কি ভাবে দেখা যায়
নারীর ভালোবাসা
যখন তখন অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে না,
তাই হয়তো দুধ, গুড় ফুরিয়ে গেলেও
মায়ের চোখে জ্বল – জ্বল করে ওঠে রোদ্দুর
চোখ ধাঁধানো আলোয়
মিলিয়ে যায় পুরুষের আদর
কিন্তু অকস্মাৎ দেখলে মনে পড়ে
মাঠ ভর্তি সোনালী ধান
মনে পড়ে তার আলো ঝরা হাসি
যা লেগে থাকে সদর দরজার গায়ে এখনও…
থমকে থাকে দিন
আমাকে যে একা ফেলে চলে গেল
সবকিছু নিয়ে
আমি তার পথে ফেলে আসি জ্যোৎস্না
আর বাতাসের ঝনঝনে হাসি থেকে
মা তুলে আনেন নতুন গুড়
সাপ লুডুর মতো মায়ের চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে
হেসে ওঠে বিশ্ব ভুবন, ছন্দে দুলে ওঠে আঙুল
আর,মায়ের গা থেকে খসে পড়ে পিঠে
গাঢ় শেষ গোধূলিতে উজ্জাপন হয়
আমাদের পৌষ সংক্রান্তি।
দশক থেকে দশক
তুমি বলেছিলে একদিন
আজকের দিনে বাড়ি ছেড়ে যেতে নেই
সেই তুমি আজ একটি চাঁপাফুল গাছ হয়ে
দাঁড়িয়ে আছো
উঠোন জুড়ে তোমার সুগন্ধ,
আঙুলের গিঁটেও তুমি
হাওয়া এসে বুকে লুটোপুটি খেলে
মনেপড়ে, বহু শতাব্দী ধরে
কিভাবে ওই অনাগত স্পর্শ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
তবে কি মিথ্যে ছিল
চূর্ণির ওপারে তুমি যে কিছুক্ষণ পাথর হয়েছিলে
সেই দৃশ্য আজও জেগে আছে
ঝড়ে, বিদ্যুতে
দশ বছর কেটে গেছে
অবিশ্বাস্য হাতে যাকে ভালোবেসেছি
সেই আজ ধর্নায় বসেছে, আমার বিরুদ্ধে
তবু আমি চাই,
আজ পৌষে তার ঘরে ধান হোক, চাল হোক
দুহাতের আঙুল জুড়ে সংক্রান্তির স্নান হোক…
আত্মশ্রম
সমস্ত দৃশ্য খেলা করে দূর দেশে
চুম্বকের মতো টেনে নিয়ে যায় আমায়
কিশোরী বয়েসের দিকে
কিন্তু বিষাদেরা তো পাথর
দাঁড়িয়ে থাকে মৃত্যুর পথ আগলে
তাই নকল মহড়ায় অভিনয়ের পালা
আজ যখন চুকে বুকে গেছে
ধুলোর সঙ্গে ধুলো করে উড়িয়ে দিলাম
তোমার শেষ প্রত্যাখ্যান
এখন গুঁড়ো গুঁড়ো বজ্রশব্দে চৌরাস্তার
মোড়ে উঠে আসছে
আমার ক্ষমতা ও দর্প একা।




