তথ্য: শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা যথাযথ)
গীতায় ঈশ্বর, জীব, প্রকৃতি, কর্ম, অনন্তকালের ব্যাখ্যা উল্লেখিত আছে। স্রষ্টাই সকল চেতনার উৎস, স্রষ্টার প্রকাশ জীব ও জড়ে, উভয়ই প্রকৃতি। গীতায় সেবার কথা বলা হয়েছে।
‘এতন্নিব্বির্দ্যমানানাং ইচ্ছতামকুতোভয়ম্।
যোগিনাং নমপ নির্নীতং হরের্নামানুকীর্ত্তনম্।’
অপরকে সুখী করবার জন্য স্বার্থত্যাগের উপদেশ গীতায় লিপিবদ্ধ হয়েছে।
ঈশ্বরের রূপ, প্রকৃতি, বিধান, ভক্তির বর্ণনায় ‘গীতা’ একটি মহামূল্যবান গ্রন্থ।
‘ব্রহ্মসংহিতাতে বলা হয়েছে যে শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন আদিপুরুষ। তাঁর থেকে মহত্তর আর কেউ নেই, তিনি সর্ব্বকারণের পরম কারণ।’ (ঐ)
শ্রীকৃষ্ণের ভাবনায় আদি দর্শনশাস্ত্র গীতার বিভিন্ন শ্লোকে উল্লেখিত আছে। যার বিশদ ব্যাখ্যা স্বল্প পরিসরে সম্ভব নয়।
শ্রীকৃষ্ণের প্রভাব ভারতবর্ষের সর্বত্র, এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপ্তি প্রসার লাভ করেছে। সাহিত্য সংস্কৃতির লোকজ উপাদানে কৃষ্ণের ভাবাদর্শ সমাজে প্রতিফলিত হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রথা রীতির পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি, ভক্তির বাণীতে কৃষ্ণ-দর্শন ভক্তিবাদে পরিণত হয়েছে।
‘রাজ-শাসনে বিষ্ণু-কৃষ্ণের বন্দনা আসাম-বাঙ্গালার বর্ম রাজাদের সময় হইতে মিলিতেছে। কামরূপের বনমালবর্মের শাসনে (নবম শতাব্দীর মধ্যভাগ) কৃষ্ণলীলার উল্লেখ আছে। সমতটের ভোজবর্মের শাসনেও ব্রজলীলার স্পষ্ট ইঙ্গিত আছে।
সোহপীহ গোপীশতকেলিকারঃ
কৃষ্ণে মহাভারতসূত্রধারঃ।
অর্ঘঃ পুমানংশকৃতাবতারঃ
প্রাদুর্বভুবোদ্ধৃতভূমিকারঃ।।
সেই গোপীশতকেলিকার, মহাভারতনাট্যের সূত্রধার, (পরমপুরুষ) কৃষ্ণ এখানে ভূমিভারোদ্ধারকারী অংশাবতার রূপে প্রাদুর্ভূত হইয়াছিলেন।’
(সূত্র: বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস—সুকুমার সেন)
সংস্কৃত সাহিত্যের মৌলিক কবি জয়দেব লৌকিক গীতিকবিতাকে সংস্কৃতে মিশিয়ে রাধা-কৃষ্ণ পদাবলী সৃষ্টি করেন। কবি জয়দেবের সৃষ্টিশীলতার প্রভাব বাংলা, উড়িষ্যাসহ ভারতের সাহিত্যে শক্তিশালীরূপে বিদ্যমান আছে। তাঁর রচিত ‘গীতগোবিন্দ’ অমূল্য সাহিত্য সম্ভার। যার কাহিনী রাধা, কৃষ্ণের বন্দনার মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে।
দ্বাদশ শতকের শেষে মুসলিম তুর্কীদের পূর্বভারতে আগমন ঘটে। শক্তিমত্তার দ্বারা তাঁরা রাজ্য দখল করে সাম্রাজ্য বিস্তার করতে থাকে। তখনকার জনগোষ্ঠীরা বিভিন্ন ধর্মমতে অর্থাৎ বৈদিক, বৌদ্ধ, শৈব, পৌরাণিক ব্রাহ্মণ্যে, লোকজ ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন। তুর্কীদের আগমনের ফলে রাষ্ট্র সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হয়। মুসলমানদের প্রভাবে সনাতন ধর্মের নিম্নবর্গের মানুষ ধর্মান্তরিত হতে থাকে। সেই সময় আবির্ভাব ঘটে শ্রীচৈতন্যের।
ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ১২০০ থেকে ১৪৫০ সাল পর্যন্ত সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়নি। তবে জনপদে লোকজ ছড়া, কৃষ্ণলীলা, রামায়ণ-মহাভারত কাহিনী, চণ্ডী, মনসার উপাখ্যান বিভিন্ন উৎসবে গীত হতো। দেবপূজা হতো মন্দিরে। ধর্মমন্দিরকে কেন্দ্র করে ধ্রুপদী রীতির সাথে মিলেমিশে লোক সংস্কৃতি শক্তিশালীরূপে বাহিত হয়েছে। শ্রীচৈতন্য ১৪০৭ শকাব্দের (১৪৮৬ অব্দে) ফাল্গুন মাসে পূর্ণিমা সন্ধ্যায় নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন। দেহকান্তির জন্য তাঁকে গোরা, গৌরাঙ্গ বলে অভিহিত করা হয়। শ্রীচৈতন্যের মাধ্যমে ‘কৃষ্ণভক্তি’ ব্যাপক রূপে প্রাধান্য লাভ করে। তিনি ভক্তদের বলতেন,
‘তাঁহার কাছে সব মানুষ সব জীব সর্বদা সমান, যেহেতু সকলের প্রাণে কৃষ্ণ অধিষ্ঠিত। কৃষ্ণ জগতের পিতা, সকল জীব তাঁহার পুত্র, অংশাধিকারী। তাই তিনি বলিতেন,
জগতের পিতা কৃষ্ণ যে না ভজে বাপ
পিতৃদ্রোহী পাতকের জন্ম জন্ম তাপ।’ (ঐ)
চৈতন্যের রচিত (শিক্ষাষ্টক) আটটি শ্লোকের একটি,
ন ধনং ন জনং ন সুন্দরীং কবিতাং বা জগদীশ কাময়ে।
মম জন্মনি জন্মনীশ্বরে ভবতাদ্ ভক্তির হৈতুকী ত্বয়ি।।
‘হে জগতের ঈশ্বর, আমি তোমার কাছে কিছু চাহি না—না ধন না জন না সুন্দরী নারী না কবিপ্রতিভা। আমার জন্মে জন্মে ঈশ্বরের প্রতি নিষ্কাম ভক্তি থাকুক।’ (ঐ)
ভারতের প্রাচীন শাস্ত্রগ্রন্থ এবং লোকবাহিত আচার ও সমাজ ব্যবস্থায় শ্রীকৃষ্ণের বন্দনা সাহিত্য সংস্কৃতিতে বিশেষ স্থান অধিকার করেছে। মহাভারতের কৃষ্ণের রাষ্ট্র দর্শন, রাজ্য পরিচালনায় নীতিবাদ, বেদান্ত দর্শন যেন অভূতপূর্ব মানবিক দর্শনে পরিণতি লাভ করেছে। শ্রীকৃষ্ণের ভক্তিপ্রেম, ভালোবাসার কাহিনী-উপাখ্যানে জনজীবনে শান্তির পথরেখা সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের রূপ নিয়ে উড়িশ্যায় জগন্নাথ, মহারাষ্ট্রে বিঠোবা, রাজস্থানে শ্রীনাথজি নামে ভক্তিসংস্কৃতি উদ্ভব ঘটেছে। শ্রীকৃষ্ণের সর্বাধিক প্রচলিত নাম গোবিন্দ ও গোপাল। আদি ভারতবর্ষের বংশীবাদক, সংস্কৃতি ও দর্শনের পথ-প্রদর্শক শ্রীকৃষ্ণ। তাঁকে কেন্দ্র করে অসংখ্য ভক্তিগীতি, গীতিনাট্য, সংগীত, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি রচিত হয়েছে। নৃত্যশিল্পের ক্ষেত্রেও বিশেষ ধ্রুপদী রীতির উদ্ভব শ্রীকৃষ্ণকে আবর্তন করেই। এছাড়াও শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে বিভিন্ন ভাস্কর্য, মূর্তি নির্মিত হয়েছে। বিশেষ করে শিল্পীরা কৃষ্ণের সাথে রাধার ভাস্কর্য তৈরি করেছেন। শিল্পীরা বিবিধ রূপ-রঙে কৃষ্ণ, রাধা-কৃষ্ণের ছবি এঁকেছেন। ভক্তিপ্রেমের শ্রীকৃষ্ণ ভারতের শিল্পকলাকে সমৃদ্ধ করেছে।
শ্রীকৃষ্ণের ভাবাদর্শে প্রেম ও ভক্তির চিরন্তন মহিমা বিশ্ব মানবিকতাকে জাগ্রত করে। সকল ধর্মের সাথে শান্তি ও সেবার মহিমার সাযুজ্য লক্ষ্য করা যায়। শ্রীকৃষ্ণের দার্শনিক অভিব্যক্তি সমকালেও অপরিহার্য।
১. ‘অন্ধকারময় সময় হল জীবনে সঠিক আশার আলোর পথ প্রদর্শক।’
২. সততার সাথে কর্ম করতে জীবনে বহু বাধা সম্মুখীন হতে হবে, ধৈর্য থাকলে অবশেষে গর্বের সাথে জয় তোমারই হবে।
৩. যা হয়েছে জগতের ভালোর জন্য হয়েছে, যা হচ্ছে জগতের ভালোর জন্য হচ্ছে। যা হবে তা জগতের ভালোর জন্য হবে।
৪. সময় হল সর্বশক্তিমান, তাই কখন সময় নষ্ট করো না।
৫. সফল ব্যক্তি কেবলমাত্র তিনি হতে পারেন, যিনি প্রতিকূলতার কাছে কোন পরিস্থিতিতে পরাজয় শিকার করেননি।




