রাঙাবেলিয়ার চর

কোথা থেকে কোথায় ঝাঁপ দেওয়া যায়? নৌকো থেকে
নদীতে, না নদী থেকে নৌকোয়?

এই যেমন নৌকোভর্তি মধু আর গরানের কাঠ ঝাঁপ দিয়েছে
আমার শরীরে! অবাক জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে চতুর্দিক।
সঙ্গের বন্ধুটি ফুঁ দিচ্ছে উনুনে, তার কুণ্ডলীপাকানো ধোঁয়া
ভাসতে ভাসতে ঘিরে ধরছে রাঙাবেলিয়ার চর।

শরীরে কোথাও আর চর জেগে নেই, শুধুই
জোয়ার। আমি ছ’ঘেরির শ্রীমন্ত মৌলে, বাঘের গর্দানের ওপর
লাফ দিয়ে মধু পেড়ে আনি, তারপর হাটে হাটে ফেরি।
আমার ঘরেও আজ ঝাঁপ দিয়েছে সুন্দরবন, অচেনা মৌলে এসে
চুপিচুপি মধু খেয়ে যাচ্ছে।

কোথাও একটা ফিরতে তো হয়ই। কোথায়?
আধময়লা ধুতি আর ছেঁড়া গেঞ্জিটাও একসময়
ভার হয়ে যায়। বড় ভার! অবাক জ্যোৎস্নায়
বিস্তৃত জলরাশির ওপর ভেসে যায় নৌকোর জীবন।
হে বিস্তৃতজল তুমি ঝাঁপ দেবে কোথায়?

Facebook
Twitter
LinkedIn
Print
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!