পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল শিক্ষাবৃত্তি (Allama Muhammad Iqbal Scholarships for Students from Bangladesh) ঘোষণা করেছিল। পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন (Higher Education Commission, HEC) তাদের ওয়েবসাইটে একে সম্পূর্ণ শিক্ষাবৃত্তি (fully funded) হিসেবে প্রচার করেছে। এর আওতায় টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, হোস্টেল ও খাবার, এককালীন স্থাপনা ভাতা, বিমানভাড়া, বই ও শিক্ষা উপকরণের খরচ বহনের কথা বলা হয়েছিল। গত মে মাসে বাংলাদেশে আয়োজিত পাকিস্তান এডুকেশন এক্সপোতেও একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ঢাকার পাশাপাশি বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম ও রংপুরেও এই শিক্ষা মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা আবেদন করেন, পরীক্ষা দেন এবং দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া পার হন। কিন্তু নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে অফার লেটার পৌঁছানোর পরই অভিযোগ ওঠে, ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবের হিসাব মিলছে না। অফার লেটারে টিউশন ফি ও থাকার ব্যবস্থা থাকলেও মাসিক ভাতা, খাবার, বিমানভাড়া, ভিসা, স্বাস্থ্যবিমাসহ ঘোষিত কয়েকটি সুবিধার উল্লেখ নেই। একজন নির্বাচিত শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, তিনি যে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ে আবেদন করেছিলেন, তার পরিবর্তে কোনো আলোচনা ছাড়াই তাকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাহলে সম্পূর্ণ শিক্ষাবৃত্তির ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার পর প্রতিশ্রুত সুবিধাগুলো গেল কোথায়?
পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি আর বাঙালির প্রতারিত হওয়ার ইতিহাস অবশ্য নতুন নয়। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে পরিষদের অন্যতম ভাষা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়। এরপর ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। অথচ ১৯৫১ সালে পাকিস্তানের প্রথম আদমশুমারিতে দেখা যায়, দেশটির মোট জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৫৭ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস করতেন বাংলাদেশে (পূর্ব পাকিস্তান), আর পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন প্রায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ।অর্থাৎ রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা ছিল বাংলা, অথচ সেই বাংলাকেই রাষ্ট্রভাষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা হয়েছিল। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নিজের মাতৃভাষার স্বীকৃতির দাবিতে বাঙালিকে রক্ত দিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৬ সালে বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়। কিন্তু ভাষার স্বীকৃতি মিললেও বৈষম্যের অবসান ঘটেনি।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছিলেন দেশটির প্রথম গভর্নর জেনারেল। ১৯৪৮ সালে তার মৃত্যুর পর একের পর এক গভর্নর জেনারেল ও সরকার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে। ১৯৫৬ সালে প্রথম সংবিধান কার্যকর হলে পাকিস্তান প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয় এবং ইস্কান্দার মির্জা প্রথম প্রেসিডেন্ট হন। নতুন সংবিধানের অধীনে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন ১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই নির্বাচন আর অনুষ্ঠিত হয়নি। নির্বাচন হওয়ার মাত্র কয়েক মাস আগে, ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা সংবিধান বাতিল করেন, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ ভেঙে দেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেন এবং সামরিক আইন জারি করে সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক করেন। সমকালীন মার্কিন কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা নথিতে বলা হয়, মির্জা ও আইয়ুব খান আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কিত ছিলেন এবং নির্বাচনের ফলে বাঙালিদের রাজনৈতিক প্রভাব, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ন্যায্য অংশের দাবি বেড়ে যেতে পারে বলে তারা মনে করেছিলেন। মাত্র বিশ দিন পর, ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান মির্জাকে সরিয়ে নিজেই প্রেসিডেন্ট হন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার এগারো বছরের মাথায় জনগণের ভোটে প্রথমবার কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু ভোট হওয়ার আগেই সংবিধান বাতিল করে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা সামরিক বাহিনীর হাতে চলে যায়।
দশ বছর পরও জনসংখ্যার চিত্র খুব একটা বদলায়নি। ১৯৬১ সালের আদমশুমারিতে পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫ কোটি এবং পশ্চিম পাকিস্তানের প্রায় ৪ কোটি ২৯ লাখ। অর্থাৎ জনসংখ্যায় পূর্ব পাকিস্তান তখনও এগিয়ে ছিল। অথচ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সম্পদ বণ্টনের চিত্র ছিল উল্টো। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ৪২ হাজার কর্মকর্তার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের ছিলেন মাত্র ২ হাজার ৯০০ জন। ১৯৬২ সালে পররাষ্ট্র বিভাগে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব ছিল মাত্র ২০ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের অনুপাত ছিল ১০:৯০। শিক্ষাখাতেও একই বৈষম্য ছিল। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানের শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৫৩০ কোটি রুপি, আর পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ছিল মাত্র ২৪০ কোটি রুপি। জনসংখ্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও রাষ্ট্রের প্রশাসন, সামরিক বাহিনী ও শিক্ষাখাতে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ ছিল তার জনসংখ্যার তুলনায় অনেক কম।
শিক্ষাক্ষেত্রের আরেকটি হিসাব এই বৈষম্যকে আরও স্পষ্ট করে। পাকিস্তান রাষ্ট্র যখন যাত্রা শুরু করে, তখন পূর্ব বাংলায় ব্রিটিশ ভারত আমলে গড়ে ওঠা একটি বিস্তৃত প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা আগে থেকেই ছিল। ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানে প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল ২৯,৬৩৩টি, পশ্চিম পাকিস্তানে মাত্র ৮,৪১৩টি। অর্থাৎ পূর্ব বাংলায় থাকা এই বিপুলসংখ্যক প্রাথমিক বিদ্যালয় পাকিস্তান সরকারের গড়ে তোলা শিক্ষাব্যবস্থা ছিল না, এর ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ব্রিটিশ ভারত আমলেই। অথচ ১৯৭০ সালে এসে পূর্ব পাকিস্তানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৮,৯০৮টিতে, আর পশ্চিম পাকিস্তানে বেড়ে হয় ৩৮,৯০০টি। যে পূর্ব বাংলা প্রায় ৩০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে পাকিস্তানের অংশ হয়েছিল, ২৩ বছর পর পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে আসার প্রাক্কালে তার বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়েনি, বরং কমেছিল। একই সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮,৪১৩ থেকে বেড়ে ৩৮,৯০০টিতে পৌঁছেছিল, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে চার গুণ হয়েছিল।
পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পূর্ব বাংলার পাট ও পাটজাত পণ্যের ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৮ সালের হিসাবে পাকিস্তানের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৫৯ শতাংশ এসেছিল পূর্ব পাকিস্তান থেকে, অথচ আমদানির মাত্র ৩০ শতাংশ গিয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানে। পাটশিল্পের গুরুত্ব সময়ের সঙ্গে আরও বেড়েছিল। ১৯৬৯–৭০ অর্থবছরে শুধু পাটজাত পণ্য থেকেই পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ৪৬ শতাংশ এসেছিল এবং পূর্ব পাকিস্তান তখন বিশ্বের বৃহত্তম পাটজাত পণ্য রপ্তানিকারকে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু এই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের সামঞ্জস্য ছিল না। ১৯৫০–৫১ থেকে ১৯৫৪–৫৫ সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে মোট সরকারি ব্যয় ছিল ২৭১ কোটি রুপি, পশ্চিম পাকিস্তানে ১,১২০ কোটি রুপি। পরবর্তী সময়েও ব্যবধান বজায় ছিল। ১৯৬৫–৬৬ থেকে ১৯৬৯–৭০ সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে মোট ব্যয় ছিল ২,৩০৪ কোটি রুপি, পশ্চিম পাকিস্তানে ৫,১৯৩ কোটি রুপি। এর প্রভাব মানুষের আয়েও স্পষ্ট। ১৯৪৯–৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় ছিল ২৮৭ রুপি এবং পশ্চিম পাকিস্তানের ৩৩৮ রুপি, ব্যবধান ৫১ রুপি। ১৯৬৯–৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় বেড়ে ৩৩১ রুপি হলেও পশ্চিম পাকিস্তানে তা পৌঁছায় ৫৩৭ রুপিতে, ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২০৬ রুপি। অর্থাৎ পাকিস্তানের দুই অংশের অর্থনৈতিক দূরত্ব কমেনি, বরং দুই দশকে আরও বেড়েছিল।
১৯৬৫ সালে জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়, তা পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে আসে। যুদ্ধের পর পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে কেন্দ্রনির্ভর প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অসন্তোষ আরও বাড়ে। এই প্রেক্ষাপটে ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাহোরে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল পাকিস্তানকে প্রকৃত অর্থে একটি ফেডারেশন করা, কেন্দ্রের হাতে শুধু প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি রাখা, কর আদায়ের ক্ষমতা প্রদেশের হাতে দেওয়া, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব আলাদা রাখা এবং পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক আধাসামরিক বাহিনী গঠন। অর্থাৎ এতদিন ধরে জমতে থাকা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষাগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি এবার একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ নেয়। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার এই কর্মসূচিকে রাষ্ট্রের ঐক্যের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। ফলে শেখ মুজিবসহ আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি পরে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত হয়। ১৯ জুন ১৯৬৮ মামলার বিচার শুরু হয়। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে ক্রমবর্ধমান গণআন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার পরের বছর (১৯৬৯) ২২ ফেব্রুয়ারি মামলা প্রত্যাহার করে এবং অভিযুক্তদের মুক্তি দেয়।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খানের দীর্ঘ সামরিক শাসনের পতন ঘটে। ২৫ মার্চ তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দিলে সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং দেশে আবার সামরিক আইন জারি করেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর ইয়াহিয়া খান নির্বাচনের মাধ্যমে বেসামরিক শাসনে ফিরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ১৯৭০ সালের মার্চে জারি করা আইনগত কাঠামো আদেশের (Legal Framework Order) অধীনে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়। সেই পথ ধরেই ৭ ডিসেম্বর ১৯৭০ পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জনসংখ্যার ভিত্তিতে গঠিত ৩১৩ সদস্যের জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ছিল ১৬৯টি এবং পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য ১৪৪টি আসন। নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২টি সাধারণ আসনের মধ্যে ১৬০টিতে জয়ী হয়। সংরক্ষিত নারী আসনসহ পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের আসন দাঁড়ায় ১৬৭টি। ফলে জাতীয় পরিষদে দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু নির্বাচনের ফল অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তরের বদলে শুরু হয় রাজনৈতিক অচলাবস্থা। পশ্চিম পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো ছয় দফাভিত্তিক সংবিধান প্রণয়ন নিয়ে আপত্তি জানান এবং সমঝোতা না হলে তার দলের সদস্যরা ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন না বলে ঘোষণা দেন। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ ১৯৭১ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেছিলেন। অথচ ১ মার্চ, মাত্র দুই দিন আগে, কোনো নতুন তারিখ না দিয়েই সেই অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। পূর্ব পাকিস্তানে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী ভোটের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করেছিল, সেই গণরায়ও শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা হস্তান্তরের নিশ্চয়তা দিতে পারেনি।
জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের ঘোষণার পর পূর্ব পাকিস্তানে শুরু হয় ব্যাপক প্রতিবাদ ও অসহযোগ আন্দোলন। ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান সামরিক আইন প্রত্যাহার, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানান। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের নতুন তারিখ ঘোষণা করেন এবং ১৫ মার্চ ঢাকায় এসে শেখ মুজিবের সঙ্গে রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আলোচনা শুরু করেন। পরে জুলফিকার আলী ভুট্টোও আলোচনায় যোগ দেন। কয়েক দফা আলোচনার পরও কোনো চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমঝোতা হয়নি। ২৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান ঢাকা ত্যাগ করেন। সেই রাতেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে। ঢাকায় সেনাবাহিনীর অভিযান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী নয় মাসে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির মধ্য দিয়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। বাংলাদেশ সরকারের সরকারি হিসাবে ১৯৭১ সালে নিহত মানুষের সংখ্যা ৩০ লাখ এবং প্রায় এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। ২৮ মার্চ ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে. ব্লাড মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে ‘বাছাই করে গণহত্যা’ (Selective Genocide) শিরোনামে একটি জরুরি টেলিগ্রাম পাঠান। সেখানে তিনি পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হাতে আওয়ামী লীগ সমর্থক, ছাত্রনেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বাঙালি ও হিন্দুদের বেছে বেছে হত্যার বিবরণ দেন।
২৫ মার্চের সামরিক অভিযানের পর রাজনৈতিক সংকট পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়। ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা কার্যকর বলে গণ্য করা হয়। ১০ এপ্রিল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নেয়। শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত এই সরকার নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে আসছিল। ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতের বিমানঘাঁটিগুলোতে সামরিক আক্রমণ (অপারেশন চেঙ্গিজ খান) চালানোর পর ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণমাত্রায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। এর মাত্র ১৩ দিন পর, ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি আত্মসমর্পণ করেন। এর মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে জন্ম নেওয়া পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চল স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
২৫ মার্চের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সার্চলাইট’ (Operation Searchlight) শুরু হওয়ার পর রাজনৈতিক সংকট পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়। ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। ১০ এপ্রিল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন এবং স্বাধীনতা ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর বলে নির্ধারণ করেন। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নেয়। শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত এই সরকার নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে আসছিল। ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতের বিমানঘাঁটিগুলোতে সামরিক আক্রমণ ‘অপারেশন চেঙ্গিজ খান’ (Operation Chengiz Khan) চালানোর পর ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণমাত্রায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। এর মাত্র ১৩ দিন পর, ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি আত্মসমর্পণ করেন। এর মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে জন্ম নেওয়া পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চল স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ২৪ বছরের রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের অবসান ঘটেছিল। কিন্তু সেই ২৪ বছরের বঞ্চনা, প্রবঞ্চনা আর রক্তপাত ভুলে যাওয়ার মতো ইতিহাস নয়। বাংলা ভাষার অধিকার অস্বীকার, সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বঞ্চনা, প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীতে বৈষম্য, শিক্ষায় অসম বরাদ্দ, পূর্ব বাংলার পাট থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে অসম রাষ্ট্রীয় ব্যয়, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও ক্ষমতা হস্তান্তর না করা এবং শেষ পর্যন্ত সামরিক অভিযান, এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ।
পঞ্চান্ন বছর পর সেই পাকিস্তান যখন বাংলাদেশের তরুণদের সামনে ‘সম্পূর্ণ শিক্ষাবৃত্তি’র আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসে, তখন অতীত ভুলে যাওয়ার সুযোগ কোথায়? পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, থাকা-খাওয়া, বিমানভাড়া, বই ও শিক্ষা উপকরণসহ যেসব সুবিধার কথা বলে শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে আহ্বান জানিয়েছিল, নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের অফার লেটারে তার সব পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার কারও অভিযোগ, যে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ে আবেদন করেছিলেন, তাও বদলে দেওয়া হয়েছে। এক কথা বলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা, তারপর নির্বাচনের পর অন্য শর্ত সামনে আনা শুধু প্রতিশ্রুতির হেরফের নয়, সরাসরি প্রবঞ্চনা। কেন এই প্রতিশ্রুতিভঙ্গ? কেন এই প্রবঞ্চনা? ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বাঙালি পাকিস্তানের কথার সঙ্গে কাজের যে ব্যবধান দেখেছে, পঞ্চান্ন বছর পরও কেন সেই একই প্রশ্নের মুখোমুখি পাকিস্তান?
এত কিছুর পরও বাংলাদেশের একাংশের মানুষের কাছে পাকিস্তান আজও আপন। পাকিস্তানকে ‘মুসলিম ভাইয়ের দেশ’ হিসেবে দেখার এই আবেগও নতুন নয়। ধর্মের কারণে ভাই ভাই। ভাইকে লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে কাছে ডেকে, পরে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেলে সেই ভ্রাতৃত্বও অর্থহীন হয়ে পড়ে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মই হয়েছিল ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের দাবির মধ্য দিয়ে। কিন্তু ইতিহাস দেখিয়েছে, ধর্মের মিল রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দেয় না। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষের সংখ্যাগরিষ্ঠই মুসলমান ছিলেন। তবু বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা আদায় করতে গিয়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালিকে পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিতে হয়েছে। একই ধর্ম বাঙালিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ন্যায্য ভাগ নিশ্চিত করেনি, ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর ক্ষমতাও দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাঙালির বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল। সেই ইতিহাস খুব দূরের নয়। মুক্তিযুদ্ধের সাক্ষী মানুষ এখনো আমাদের মধ্যে আছেন, গণকবরগুলোও আছে, শহীদ পরিবারের মানুষও আছেন। তারপরও শুধু ধর্মের মিল যদি বঞ্চনা, প্রবঞ্চনা আর রক্তপাতের ইতিহাসকে পেছনে ঠেলে দেয়, তবে আমরা ইতিহাস শুধু ভুলে যাচ্ছি না, সেই সঙ্গে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতেও ভুলে যাচ্ছি। লেখক ও শিক্ষাবিদ হুমায়ুন আজাদ বহু বছর আগে একটি বাক্যে যে সতর্কতা লিখে গিয়েছিলেন, আজকের এই শিক্ষাবৃত্তির ঘটনা যেন আবার সেই কথাটিই মনে করিয়ে দেয়, “পাকিস্তানিদের আমি অবিশ্বাস করি, যখন তারা গোলাপ নিয়ে আসে, তখনও।”
তথ্যসূত্র:
১. পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন (HEC), Allama Muhammad Iqbal Scholarships for Students from Bangladesh, ২০২৬।
৫০০টি সম্পূর্ণ শিক্ষাবৃত্তি ও ঘোষিত সুযোগ-সুবিধার তথ্য।
২. পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ, History of the Parliament।
১৯৫৬ সালের সংবিধান, ১৯৫৮ সালের সামরিক আইন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য।
৩. পাকিস্তান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস, Population Census of Pakistan, ১৯৫১ ও ১৯৬১।
পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জনসংখ্যার সরকারি হিসাব। ১৯৫১ সালে পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ ও পশ্চিমাঞ্চলে ৩ কোটি ৩৭ লাখ; ১৯৬১ সালে যথাক্রমে প্রায় ৫ কোটি ও ৪ কোটি ২৯ লাখ।
৪. পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ, History of the Parliament।
১৯৫৬ সালের সংবিধান, ১৯৫৯ সালের নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচন, ১৯৫৮ সালে সংবিধান বাতিল ও সামরিক আইন এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য।
৫. মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, Foreign Relations of the United States, 1958–1960, Volume XV, South and Southeast Asia, Document 326, 9 October 1958।
১৯৫৮ সালের সামরিক ক্ষমতা দখল, নির্বাচন স্থগিত হওয়া এবং বাঙালির রাজনৈতিক প্রভাব, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অংশ নিয়ে সমকালীন মার্কিন কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা নথি।
৬. মোহাম্মদ নিয়াজ আসাদুল্লাহ, Educational Disparity in East and West Pakistan, 1947–71: Was East Pakistan Discriminated Against?, The Bangladesh Development Studies, ২০১০।
পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের শিক্ষাবৈষম্য এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যার পরিবর্তনসংক্রান্ত গবেষণা।
৭. পাকিস্তান সরকার, পরিকল্পনা কমিশন, Report of the Panel of Economists on the Fourth Five Year Plan (1970–75); এবং Federal Bureau of Statistics, Fifty Years of Pakistan in Statistics, 1947–97.
পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সরকারি ব্যয়, মাথাপিছু আয়, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যসংক্রান্ত ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান।
৮. মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, Foreign Relations of the United States, 1969–1976, Volume XI: South Asia Crisis, 1971।
১৯৭০ সালের নির্বাচন, আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, ১৯৭১ সালের রাজনৈতিক সংকট, জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত, সামরিক অভিযান এবং ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সমকালীন নথি।
৯. আর্চার কে. ব্লাড, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, Selective Genocide, Telegram 959, Dacca, 28 March 1971।
২৫ মার্চের সামরিক অভিযানের পর আওয়ামী লীগ সমর্থক, ছাত্রনেতা, শিক্ষক, বাঙালি ও হিন্দুদের লক্ষ্য করে হত্যার সমকালীন কূটনৈতিক বিবরণ।
১০. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ, The Proclamation of Independence, 10 April 1971।
২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কর্তৃত্ব এবং ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের সরকারি সাংবিধানিক দলিল।




