কোন কোন মানুষ তাঁর দীর্ঘজীবনকে নিরলস সংগ্রামের সাথে অতিবাহিত করেন। নিপীড়িত মানুষ ও শ্রমজীবীদের রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংগ্রামে নিঃস্বার্থভাবে জড়িয়ে থাকা, অগ্রণী ভূমিকা রাখা সহজসাধ্য নয়। মাস্টার ইমান আলী বিপ্লবী আন্দোলনের সারথি, সহযোদ্ধা ছিলেন। আজীবন বামপন্থী প্রগতিশীল ধারার রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে উপমহাদেশের বামপন্থী আন্দোলনের নেতা, প্রবাদতুল্য কমরেড আব্দুল হকের রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে দুঃসাধ্য কর্মযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন। কাল পরিক্রমায় তাঁর বিপ্লবী কর্মের অনেক কিছুই নবকালের বিপ্লবীদের অনুপ্রাণিত করবে।
আমার সাথে যখন পরিচয় হয়েছিলো, তখন আমার কিশোরকাল ছিলো। কপিলমুনি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়বার সময় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সক্রিয় হয়েছিলাম। আর বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির ( গোপন সংগঠন) সার্বক্ষণিক কমরেডগণের পাঠচক্রে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করেছি। মানস চিন্তায় বিপ্লবী হবার আকাঙ্খা তীব্র ছিলো। মনে পড়ে, ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরের কোন এক বিকেলে কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দিরের মাঠে অভূতপূর্ব বক্তব্য শুনে চমকে উঠেছিলাম। কি বিশুদ্ধ উচ্চারণ, বাক্যের প্রক্ষেপণে প্রখর শক্তি, জনজীবন সম্পর্কে নতুন ব্যাখ্যা, কৃষক-শ্রমিকের সমাজ গঠনে করণীয় নিয়ে প্রায় ঘন্টাখানেক একজন নেতা বক্তব্য রাখলেন। নিভৃত পল্লী বিল খালের পাশে বসবাসকারী নিম্নবর্গের কয়েকশত মানুষ ঘাসের উপর বসে সেই বক্তব্য শুনছেন। আর মাঝেমধ্যে শ্লোগানে মুখরিত করছেন, সমস্বরে উচ্চধ্বনি প্রবাহ মাঠ পেরিয়ে উদার আকাশভূমির সাথে মিশে যাচ্ছে। সেই মানুষগুলোর চোখেমুখে প্রশান্তি। লুঙ্গি/পায়জামা পরিহিত মানুষের শরীরে জড়ানো ছিলো শীতের পোশাক, কিছুটা মলিন, কিছুটা অতিব্যবহৃত বসন। আমি কৌতূহল হয়ে উঠেছিলাম। সভায় আগত লোকের সাথে বক্তা যেন একাত্মা হয়ে গেছেন। সেদিন শুনলাম সাম্রাজ্যবাদের কথা। সেটি ছিল সাম্রাজ্যবাদ, সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, সংশোধনবাদ প্রসঙ্গ। কৃষক শ্রমিকের ফসল নামমাত্র মূল্যে কিনে, কিভাবে মধ্যসত্ত্বভোগীরা লাভবান হয়। চূড়ান্ত লাভবান কারা হয়? কিভাবে ব্যবসার মাধ্যমে উৎপাদনের সাথে জড়িত মানুষেরা অসহায় হয়ে পড়ে। সেই মানুষগুলো ‘ভুড়িওয়ালা, চর্বিওয়ালা, পুঁজিওয়ালা, টাকাওয়ালা’ এবং তারাই ‘শোষকওয়ালা’। এযেন কবিতার ছন্দ! উদ্ধৃতি করছেন কবি নজরুল, কবি সুকান্তের কবিতা থেকে। আবার ফিরে যাচ্ছেন কিভাবে সমাজ, রাষ্ট্রের জনগণ শ্রেণি বিভক্ত হয়ে পড়ছে। কিভাবে গ্রামীণ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, জীবনের সাথে সম্পর্কহীন প্রসাধনের আগ্রাসনের কথা বললেন।
তাঁর এই অভিভাষণ শুনতে শুনতে মুগ্ধ ও তন্ময় হয়ে পড়েছিলাম।
‘পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রূটি’
আবার শুনলাম,
নাগিনীরা চারিদিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস..
আরো শুনলাম,
তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
গাঁয়েগঞ্জে রাতের ওয়াজমাহফিলের বক্তব্যের সাথে এই বক্তব্য ছিলো একদম ভিন্ন। সমাজের চরম দরিদ্র মানুষের কথা বলছেন। সকল সম্পদ মুষ্টিমেয় কয়েকজন গ্রাস করছে একের পর এক। এই সমাজ বদলাতে হবে। তিনি বললেন, কামার, কুমোর, তাঁতী, জেলে, নিকারি, কৃষক শ্রমিক সহ মেহনতির কথা।
আমি এখনও ভেবে পাই না, এত উচ্চকণ্ঠে এসব কিভাবে বললেন? এই সাহসী তেজস্বী বক্তা-বাগ্মীর নাম মাস্টার ইমান আলী। তিনি দক্ষিণ পশ্চিম জনপদে কৃষকের মুক্তি সংগ্রামের বিরল সংগ্রামী মনীষী মানব। আমার সহপাঠী আলাউদ্দিনের মাধ্যমে বহু কমরেডের সাথে নানাসময়ে দেখা হয়েছিলো। সেদিনের সভাটির মূল সাংগঠনিক কাজটি তার নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়। অবাক বিস্ময়ে দেখেছিলাম, কৃষকের পদচারণায় মাঠ ভরে গেছে।
খুলনার ঐতিহ্য সমৃদ্ধ স্থান কপিলমুনি। বহু সিদ্ধাচার্য, মুণি ঋষি, সন্নাসী, নাথ, পীরের নিদর্শন অত্র জনপদকে করেছে তাৎপর্যপূর্ণ। সুন্দরবনের সন্নিকটে, কপোতাক্ষের প্রবল প্রবাহ মিশেছে শিবসার খরস্রোতে, সেই প্রবাহের মিলন হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। সিদ্বেশ্বরী কালিমন্দির, তৎসংলগ্ন পুণ্যস্নানস্থল, বারুণী মেলা, অপরদিকে পীরের সমাধি। কিছুদূরে দমদম এলাকায় বৌদ্ধ সিদ্বাচার্য বিহারের ধ্বংসস্তূপ। সপ্তাহে বাজার বসে রবিবার ও বৃহষ্পতিবার। খুলনা, ঢাকা, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা উন্মুক্ত হাট থেকে জিনিসপত্র ক্রয় করে নিয়ে যায় নৌকায় করে। আর ডাঙায় চলে গরুর গাড়ি।
বাজারে কিভাবে ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধভাবে জিনিসপত্রের ন্যায্যমূল্য কমিয়ে দেয়, সেকথাও বক্তব্যে মাস্টার ইমান আলী বুঝিয়েছিলেন।
১৯৮৮ সালে সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যশোরে গিয়েছিলাম। আমি তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সক্রিয় ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলাম। যশোরে যাবার পর দড়াটানার পাশে একটা হোটেলে উঠেছিলাম। এসময়ে পরিচয় হয় তারিকুজ্জামান নান্নু, বেনজীন খানসহ ছাত্রনেতাদের সাথে। যশোর টাউনহল ময়দানে প্রচুর ছাত্রের সমাবেশ হয়েছিলো। সেই সমাবেশে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের কয়েক হাজার উপস্থিতি ছিলো।
সমাবেশে কি বক্তব্য রেখেছিলাম, তা মনে নেই! তবে পরদিন আমার বক্তব্য কোড করে সংবাদ ও স্থানীয় পত্রিকায় ছাপানো হয়েছিল। সমাবেশের পর যশোরের মাইকেল মধুসূদন দত্ত কলেজসহ শহরের প্রসিদ্ধ স্থান দেখেছিলাম। দড়াটানার পাশে স্রোতহীন ভৈরব নদী দেখে মনটা হাহাকার করে ওঠে। বিকেলে খড়কির পীর বাড়ি দেখলাম। এই বাড়ির কথা পূর্ব থেকেই জানতাম।
সন্ধ্যার সময় ঘোপে গেলাম বাগ্মী জননেতা মাস্টার ইমান আলীর বাসায়। বড় হাতাওয়ালা স্যান্ডোগেঞ্জি এবং লুঙ্গি পরিহিত ছিলেন। সামনে পান সুপারি চুনের ডিব্বা। প্রচুর পান খেয়ে থাকেন। আমাকে দেখে উঠে এসে জড়িয়ে ধরলেন। আমার কাছে মনে হলো, এই আলিঙ্গন একজন পিতার। তারপর থেকে পিতার মতো তাঁকে সবসময় গভীর শ্রদ্ধা করেছি ।
মাস্টার ইমান আলী, কিংবদন্তী কৃষকনেতা বাসগৃহে বসেছি। তাঁর টেবিলের উপর বেশ কিছু বই, কয়েকটি খাতা, আর কলম দেখলাম। আর সামনে রেখেছেন মার্কস-এঙ্গেলসের ‘কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার’, আলী হোসেনের (কমরেড আব্দুল হক) ‘যত রক্ত তত ডলার’, কয়েকটি সেবা পত্রিকা। আর দেখলাম, খাতায় কবে কোথায় বক্তব্য দেবেন, তা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। আর বিভিন্ন কবিতার অংশবিশেষ, বক্তৃতার সারসংক্ষেপ খাতায় লিপিবদ্ধ ছিলো। আর ঘরজুড়ে আছে পত্রিকার কাটিং। সামনে এলো যশোরের মিষ্টি ও আরও কিছু। আর চা-নাস্তার সময় তিনি বলে গেলেন যশোরের রাজনৈতিক ইতিহাস, তাঁর জীবনের নানাদিক। আমিও সেইসব তথ্য ও তাঁর বলা কথাগুলো মনদিয়ে শুনেছিলাম।
মাস্টার ইমান আলী ১৯৪৫ সালে মেট্রিক পাশ করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত তথা দেশভাগের পর ভাষা আন্দোলন বিভিন্ন জেলাসহ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। যশোরে ভাষা আন্দোলনে তিনি প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভাষা আন্দোলন উত্তর যশোরে শহীদ মিনার নির্মাণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। বহুবার পাক-সরকারের পেটোয়া বাহিনী কর্তৃক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। যশোরের ভাষা আন্দোলনে সংগ্রামী ভূমিকার জন্য তিনি ভাষা সৈনিক হিসেবে ইতিহাসের অংশ হয়েছেন। যশোরের উন্নয়ন ও বিভিন্ন সেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত হয়েছেন। ১৯৫৯ সালে যশোরে এমএম কলেজ, খুলনার বেতকাশীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও তিনি অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগী ছিলেন।
১৯৫৬ সালের পর মাওলানা ভাসানীর সাথে রাজনীতিতে যোগ দেন। পঞ্চাশের প্রথম দিকে যশোরে সিভিল সাপ্লাইয়ারের ইসপেক্টর হিসেবে সরকারি চাকুরী করতে থাকেন। তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনে সরব থাকায় পাক-সরকার তাঁকে চাকুরিচ্যুত করে। তিনি যাতে কোথাও কোন সরকারী চাকুরী করতে না পারেন, তার রাজটিকা দেওয়া হয়। আর কোন সরকারি চাকুরী করা হয়নি। পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তিনি আরো সংগ্রামী হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে যশোরে ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে তাঁর সংগ্রাম অগ্রগণ্য বলে সকলে মনে করেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর নির্মম গণহত্যার বিরূদ্ধে নিষিদ্ধঘোষিত বামপন্থী সংগঠনকে নিয়ে প্রতিরোধ আন্দোলন করেন। বিভিন্ন অপারেশনে সশস্ত্র প্রগতিপন্থীদের সাথে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অংশ নেন। পশ্চিম পাকিস্তানের সেনাবাহিনীসহ রাজাকার আলবদরদের অত্যাচার, নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের বিরূদ্ধে তিনি লড়াই-সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর তিনি প্রগতি বামপন্থীদের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৭৫ সালের পর রাজনৈতিক পালাবদলে বাম-প্রগতিশীলরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যায়। কেউ কেউ সরকারি দলে যোগদান করেন। মাস্টার ইমান আলীকেও যুক্ত করবার প্রয়াস ছিলো। কিন্তু তিনি আপোষহীন বিপ্লবী, কোন লোভ লালসায় নিজেকে বিকিয়ে দেননি। তাঁর বহু সতীর্থরা বিভিন্ন ভাবে সরকারের সুবিধাভোগী হয়েছিলেন। তিনি এসবে সংযত থেকেছেন, প্রগতি আদর্শে নিজেকে সমর্পিত হয়েছেন।
১৯৮০ সালে কৃষক সংগ্রাম সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এই সংগঠনের মাধ্যমে বহ প্রান্তে পল্লী মানুষকে সংগঠিত করেছেন। রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাঁর সাথে আমার সক্রিয় যোগাযোগ ছিলো। সাপ্তাহিক সেবায়’ আমার লেখা মাঝেমধ্যে প্রকাশিত হতো। সেইসব লেখা তিনি পড়তেন। আর যখন দেখা হতো, তখন আমার লেখার প্রশংসা করতেন। মনে পড়ে, ঝিনেদায় কৃষক সম্মেলনে আমার লেখার অংশবিশেষ বক্তৃতা দেবার সময় তিনি উপস্থাপন করেছিলেন। প্রবন্ধটির শিরোনাম ছিল ‘সংগঠন ও নেতৃত্ব’।
‘যারা উদ্যোগী সৃষ্টিশীল— তাদের ভুলত্রুটি হওয়া এমন কিছু নয়। আর নেতৃত্ব যদি পদলোভী, অর্থলোভী, মিথ্যাবাদী, কপট, পাদলেহনকারী, তোষামোদকারী, ধূর্ত হয়, তাহলে সেই পার্টি আদর্শিক হবে না।’ একথা সকলের সম্মুখে কৃষক সমাবেশে উপস্থাপন করেছিলেন। তখন আমি রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় ছিলাম না। যশোরের একটা সমাবেশের পর অনেকের সামনে তিনি ইচ্ছে প্রকাশ করলেন, আমাকে দিয়ে একটা যুব সংগঠন গড়ে তুলবেন। তাঁর সরল অভিব্যক্তি ও গভীর মমত্ববোধে আমি অভিভূত হয়েছিলাম। পরে আমার পক্ষে আর যুব সংগঠন গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।
আমি ও তাঁর (মাস্টার ইমান আলী) সন্তান কবি মোজাফফর হোসেন বাবু একসাথে নব্বইয়ের ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম। সংগ্রামের নানা চড়াই-উৎরাইয়ে তিনি পিতার আদর্শে উজ্জীবিত থেকেছেন। একজন স্বনামধন্য কবি ও সাহিত্য সংগঠক তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয়।
বিশ্বব্যাপি যে সীমাহীন শোষণ প্রক্রিয়া চলছে, সেই প্রক্রিয়ার একটা বই ১৯৯৫ সালে পড়ার সুযোগ হয়েছিল। এই বইটি মাস্টার ইমান আলী উপহারস্বরূপ আমাকে দিয়েছিলেন। সেই বইয়ের একটা উদ্ধৃতি কেন জানি এখনও বার বার মনে পড়ে, ‘একটা জাতি যত বেশি ঋণগ্রস্ত, তত সে ধনী। পাবলিক ক্রেডিট হয়ে দাঁড়ায় পুঁজির বিশ্বাসমন্ত্র’। (মার্কস, পুঁজির উদ্ভব)।
আমদের প্রত্যেকের জীবনে চলার পথে কত মানুষের পরিচয় হয়, কতরকম কথা হয়। সেসবের কোন হিসেব না থাকলেও কিছু কিছু সময়ের কিছু মুহূর্ত আমাদের স্মৃতি কাতর করে তোলে। মহান মাস্টার ইমান আলীর সাথে আমার সম্পর্ক যতটা রাজনৈতিক, ঠিক ততোধিক গভীর আবেগের ছিলো। সামাজিক-রাজনৈতিক ভাবে আমি তাঁকে একজন আপোষহীন জাগ্রত মানুষ হিসেবে দেখি। তাঁর নেতৃত্বে যশোর-খুলনায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসনে বিল ডাকাতিয়া ও ডুহুরি কৃষক আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল। যা এক বিরল ইতিহাস।
২৬মে তাঁর ১৮তম প্রয়াণ দিবস। আমরা জানি বিত্ত বৈভবের অসীম শক্তির দৌরাত্ম্যের ডামাডোলে সত্যিকার দেশপ্রেমিক মানুষ পর্যায়ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাঁদের প্রকৃত মৃত্যু নেই। তাঁরা আমাদের শৌর্যশক্তি দিয়ে গেছেন। আমরা তাঁদের আলোকিত ভুবনে বসবাস করছি। তাই তো এমন আদর্শবান মানুষদের অকপটে স্মরণ করি, তাঁদের মহত্ত্বকে তুলে ধরি। এই মহৎ মানব মাস্টার ইমান আলী।
কৃষক শ্রমিক জনতার নিকট মাস্টার ইমান আলী রাজনৈতিক সৃজনশীল মানুষ হিসেবে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।




