১৫ মে ১৯৭১: বরিশালে কেতনার বিল ও পাথরঘাটা গণহত্যা

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১৫ মে এক বিভীষিকাময় দিন। এদিন বরিশালের কেতনার বিল ও পাথরঘাটাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে অসংখ্য নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। বরগুনার পাথরঘাটা, বরিশালের কেতনার বিল, রাঙামাটি ও ঠাকুরগাঁওয়ে সংঘটিত হয় ভয়াবহ গণহত্যা। এই হত্যাযজ্ঞ ছিল একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টার অংশ।

কেতনার বিল গণহত্যা:
১৫ মে বরিশালের গৌরনদীর হরহর মৌজায় পাকিস্তানি বাহিনী প্রবেশ করে। হানাদারদের আগমনের খবর পেয়ে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ প্রাণভয়ে কেতনার বিলে ঝোপঝাড়ে আশ্রয় নেয়। বেলা প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে পাকসেনারা সেখানে পৌঁছে মেশিনগান দিয়ে ব্রাশফায়ার শুরু করে, মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে মৃত্যু ও আতঙ্ক। মোট আটটি গ্রামে এ নির্মম হত্যাযজ্ঞে দুই হাজারেরও বেশি নিরীহ মানুষ শহীদ হন।

নির্বিচার গুলিবর্ষণে কেতনার বিলের চারপাশ লাশে ভরে যায়। বহু লাশ পরে শিয়াল-কুকুরে ছিঁড়ে খায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের উদ্যোগে কিছু মরদেহ গণকবর দেওয়া হলেও অসংখ্য মরদেহ বিলের পানিতেই তলিয়ে যায়।

এই গণহত্যার অন্যতম করুণ ও স্মরণীয় অধ্যায় জড়িয়ে আছে লক্ষণ দাস ও তার সার্কাসের সঙ্গে। ব্রিটিশ আমল থেকে পরিচিত কুস্তিগির, ভারোত্তোলক ও জাদুকর লক্ষণ দাস ছিলেন দক্ষিণবঙ্গের এক অনন্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। ১৯৪৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “রয়েল পাকিস্তান সার্কাস”। তার সার্কাসের প্রধান আকর্ষণ ছিল বিশাল হাতি মধুবালা, যে ছিল তার প্রিয় সঙ্গী ও শিল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মধুবালা ছিল সার্কাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় পারফরমার। কপালে লাল সিঁদুর, গলায় ঘণ্টির টুংটাং শব্দ আর শান্ত দৃষ্টিতে সে দর্শকদের মুগ্ধ করত। লক্ষণ দাসের সার্কাসে দাঁত দিয়ে রড বাঁকানো, ভারোত্তোলন, ত্রিশূল ভেদসহ নানা কসরত প্রদর্শিত হতো, যা দক্ষিণবঙ্গজুড়ে তাকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় লক্ষণ দাস গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করতেন। সার্কাসের দল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার ছদ্মবেশে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও চলাচলে সহায়তা করতেন। এই খবর পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে পৌঁছালে তাকে “রাষ্ট্রবিরোধী” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণের আশঙ্কায় লক্ষণ দাস তার পরিবার নিয়ে কেতনার বিলে আশ্রয় নেন। তাঁর প্রিয় সার্কাসের সরঞ্জাম, তাঁবু এবং প্রাণীগুলো তখন পেছনে পড়ে থাকে। পরবর্তীতে সেনারা সার্কাসের সবকিছু পুড়িয়ে দেয় এবং প্রাণীগুলোকে গুলি করে হত্যা করে।

কিছুদিন পর কোদালধোওয়া গ্রামের দিকে পালানোর সময় পাকিস্তানি বাহিনী কেতনার বিল ঘিরে ফেলে। নৌকা দেখে শুরু হয় নির্বিচার গুলিবর্ষণ। পরিবার নিয়ে পানিতে ঝাঁপ দেন লক্ষণ দাস। তাঁর দুই ছেলে অরুণ ও বীরেন সাঁতরে বাঁচলেও লক্ষণ দাস গুলিবিদ্ধ হয়ে পানিতে তলিয়ে যান এবং এভাবেই শহীদ হন তিনি।

লোকমুখে প্রচলিত এক করুণ কিংবদন্তি অনুযায়ী, প্রাণ বাঁচাতে যখন তাঁরা পালাচ্ছিলেন, তখন সার্কাসের প্রিয় হাতি মধুবালা নিজের শরীর দিয়ে মালিককে আড়াল করার চেষ্টা করে। গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে গেলেও নাকি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সে লক্ষণ দাসকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। এ গল্প আজও গৌরনদী অঞ্চলে এক আবেগঘন লোককথা হিসেবে বেঁচে আছে।

কেতনার বিলের প্রত্যক্ষদর্শী জগদীশ পাত্রসহ স্থানীয়দের বর্ণনায় জানা যায়, সেদিন পুরো এলাকা মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। শত শত পরিবার একসঙ্গে প্রাণ হারায়। কেষ্ট পাত্রের বাড়িতেও শিশু সহ ১৯ জন মানুষকে হত্যা করে পাকিস্তানী সেনারা। পরে বিভিন্ন গর্ত খুঁড়ে লাশ মাটি চাপা দেওয়া হয়।

এ ঘটনার আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী রাজেন্দ্রনাথ পাত্রের বর্ণনায়, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয় লোকজন ঢাল-শুড়কি নিয়ে বাকাই গ্রামে পাকিস্তানি হানাদারের চার সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ে গৌরনদী কলেজের পাকিস্তানি শিবিরে। পরে হানাদার বাহিনী স্থানীয় আলবদর ও রাজাকারদের সহযোগিতায় বাকাল গ্রামে এসে ব্রাশফায়ার শুরু করে।

পাকিস্তানি সেনাদের ভয়ে চাঁদশী, রাংতা, রাজিহার, চেঙ্গুটিয়া, টরকী, কান্দিরপাড়সহ আটটি গ্রামের মানুষ কেতনার বিলের ধান ও পাটখেতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু পাকিস্তানি সৈন্যরা সেখানে লুকিয়ে থাকা গ্রামবাসীদের ওপর ব্রাশফায়ার চালিয়ে অন্তত দেড় সহস্রাধিক মানুষকে শহীদ করে। হিন্দুপাড়ায় আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় সব বাড়িঘর।

কেতনার বিল দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে ভয়াবহ বধ্যভূমিগুলোর একটি, যেখানে হাজার হাজার নিরীহ মানুষের সঙ্গে হারিয়ে গেছে একটি সার্কাস, একটি সংস্কৃতি এবং লক্ষণ দাস ও মধুবালার মতো অসাধারণ এক সম্পর্কের করুণ ইতিহাস।

রাঙামাটি গণহত্যা:
১৫ মে রাঙামাটি শহরের প্রবেশমুখে অবস্থিত মানিকছড়ির একটি পাহাড়ে একজন বাকপ্রতিবন্ধী যুবকসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করে হানাদারেরা।

এছাড়াও ৫ মে রাঙামাটির জেলা প্রশাসকের বাংলোর পাশে কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে ‘আদার পাহাড়’-এ বেশ কয়েকজন মানুষকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল হানাদারেরা।

পাথরঘাটা গণহত্যা:
১৪ মে পাকিস্তানী হানাদারেরা বরগুনা শহর দখল করে। এরপর ১৫ মে তারা পাথরঘাটায় অনুপ্রবেশ করে চরদোয়ানি, কালমেঘা, কাকচিড়া, বাদুরতলাসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে অভিযান চালায়। পাথরঘাটায় স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রধান ব্যক্তি অর্থের উদ্দিন পাকহানাদারদের হত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞে সর্বপ্রকার সহযোগিতা করে।

পাকিস্তানি বাহিনী ডহরপুর, বাদুরতলা ও কোনালিয়া গ্রামে তাণ্ডবলীলা চালিয়ে সেখান থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১১ জনকে আটক করে বিষখালী নদীর পাড়ে পাথরঘাটা লঞ্চঘাটে নিয়ে আসে। একই সময় পাথরঘাটার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লক্ষণ দাস, তার ছেলে কৃষ্ণ দাস, অরুণ দাস ও স্বপন দাসসহ আরও কয়েকশো নিরীহ মানুষকে আটক করা হয়।

পরে বিষখালী নদীর তীরে লঞ্চঘাট এলাকায় সবাইকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করা হয়। এ নির্মম হত্যাযজ্ঞে ১০ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন এবং আরও কয়েকশো মানুষকে গুলি করে হত্যা করে লাশ বিষখালী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এদিন বিষখালী নদীর পানি রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল; নদীটির জল যেন রক্তের স্রোত হয়ে ধাবিত হয়।

এই গণহত্যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পটুয়াখালী জেলা সামরিক আইন প্রশাসক মেজর নাদের পারভেজ। তার নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পাথরঘাটায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে।

এ সময় গণেশ সাহা নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বেঁচে যান।

পাথরঘাটা গণহত্যায় পিতা-পুত্র ও সহোদরসহ নিহতদের মধ্যে ছিলেন লক্ষমণ দাস (পিতা: আমুকি দাস), অরুণ দাস (পিতা: লক্ষণ দাস), দিলীপ কুমার সাহা (পিতা: মহাদেব সাহা), চিত্ররঞ্জন মাস্টার (পিতা: কৃষ্ণকান্ত হালদার), উত্তরপুরের যাদব চন্দ্র গাইন (পিতা: পূর্ণচন্দ্র গাইন), কেশব গাইন (পিতা: পূর্ণচন্দ্র গাইন), বিশ্বেশ্বর শিকদার (পিতা: কালু শিকদার), প্রহ্লাদ মিস্ত্রী এবং দেবনাথ বেপারী (পিতা: নন্দন কুমার বেপারী, খাড়িটানা)।

গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর এখানে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। তবে দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত এখানে কোনো পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ঠাকুরগাঁও গণহত্যা:
১৫ মে ঠাকুরগাঁওয়ের ফারাবাড়িতে শেখ শহর আলীর ছেলে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার অপরাধে শেখ শহর আলী, তার ভাই শেখ বহর আলীসহ ১৯ গ্রামবাসীকে বাড়ি থেকে ক্যাম্পে তুলে নিয়ে যায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। এরপর তাদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। ভয়ংকর নির্যাতনের পর সবাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

১৯৭১ সালের ১৫ মে (১৩৭৮ সনের পহেলা জ্যৈষ্ঠ) বেলা আনুমানিক আড়াইটায় পাকিস্তানি সৈন্য ও তাদের দোসররা নদী পার হয়ে ফাড়াবাড়ি গ্রাম ঘেরাও করে। দোসরদের মধ্যে অনেকেই ছিল অবাঙালি। তারা গ্রামে প্রবেশ করে খুঁজে খুঁজে ১৮ জনকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসে। এদের মধ্যে সহর আলীও ছিলেন।

১৮ জনকে হাত বেঁধে গ্রামের উত্তর-পূর্ব কোণের একটি কুয়ার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অধিনায়ক জানায়, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার কারণে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো। এরপরই অসহায় মানুষগুলোর ওপর গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ কয়েকজন আহত অবস্থায় পানি চাইছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানি সৈন্যরা তাদের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে লাশগুলো কুয়ার মধ্যে ফেলে দেয়। এ সময় তারা বিদ্রূপ করে বলে, ‘এখন তোরা কুয়ার পানি পান কর।’

পরে কুয়ার একাংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয় এবং গ্রামবাসীদের হুমকি দেওয়া হয়, কেউ যেন লাশ তুলে দাফনের চেষ্টা না করে। তাদের বলা হয়, মৃত ব্যক্তিরা পাকিস্তান ও ইসলামের শত্রু, তাই তাদের দাফনের অধিকার নেই।

এই গণহত্যার পর ফাড়াবাড়ির অধিকাংশ মানুষ গ্রাম ত্যাগ করেন এবং অনেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন। সেদিন কুয়ার মধ্যে ফেলে দেওয়া ১৮ জনের মধ্যে যাঁদের নাম সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে, তারা হলেন— শহীদ সহর আলী, শহীদ মো. বহর আলী (শহীদ সহর আলীর ছোট ভাই), শহীদ মো. আফতাব হোসেন (ঠিকানা: কালিবাড়ি), শহীদ মো. আলতাফ হোসেন (ঠিকানা: কালিবাড়ি), শহীদ মো. মোক্তার হোসেন (ঠিকানা: কালিবাড়ি)।

সহর আলীকে যখন কুয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তিনি মাথার টুপি ও হাতের তসবিটি গ্রামের এক ব্যক্তির হাতে দিয়ে তাঁর স্ত্রীকে দিতে বলেন, যেন তাঁর স্ত্রী বুঝতে পারেন যে তিনি আর জীবিত নেই। কিছুদিন পরে গ্রামবাসীরা কুয়াটি ভরাট করে গণকবর হিসেবে চিহ্নিত করেন। প্রথমদিকে বাঁশের বেড়া দিয়ে স্থানটি ঘিরে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীকালে শহীদদের আত্মীয়স্বজন কুয়ার ওপর ইট ও সিমেন্ট দিয়ে কবরের মতো করে বাঁধিয়ে দেন।

প্রতি বছর ১৫ মে শহীদদের আত্মীয়স্বজন কুয়ার পাশে গিয়ে জিয়ারত করেন, মিলাদ পড়ান এবং দোয়াদরুদ পাঠ করেন। সেখানে একটি বাঁধানো স্মারক নির্মাণ করা হলেও শহীদদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। বর্তমান প্রজন্মকে এই গণহত্যা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে সেখানে শহীদদের নাম ও গণহত্যার বিবরণ লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন।

ঐ একই দিনে ঠাকুরগাঁওয়ের রামনাথ হাটে ৬ জন নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে হানাদার বাহিনী।

১৯৭১ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানার রামনাথ হাটের কানিকশালগাঁ গ্রামের নূরুল ইসলামের পরিবারের ছয়জনকে ধরে নিয়ে এসে হত্যা করা হয়। ছয় শহীদ হলেন, রফিকুল ইসলাম (আবুল), আজিম উদ্দিন আহমেদ, আজিম উদ্দিন আহমেদের নাতি মো. বেলাল (বেলু), তাঁর ছোট ভাই মো. জালাল, মো. রেজাউল ও দেলোয়ার।

১৫ মে ১৯৭১-এর এই রক্তাক্ত ঘটনাগুলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। পাথরঘাটা, কেতনার বিল, রাঙামাটি ও ঠাকুরগাঁওয়ের এই গণহত্যাগুলো শুধু বর্বরতার দলিল নয়, বরং স্বাধীনতার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগেরও এক মর্মন্তুদ স্মারক। শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং এই গণহত্যার ইতিহাস লিপিবদ্ধ ও স্মরণে রাখা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।#

তথ্যসূত্র:
১। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, অষ্টম, নবম, দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ খণ্ড।
২। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: সেক্টরভিত্তিক ইতিহাস সেক্টর ১, ৩, ৫, ৬, ৯ ও ১১তম খণ্ড।
৩। সংগ্রামের নোটবুক।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on print
Print
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!