ঘর সংসার
চেয়েছিলাম একটা ঘর, আলপনা আঁকা। কথা থামিয়ে
তুমি বললে – একটা করবী ফুলের গাছ থাকুক উঠোন জুড়ে।
জোনাকিরা এসে বসুক গায় গায়, উপমা
আমি কোনো আপত্তি করিনি
তুমি বলতে জানালা ছোটো হলেও চলবে
যাতে অন্ধকারের হাত ছেড়ে ঘরে ঢুকতে পারে চাঁদ
তুমি নিজেই পর্দা বানিয়েছিলে যত্ন করে তাতে এঁকে ছিলে
সুতো দিয়ে দুটো পাখি আর উড়ন্ত ডানা। হাওয়া দুললে
তারা যেন আরও কাছাকাছি, বৃষ্টি পড়লে তারা ভেসে যায় জলের ছাঁটে
আর ঝড় উঠলে তো কথা নেই দুলতে থাকে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে
অথচ একটি রাত্রি আসলে অপেক্ষা, নক্ষত্র গন্ধ ভাসে জানালার ধার
যে জানালা খুলতে চাওনি তুমি তার কাছে হাওয়া এসে তো ফিরে যাবেই।
টেলিপ্যাথি
তোমাকে বলেছি তো ভালোবাসতে হলে কাছে আসা কিংবা দূরে যাওয়াটা জরুরি নয়
ভালোবাসা আসলে টেলিপ্যাথি ।মনে মনে হেঁটে গেলে
ঠিক গন্তব্যে যাওয়া যায়।
তোমাকে বলেছি না ভালোবাসতে হলে চাঁদ দেখতে হবে তেমনটাও নয়
অন্ধকারে ডুব দিয়েও আকাশ পাবে, পাবে এক ঝাঁক প্রেমিক প্রেমিকা নক্ষত্র,
অজান্তা গুহাঘর।
তোমাকে বলেছি তো অনুভূতি একটা নির্জন বৃষ্টির নাম
তোমার আঘাত আমাকে খাঁচার মতো ঘিরে আছে
তোমার দেওয়া দুঃখগুলো আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে
তুমি মনে করো প্রেম মানে নির্মাণ
জানো বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরে মুছে যাওয়া মেঘের গল্প বেয়ে
আমরা একদিন ধংসাবশেষ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকব কাছাকাছি




