কবিতার প্রেমিক, সময় ও ব্যক্তিজীবনের স্বরলিপি

কোনো কবিই সময়কে অস্বীকার করেন না, সময়ের ভেতর দিয়েই তিনি মহাসময়ে পৌঁছান। ‘আজি হতে শতবর্ষ পরে কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহল ভরে’ একথা যিনি বলেছিলেন তিনি জানতেন একশো বছর পরও তাঁর কবিতাখানি পড়া হবে। আসলে সময় ও সৃষ্টি— সন্তান ও মাতৃত্বের সম্পর্ক নিয়ে বেঁচে থাকে। কোনো সন্তানের আয়ু ক্ষীণ, কোনো সন্তানের আয়ু দীর্ঘ হতে পারে। কবিতার মতো শিল্পের ক্ষেত্রেও এই কথাটির প্রয়োগ যথার্থ বলেই মনে হয়। মনের কোনো মূল বিভাবকে অবলম্বন করে কবিতাটি রচিত হলেও মানুষের মনের কাছে তার শাশ্বত আবেদন রাখতে সক্ষম হয় বলেই সময়ের ক্ষণিকতা অতিক্রম করতে পারে। সুতরাং সময় তার মা হলেও মানুষের চিরন্তন অনুভূতির জগৎ তার পালনকারী পিতা হিসেবেই গণ্য হয়। ‘মেঘনাদ বধ’ কাব্য কবে লেখা হলেও জনপ্রিয়তায় আজও সম উচ্চতা বজায় রেখে চলেছে। মানুষের চিরন্তন আবেগ ও শাশ্বত বোধের কাছে সব মানুষই সমীহ জানাতে বাধ্য। তেমনি বৈষ্ণব সাহিত্যের প্রেমলীলাও মানুষের আবেদনে চির প্রবাহিনী নদীর স্বচ্ছ সলিলার মতো। আজকের দিনে কি এরকম সাহিত্য লেখা হয় না?

আজকের সময় ধারায় আজকের মতোই সাহিত্য রচিত হয়, যেখানে থাকে জীবনের গলিত ক্ষুধা, প্রেমহীনতা এবং অসহিষ্ণু ও অস্থিরতার এক প্রবাহ। ফলে ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে রসপিপাসু মন সাহিত্যের গভীর কোনো আস্বাদনে প্রবেশ করতে চায় না, ছন্নছাড়া সময়ের ভোগসর্বস্ব জীবনে সাহিত্যের রোমান্স পর্যটন বা অনুধাবনে মানুষের আগ্রহ অনেকটাই কমে গেছে। তবু যেটুকু আছে তা কম কোথায়? পাড়ায় পাড়ায় জোনাকি পোকার মতো এক-একটি লন্ঠন জ্বলে উঠছে, তারা আলো দেবার জন্য আত্মপ্রজ্জ্বলনে অস্তিত্ব তুলে ধরছে। এইসব ছোট পত্রিকাগুলিই আজকের সাধনতীর্থের সময়যাত্রী। নবীন-প্রবীণ প্রায় সকলেই এইসব কাগজে লিখতে আসছেন আর লিখছেনও তাঁদের দ্বন্দ্বময় মনের অনুভূতি যা কখনো আত্মমুক্তির মতো। মনের খাঁচায় কষ্টের পাখিগুলি চিরন্তন পুষতে পারা কঠিন বরং তা মৃত্যুরই নামান্তর। একে মুক্তি দিতে হবে, এই মুক্তিই তো সাহিত্য-শিল্প-কবিতা। এদের প্রকাশের জন্য যে ভাষাবোধ ও শব্দবোধ এবং নিত্যনতুন শিল্পবোধের ধারণাটি থাকা দরকার তা সবারই থাকে না। কিন্তু এর ভেতর থেকেই কেউ কেউ বেরিয়ে আসেন এমন হৃদয়সংবাদী মানবসঞ্চারী যে তাঁকে অভিনন্দন জানাতেই হয়। একজন সাহিত্যের পাঠক হিসেবে তো স্বাভাবিকভাবেই এঁদের সঙ্গেই সম্পর্ক গড়ে উঠে। ভালোবাসার, প্রেমের এবং সহমর্মিতার সম্পর্ক শুধু সৃষ্টির আলোতেই বিচার করা চলে। সুতরাং সাহিত্যের পাঠক হিসেবে সর্বদা মনের আনন্দের খোঁজেই বিচরণ করা, সমালোচক হিসেবে কাছে যাওয়া নয়।

শোনা যায় ‘বাংলা সাহিত্যের উপন্যাসের ধারা’ লেখার পূর্বে শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যখন আসতেন সঙ্গে বেশ কিছু বইপত্র নিয়ে আসতেন। বাঁশের মাচায় (টং-এ) বসে পা দুলিয়ে পড়তেন। গ্রামের মানুষ জিজ্ঞেস করলে বলতেন: ‘শরৎ চাটুজ্জেকে বাঁশ দিচ্ছি!’ কিংবা শান্তিনিকেতনে একটা ছোট্ট মেয়েকে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘বলাকা’ কাব্য পাঠ করতে দেখে জানতে চেয়েছিলেন সে পড়ে বুঝতে পারে কিনা। বালিকাটি উত্তর দিয়েছিল: ‘বুঝতে পারি না বলেই তো পড়তে ভালো লাগে।’ ‘বাঁশ’ দেবার পাঠ যে সমালোচকের পাঠ এবং ভালোলাগার পাঠ যে নিছক পাঠকের পাঠ তা বলাই বাহুল্য। কবিতা না বুঝে পড়ার আনন্দ ভালোবাসার মতো, প্রেমিক-প্রেমিকার মতো সম্পর্ক। কবিতা বা শিল্পের যত রহস্য বা ছলনা থাকে সেই কবিতা বা শিল্প তত কৌতূহলী এবং আকর্ষণীয় করে তোলে। প্রেমিকার হাসি, নূপুরের ধ্বনি, কোমর দোলানো যেমন প্রেমিকের কাছে অমোঘ স্বপ্নের বাতাবরণ তৈরি করে, একজন পাঠকের কাছেও তেমনি অমোঘ ও অব্যর্থ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। একটা শব্দ, একটা পংক্তি, আঙ্গিক গঠন, নামকরণ, অলংকার সবগুলিই তার আকৃষ্ট হবার উপাদান। ধরতে গেলেও ধরা দেয় না, সম্মতিতেও তার রহস্য থাকে এমনই ব্যাপার। এভাবেই পাঠক বা প্রেমিক তার ভালোবাসার প্রার্থী হয়ে ওঠে। কিন্তু যখন একজন পাঠককে সমালোচক হতে হয়, তখন সে আর প্রেমিক থাকে না, স্বামীতে রূপান্তরিত হয়। স্বামী যেমন প্রেমিক হতে পারে না, একজন পাঠকও তেমনি সমালোচক হতে পারে না। সমালোচক হলে শিল্প বা আর্টএর গতানুগতিক বিষয় নিয়েই ছাঁচে ফেলে তার বিচার করতে হয়। স্বামীর যেমন স্ত্রী সম্পর্কে ভালোবাসার টান থাকে না তেমনই। স্ত্রীর সঙ্গে কখনো মনোমালিন্য হয়, কখনো স্ত্রীর কাজকর্মে অসন্তুষ্টি প্রকাশ, কখনো মুখ দেখাদেখি বন্ধ পর্যন্ত। সেই কারণেই আমি শুধুমাত্র প্রেমিক হতেই পছন্দ করি, স্বামী হতে চাই না। অর্থাৎ পাঠক হিসেবেই থাকতে চাই, সমালোচক হওয়া আমার পক্ষে মনের বিরুদ্ধ কাজ।

কবিতার প্রেমিক হিসেবেই রোজ সাহিত্যের মন্দিরে ঘণ্টা বাজাই। কবিতারা জল তুলতে আসে, স্নান করতে আসে। ভেজা কাপড় লেপ্টে থাকা তাদের উষ্ণ শরীর দেখতে ভালো লাগে। মাঝেমাঝে জ্যোৎস্না রাতের নূপুরের শব্দ শুনি। লাল ঠোঁটে চুমু খাই। সন্ধিগ্ধ শরীরে লোমের সমাগম হলে আরও আকর্ষণীয় মনে হয়। আলতা রাঙা পা দু’খানি আমার হৃদয়ের ওপর রাখতে বলি। এই কবিতাদের পিতা-মাতারা ছোট-ছোট পত্রপত্রিকায় পাড়ায় পাড়ায় ছেড়ে দিয়েছে। তাঁরা দীন-দরিদ্র হলেও কখনো কখনো সুন্দরী এই কবিতাবালাদের যে জন্ম দিতে পারেন তারও টের পেয়েছি। এদের আমি ভালোবাসি, কিন্তু দোহাই তোমাদের, এদের ‘বিবাহ’ করতে বলবেন না। স্বামী হওয়ার মতো হ্যাপা আর নেই। বরং কাজলভ্রমর চোখের রমণী অথবা আটপৌরে শাড়ি পরা রমণী যে হবে হোক, সকলের সঙ্গেই আমি জীবনযাপন করতে চাই। আমার দুঃখী রাত কাটাতে চাই। গান গেয়ে শোনাতে চাই।

কিন্তু যদিও ‘আনন্দ’ অনুধাবনই পাঠকের এবং সমালোচকের মূল বিষয় বলে অনেকেই মনে করেন, তবুও বিষয়টি কি একই হতে পারে? টি এস এলিয়টও একই সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি বলেই সমালোচকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মত পরিবর্তন করেছেন। একবার বলেছেন:elucidation of works of art and correction of taste. অর্থাৎ শিল্পকৃতির প্রাঞ্জল বিশ্লেষণ এবং পাঠকের রুচি পরিবর্তন করা। আবার বলেছেন: understanding and enjoyment of literature. অর্থাৎ বোঝা এবং আনন্দ লাভ করা। আর একটি অংশে আরও বলেছেন: To understand a poem comes to the same thing as to enjoy it for the right reasons. অর্থাৎ কবিতাটি ভালো করে বুঝতে পারাই তো আনন্দের উৎস বা কারণ। এসব ক্ষেত্রে ‘বিবাহ’, ‘প্রেম’ কি একই সঙ্গে সম্ভব?

কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই সম্ভব। কিছু রমণী যেমন প্রেমিকা হতে পারে না, তেমনি কিছু সাহিত্য বা কবিতাও প্রকৃত কবিতা হতে পারে না। সব রমণীকে যেমন ভালোবাসা সম্ভব নয়, তেমনি সব কবিতাকেই পাঠক গ্রহণ করেন না। সময়ের দাবি নিয়ে যাঁরা কবিতা রচনা করেন না,যাঁরা শিল্প-সাহিত্যের পটপরিবর্তন বোঝেন না, অনুকরণে প্রায় সর্বদা পিছিয়ে থাকেন, চিরাচরিত ধারায় তাঁরা যে গতানুগতিক পথে হাঁটেন, সে পথে পাঠক খুঁজে পাওয়া যায়? যাঁদের স্বামী হবার যোগ্যতা আছে, স্পন্দনশীল মন আছে, হৃদয়সংবাদী হৃদয় আছে তাঁরাই প্রেমিক ও স্বামী একইসঙ্গে হতে পারেন। অর্থাৎ পাঠকের রুচিবোধ, ভালো-মন্দ নির্বাচন করার ক্ষমতা, আনন্দ আহরণের উপায় এবং সাধনা আছে, যাঁরা পরিশীলিত দীক্ষিত তাঁরাই এই কাজটি সহজে করতে পারেন। এলিয়ট এই কারণেই understanding এবং enjoyment কথা দু’টির উল্লেখ করেছেন যা সুদূরপ্রসারী।

কোন্ সৃষ্টি বেঁচে থাকবে সমসাময়িক কালের নিরিখে তার আভাস না পেলেও এটুকু বোঝা যায়, সমসাময়িককালের তা অগ্রবর্তী পদক্ষেপ হবে। ‘পাখির নীড়ের মতন চোখ’ উপমাটি ব্যবহার করার জন্য জীবনানন্দ দাশকে সম্পাদক সেদিন Good Boy বলেননি, কিংবা ‘ক্যাম্পে’ কবিতায় ‘নোনা মানুষীর গন্ধ’ শব্দবন্ধ ব্যবহারও সেদিন কেউ ভালো চোখে দেখেননি। পরবর্তীকালে অনেক উপমা ও শব্দবন্ধ জীবনানন্দ দাশকেই অনুসরণ করে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু আমরা ‘বনলতা সেন’কে ভুলতে পারিনি। কেননা জীবনানন্দ চিন্তাকে আবেগে পরিণত করেছেন। প্রেমকে চিরন্তন মহিমা দান করেছেন। ভালো পাঠক না হলে ভালো সমালোচকও হওয়া যায় না। সমালোচনা সৃষ্টিধর্মী হবে না। তথ্যনিষ্ঠ অর্থাৎ বিষয়ের প্রতি যথেষ্ট জ্ঞান থাকবে তাঁর। শিল্প বিশ্লেষণ করার এবং তুলনা করারও দক্ষতা থাকবে। বিষয়বস্তু, আঙ্গিক গঠন, কতখানি নতুনত্বের দাবি বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সমস্তই অনুধাবন করার ক্ষমতা থাকতে হবে। যাকে আমরা প্রেমিক বলেছি সেই মন ও মেজাজ নিয়েই স্বামীত্বে রূপান্তরিত হতে হবে। সময় সাপেক্ষ এই প্রেমিক বা স্বামীকেও অর্থাৎ পাঠক বা সমালোচককেও উপযোগী হতে হবে। এলিয়ট এ ব্যাপারে বলেন: Each generation brings to the contemplation of art its own categories of appreciation, makes its own demands upon art, and has its own uses of art. অর্থাৎ সাহিত্যের মূল্যায়নের মাপকাঠিরও পরিবর্তন ঘটবে।

সুতরাং আজকের সময়ের সাহিত্যের বিচার প্রাচীনকালের বা গত যুগের মূল্যায়নের মাপকাঠিতে করা সম্ভব নয়। রক্তাক্ত সময়, অনিশ্চিত জীবন, শূন্য চেতনার অবিমিশ্র প্রয়োগ বাস্তবতাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবুও মানবীয় সম্পর্কের আকাশটুকু দেখতে পাই যা কুয়াশাচ্ছন্ন, বিদঘুটে এবং বিপন্নও। স্বাভাবিকভাবেই দ্বান্দ্বিক জীবন আমাদের অবিশ্বাস ও ক্রূরতা এনে দিয়েছে। প্রেমের পাশাপাশি ধর্ষণ, রাষ্ট্র শাসনের নামে শোষণ ও পীড়ন সারা বিশ্বের মানুষকে এক বিপন্নতায় অসুস্থ করে তুলেছে। এই সময়ের শিল্পেও তার দাগ পড়েছে। প্রেমিক-সমালোচক এক ঘোরের অস্থিরতায় বুঝতে পারছেন না কোন্-টা দূরদর্শী চরিত্র, কোন্-টা ক্ষণভঙ্গুর, পলকা।

কবিরাও তাই লিখছেন:
“একটি জীবন অপরিচিত
যা ছিল বলার, ভুল বলা হল,
আলো সরে যায় সন্ধ্যার দিকে বিকেলের,
তুমি চলে গেলে, বুকে কুয়াশার মেঘ,
বলা হয়নি তা, সহজে যা বলা যেত।”
-তীর্থঙ্কর দাশপুরকায়স্থ

জীবনকে চেনা হয় না, যা বলার তাও সহজে বলা হয় না, যা বলা হয়েছে—সব ভুল, যে চলে গেছে সেই ‘তুমি’কে আর পাওয়া যায় না। এই আত্ম-অন্বেষণ এবং প্রেম-অন্বেষণ সব কালেই ছিল, আজও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু জীবন যে পরিচিত হল না এই দর্শনটি তো এই সময়েরই উচ্চারণ। এত সহজ করে তো একথা আগে কখনো শুনিনি।

জয়নাল আবেদিন
ছবি: সংগৃহীত

আরেকজন কবি লিখলেন:
“দুপুরের ছায়া জড়ো করতে করতে যখন সে
হাঁপিয়ে ওঠে তখন আমার ভীষণ ভয় হয়,
যদি আছাড় মারে, আমি তো দীর্ঘদিন
ছায়ার পাশে পাশে আছি।”
-জয়নাল আবেদিন

‘আমি’ যখন ‘সে’ হয়ে যায় তখন বোঝা যায় সেও অচেনা এক সত্তা নিয়ে আমাদের বসবাস। ‘সে’ তখন ছায়া, ‘আমি’ অনুসরণ করি। জীবন কতটা নিঃসঙ্গ একাকী হলে এরকম উপলব্ধি আসতে পারে? ব্যঞ্জনার দরকার নেই, উপমার প্রয়োজন ফুরিয়েছে, সবাই আমরা নিজের কাছে এসে দাঁড়িয়েছি। মানবিক সম্পর্কগুলির ডুগডুগি বাজানোর সময় চলে গিয়েছে। আবেগের চলমান দিশা থেকে বিন্দু বিন্দু বোধ এসে আমাদের নির্জনের আশ্রয় তৈরি করে দিয়েছে। সময়ের কাছে এভাবেই আমরা ধরা দিচ্ছি। যে শিল্প বিচারেই আজকের কবিতা বিচার্য হোক না কেন, ব্যক্তিছায়ার সময়-যাপানেই তার নিরীক্ষণটি উঠে আসবে। কবিরা এক ঝাঁক পাখির মতো সময়ের জালে পড়েছেন। কিছুতেই বেরিয়ে আসতে পারছেন না। চিৎকার-চেঁচামেচি করাও তাঁরা ছেড়ে দিয়েছেন।

শুভব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
ছবি: সংগৃহীত

চলুন, আমরা সবাই সূর্যের দিকে মুখ করে বসি। প্রেমিক হই, ঘ্রাণ নিই কবিতার। বাংলার বাগানে কত লীলাকমল ফুটছে। দেখতে দেখতে আজও এক মানবিক সড়কের সন্ধান করি। বইগুলি সেই সড়কপথেরই এক একটি নির্দেশক মাত্র।কাউকে চিনতে পারি, কাউকে পারি না। সময়কেও দেখতে পাই, একজন কবি এসে বললেন:

“ম্যাজিক, ম্যাজিক ঘটতে থাকবে আপনার চোখের সামনে
সেই ডানা-বই, পাখি-বই থেকে আপনি ঠিক করতে পারবেন
নেমে আসছে রক্ত আর ফুলের পাপড়ি, কবোষ্ণ জল আর চোখের মণি,
শুনতে পাবেন অবুঝ ভায়োলিন, কিউবিস্ট গিটার, মায়াবী পিয়ানো
হয়তো দু-একটা স্বপ্নও—যাকে আপনিই একমাত্র চিনতে পারবেন,
কারণ সেগুলো আপনারই একান্ত ব্যক্তিগত—”
-শুভব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়

এই ব্যক্তিগত জীবনের স্বরলিপিতেই বিভোর হয়ে বসে থাকব সূর্যের সামনে।◊

Facebook
Twitter
LinkedIn
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!