রাষ্ট্রবিদ ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়াভ লেনিনের রাষ্ট্রচিন্তা, দর্শন ও ভাবনার মাধ্যমে সাহিত্য সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নতুন একটি ধারা প্রবর্তিত হয়েছে। বিশেষ করে কার্ল মার্কসের সাথে লেনিনের ভাবনা মিলে সৃষ্টি হয়েছে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ। এই তাত্ত্বিক পথের সাথে সাহিত্য সংস্কৃতির অঙ্গন নতুন এক উদ্দীপনায় মার্কস ও লেনিনের আদর্শে প্রগতিশীল সমাজতান্ত্রিক ধারা সৃষ্টি করেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ উত্তর বিশ্বে নয়া সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন সৃষ্টির ফলে বিশ্বের সকল দেশের মধ্যে কৌতূহল ও আগ্রহের মাত্রা অধিকতর বেড়ে যায়। সাহিত্য সংস্কৃতির অঙ্গনের লেখক শিল্পীরাও অনিবার্যভাবে বিষয়টি অনুধাবনের চেষ্টা করতে থাকে।এই পরিবর্তন ছিল বুর্জোয়া ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অবসানের মধ্য দিয়ে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের উদ্ভব। বিশ্বের চিন্তাবিদরা নতুনভাবে মার্কস-এঙ্গেলসের তত্ত্ব নিয়ে এবং নতুন রাষ্ট্রের প্রধান লেনিনের চিন্তা আদর্শকে বোঝার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমজীবী মানুষ ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে পুঁজিবাদী সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোর নিষ্পেষণ নৃশংসতার বিরুদ্ধে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল একটি অনিশ্চিত বিশ্ব সৃষ্টি করে। বিশ্বের প্রত্যেক দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে বৈষম্য, অসম বাজার পরিস্থিতির ফলে উদ্ভূত হতে থাকে সীমাহীন শোষণ, অত্যাচার ও নৃশংসতা। শ্রমজীবী মানুষেরা জীবন রক্ষার তাগিদে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠতে থাকে। সমাজের দ্বান্দ্বিক প্রকাশের ফলশ্রুতিতে সমাজ কাঠামো যেমন বদলে যাবে, ঠিক তেমনি পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের সাথে অপরাপর রাষ্ট্রের বিরোধ উচ্চমাত্রায় বৃদ্ধি পাবে। সমাজ ও রাষ্ট্রের দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতিতে লেখক শিল্পীর দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হতে থাকে। ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সুকৌশলে শোষণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। সেই শোষণের বিরূদ্ধে শ্রমজীবী মানুষের তথা শ্রমিক শ্রেণীর লড়াই সংগ্রামকে সমাজ সচেতনতায় শ্রেণি দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপনের বিশ্বব্যাপী ধারা সৃষ্টি হয়েছে তাই প্রগতিশীল ধারা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। রাজনৈতিক মতবাদের সাথে শিল্পের শৈল্পিক গুণাবলির উৎকর্ষ দিয়ে সৌন্দর্য সৃষ্টি করতে হবে। লেনিনের ভাবনার সাথে মার্কস এঙ্গেলসের চিন্তাদর্শনের সাযুজ্য ঐতিহাসিক পথকে অপরিহার্য করে তুলেছে।
ঐতিহাসিক অক্টোবর বিপ্লবের পর ১৯১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি The Third Congress Of Soviet সম্মিলনে তিনি যে বক্তৃতা দেন, তা একালেও গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়। ‘ the third congress of Soviets has opened a new epoch in world history and there is growing awareness of its significance in these times of world revolution. It has consolidated the organisation of the new state power which was created by the October Revolution and has projected the lines of future socialist constitution for whole world, for the working people of all countries. ( pg. 479, Lenin Collected works 26. Progress publishers, Moscow 1964.) এই বক্তব্যের পদক্ষেপ বিশ্বে নয়া সমাজতন্ত্রবাদকে প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়ে ওঠে।
সাহিত্য সংস্কৃতির ইতিহাসের সমাজতান্ত্রিক দর্শনের প্রভাব ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। কবিতা, সংগীত, নাটক, উপন্যাস, চলচ্চিত্রেও নতুন জোয়ারে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিখ্যাত লেখক ম্যাক্সিম গোর্কি লেনিনের স্মরণ সভার বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ‘এই দুনিয়ার মানুষের মতো মানুষ ভ্লাদিমির লেনিন চলে গেছেন। যাঁরা তাঁকে জানতেন তাঁদের উপর বেদনাদায়ক আঘাত হয়ে এসেছে এই মৃত্যু – অতি বেদনাদায়ক এ আঘাত!
কিন্তু মৃত্যুর কালো রেখাটা তাঁর গুরুত্বটিকে – পৃথিবীর মেহনতী মানুষের এই নেতার গুরুত্বটিকে সারা পৃথিবীর দৃৃষ্টিতে আরও বিশিষ্ট করেই তুলবে।’ (spbm.org)
বাংলা সাহিত্যের যুগান্তকারী ইতিহাসে লেনিনের আদর্শ নানাভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম, বিষ্ণু দে, অরুণ মিত্র, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, দিনেশ দাস, বীরেন্দ্র চট্র্যোপাধ্যায়, সুকান্ত ভট্টাচার্য যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচার্য; নাটকে রমেন লাহিড়ীর ‘ আমিই লেনিন, উৎপল দত্তের ‘ লেনিন কোথায়?’, উমানাথ ভট্টাচার্যের ‘ দিন বদলায়’ ; ঋত্বিক ঘটকের তথ্যচিত্র ‘আমার লেনিন’ উল্লেখযোগ্য। শান্তিরাম পালের যাত্রা ‘লেনিন’ এ ১১টি গান ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সংগীত, উপন্যাস, নাটক, চিত্রকলা, চলচ্চিত্রসহ শিল্প সাহিত্যের সকল ক্ষেত্রে লেনিনের আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।
‘লেনিন ও বাংলা সাহিত্যের যোগাযোগও একটা সময় পর্যন্ত বড়ই নিবিড়। সেই সম্পর্কের জন্ম সম্ভবত ১৯২১-এ। মোটামুটি ভাবে ওই সময়পর্ব থেকেই মার্ক্সীয় ভাবধারার সঙ্গে শিক্ষিত বাঙালি পরিচিত হতে শুরু করল। ব্রিটিশের শত বাধা সত্ত্বেও মুজফ্ফর আহমেদের মতো কয়েক জন মার্ক্সীয় সাহিত্যের প্রচার শুরু করলেন। কিন্তু এই সময়ের সব থেকে চমকপ্রদ ঘটনা, ধর্মীয় পত্রিকা ‘সৎসঙ্গী’-তে পাঁচ কিস্তিতে এক অজ্ঞাতনামা লেখকের লেনিনের জীবনকাহিনি প্রকাশ। ওই বছরই প্রকাশিত হয় বাংলায় প্রথম লেনিন-জীবনী, লেখক ফণীভূষণ ঘোষ। লেনিন-জীবন প্রচারে ক্রমে বিশেষ ভূমিকা নেয় ‘বিজলী’, ‘ধুমকেতু’, ‘লাঙ্গল’, ‘প্রবাসী’, ‘পরিচয়’ পত্রিকা।’
(অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঙালির লেনিন, আনন্দবাজার অনলাইন, ১৯ এপ্রিল ২০২০)
লেনিন শিল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের ভেতর বহু লেখকের উদ্ধৃতি ব্যবহার করতে দেখা যায়। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
‘বিপ্লবোত্তর সোভিয়েত রাশিয়ায় চলচ্চিত্র বিকাশের একটি জরুরি তাগিদ ছিল। লেনিনই বিশ শতকের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান যিনি ঘোষণা করেন, ‘‘চলচ্চিত্রই আমাদের জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পরূপ।’’ রুশ মার্কসবাদীদের উদ্যোগে পৃথিবীর প্রথম চলচ্চিত্র শিক্ষায়তন ‘ভিজিআইকে’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই শুরু হয় প্রশিক্ষিত চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রয়াস।’
(পর্দায় রুশ বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন আইজেনস্টাইনরা, সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, আনন্দবাজার অনলাইন, ৬ নভেম্বর ২০১৭)
লেনিনের সাহিত্য সংস্কৃতি ভাবনা সংক্রান্ত বিভিন্ন লেখার মধ্যে গোর্কিকে লেখা ১৯০৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি; ১৯০৯ সালের ১৬ নভেম্বর ; ১৯১৩ সালের ১৫ এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি; ১৯১৩ সালের ১৩ বা ১৪ নভেম্বরে উল্লেখযোগ্য। লেনিনের আগ্রহের গ্রন্থের মধ্যে, Chernyshevsky’s What is to be done?; Goethe’s Faust; Heine’s Poem; Gerhardt’s Bei Mama; Polenz’s Buttnerbauer; Victor Hugo’s Chatiments; Barbusses’s Le Feu; Tolstoy’s The living Corpse, Anna Karenina etc; Chekhov’s Evil-doer; Jack’s Live of London; ইত্যাদি। এছাড়াও থিয়েটারে গিয়ে দেখেছেন Gorkey’s The Liwer Depths; Chekhov’s Uncle Vanya; Ducken’s Cricket on the Hearth;
লেনিনের দৃষ্টিতে Leo Tolstoy হচ্ছেন As The Mirror Of The Russian Revolution. তিনি L.N. Tolstoy And The Modern Labour Movement বিষয়ের আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, Tolstoy had a surpassing knowledge of rural Russia, the mode of life of the landlords and peasants. In his artistics productions he gave descriptions of this life that are numbered among the best productions of World literature.
(Lenin, Colected works, vol-16, pp.330-332)
লেনিনের পর্যালোচনার দৃষ্টিভঙ্গি স্বতন্ত্র এবং যুক্তিপূর্ণ বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। তলস্তয়ের প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন, Leo Tolstoy And His Epoch, প্রবন্ধে। এছাড়াও ভাষা, সাহিত্য প্রসঙ্গে তাঁর আলোচনা সুদূরপ্রসারী বলে মনে হয়। এমনকি ধ্রুপদী সাহিত্যের প্রতি তাঁর জ্ঞান ছিলো গভীর।
এমনই একজন বিশ্ব রাষ্ট্রবিদের মহাপ্রয়াণ দিবসে স্মরণ করি শ্রদ্ধার সাথে। যিনি আলোচনা পর্যালোচনা করার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে দিয়েছেন। যেখানে আমরা সত্যিকার সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিতে অনাগত রাষ্ট্রের চিন্তাকে অগ্রসর করাতে সক্ষম হবো। লেনিনের মহাপ্রয়াণের পর মায়াকোভস্কি ৩০০০ চরণের কবিতা লিখেছেন, যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ৭৬। পাবলো নেরূদা’র লেনিন গীতি, বেটর্ল্ট ব্রেখটের A Monument to Lenin, ডরোথি ওয়েলসকির লেনিন, ল্যাংস্টোন হিউজের লেনিন বিষয়ে গীতিমালাসহ অসংখ্য কবিতা বিশ্বের খ্যাতনামা কবিরা লিখেছেন। যা সাহিত্যকে অনন্য সমৃদ্ধ করেছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও রাশিয়ার অগ্রগতিতে অভিভূত হয়ে লিখেছেন ‘রাশিয়ার চিঠি’।
বিশ্বে পুঁজিবাদের উগ্র উল্লম্ফন ও বাজার দখলের লড়াইয়ে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে জনজীবন। উন্নত, উন্নয়নশীল, অনুন্নত দেশের অভ্যন্তরে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী শ্রেণীবিভক্ত সমাজে বসবাস করে। শ্রমিক কৃষকসহ উৎপাদনের সাথে সম্পর্কিত বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবন ভয়াবহ দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। ধনিক শ্রেণির জীবন যাপনকে নিরাপদ ও অর্থবহ করতে গিয়ে সীমাহীন হিংস্রতা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধের নৃশংসতায় ক্ষত বিক্ষত বিশ্বজীবন। পরিবেশের উপর মানবসৃষ্ট বিরূপ পরিস্থিতির ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে মহান লেনিনের আদর্শই বিশ্ব আদর্শে পরিণত হয়েছে। ফলে লেনিনবাদ, কোন একটি দেশের নয়, সকল মানুষের শান্তি সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার আদর্শ বলে বিবেচিত হয়। সেজন্য তাঁর আদর্শে ধ্বনিত হয়, ‘ Workers Of All Countries, Unite! লক্ষ্য করি, Modern war is born of imperialism. Capitalism has reached this highest stage. (Lenin).
বিশ্ববাসীর ঐক্য বলতে শ্রমজীবী মানুষের ঐক্য বোঝায়। শ্রমজীবী মানুষ সকল দেশেই নিগৃহীত এবং সামাজিকভাবে বঞ্চিত। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে লেনিনের মতাদর্শ যুগান্তকারী বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
তাইতো দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লেনিনের ৭০০০ ভাস্কর্য বিদ্যমান আছে। Langston Hughes এর Lenin কবিতা যেন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে,
Lenin walks around the world
The sun sets like a scar
Between the darkness and dawn
The rise a red star.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় লেনিন…
‘লেনিন ভেঙেছে বিশ্বে জনস্রোতে অন্যায়ের বাঁধ,
অন্যায়ের মুখোমুখি লেনিন জানায় প্রতিবাদ।
মৃত্যুর সমুদ্র শেষ; পালে লাগে উদ্দাম বাতাস
মুক্তির শ্যামল তীর চোখে পড়ে, আন্দোলিত ঘাস।
লেনিন ভুমিষ্ঠ রক্তে, ক্লীবতার কাছে নেই ঋণ,
বিপ্লব স্পন্দিত বুকে, মনে হয় আমিই লেনিন।।’
রাষ্ট্রবিদ লেনিন প্রগতিশীল সাহিত্য সংস্কৃতির ধারাকে শক্তিশালী হতে সমাজতান্ত্রিক দর্শনের শৈল্পিক প্রয়োগ, বিশ্লেষণের মাধ্যমে চিহ্নিত করে গেছেন। নিছক সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার মধ্যে বিশুদ্ধ অস্তিত্বের ভাবধারা প্রকৃত জীবনকে খুঁজে পাওয়া যায় না। সাহিত্য সংস্কৃতিকে প্রগতির পথে পরিচালিত করবার যে ব্যাখ্যা লেনিন দিয়েছেন, সেই অদম্য পথে নাট্যকার-পরিচালক বেরটল্ট ব্রেশট, কবি পাবলো নেরূদা, উপন্যাসিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিশ্বের বহু যশস্বী সাহিত্যিক অগ্রসর হয়েছেন।
বিশ্বের পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। পুঁজিবাদের আগ্রাসন, সীমাহীন শোষণ বঞ্চনার বিশ্বে শ্রমজীবী মানুষের ঐক্যবদ্ধ হবার পথ প্রদর্শক হিসেবে লেখক শিল্পীকে এগিয়ে আসতে হবে সামাজিক দায়বদ্ধতায় এবং শ্রেণীগত দৃষ্টিভঙ্গিতে। বিশ্বের সামগ্রিক শান্তির জন্য সাম্য রাষ্ট্র ব্যবস্থার মহান রাষ্ট্রবিদ লেনিনের দর্শন সমকালেও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।




