জাতিসংঘের কালো তালিকায় পাকিস্তান ও ইউনুস গোষ্ঠীর নাম থাকা উচিৎ

জাতিসংঘের কালো তালিকায় পাকিস্তান ও ইউনুস গোষ্ঠীর নাম না থাকায় বিস্মিত হয়েছি। দেখলাম, যুদ্ধ ও যৌন নৃশংসতায় ইসরাইলকে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তখন ভাবতে হয়, পাকিস্তান কেন নয়?

বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে। এসব নিয়ে ভাবতে হবে, প্রতিকার করতে হবে। জাতিসংঘ যৌন নির্যাতন, নৃশংতার জন্য ইসরাইলকে কালো তালিকা করে, একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা ধর্ষণ সহিংসতায় জড়িত ছিলো। জাতিসংঘ পূর্বের ইতিহাসকে আমলে নিয়ে পাকিস্তানকে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। সেটার জোর দাবীও জানাই। ইতিপূর্বে অর্ধশত প্রতিষ্ঠান, দেশ, সংস্থা কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে অন্তবর্তীকালীন সরকার ড. মুহম্মদ ইউনুসের সময় ভয়াবহ নৃশংসতার দৃশ্য সকলেই দেখেছে। তারই ধারাবাহিকতা সমকালেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সহিংসতার কারণে মুহম্মদ ইউনুস, তার প্রতিষ্ঠান, তল্পিবাহকরা কালো তালিকায় সংযোজিত হতেও পারে। এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাবে না।

এজন্য কয়েকটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হলো।

বাংলাদেশে অপরিকল্পিত মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার পাঠ্যসূচি কেমন, কি পড়ানো হয়, তার নির্দিষ্ট কারিকুলাম কি? এই বিষয়ে তথ্য নিশ্চয়ই আশান্বিত করবে না। মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যযুগে মাদ্রাসা শিক্ষা জ্ঞান-বিজ্ঞানের পথে অগ্রসর হয়েছিলো। কিন্তু ধর্মান্ধতার কারণে সেই শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক কালে প্রসারলাভ করতে পারেনি। বাংলাদেশে যেখানে সেখানে মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। সেইসব মাদ্রাসায় থাকার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কিন্তু তাদের পাঠ্যপুস্তক সম্পর্কে দায়িত্বশীল শিক্ষা মন্ত্রণালয় কখনোই সঠিক দায়িত্ব পালন করেনি।

মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বস নেমেছে। তার পরিবর্তে লুটেরা পুঁজিপতিরা প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে । তার মূল লক্ষ্য মুনাফা। এইসব পুঁজিপতিরা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, সভাপতি হয়ে থাকেন। লুটেরা ধনিকরা সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার পরিবর্তে কৌশলে দ্বন্দ্ব ফ্যাসাদ লাগিয়ে দেয়। অসংখ্য শিক্ষার্থীরা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তখন ছুটে যায় প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

নাজুক শিক্ষা ব্যবস্থায় গরীব মানুষের সন্তানরা যত্রতত্র গড়ে ওঠা মাদ্রাসায় পড়তে যায়। হতদরিদ্র বালক-বালিকা, কিশোর-কিশোরিরা কথিত ‘হুজুরদের ‘ ফরমায়েস রক্ষা করতে দানবাক্স নিয়ে দৌড়ায়। আর নিরূপায় হয়ে কথিত হুজুরদের পাশবিকতার শিকার হয়। কয়টি তথ্যই-বা জানা যায়? ধর্ষণ ও সহি়ংসতার সিংহভাগ সংবাদ অপরিকল্পিত মাদ্রাসায় ঘটছে। পশ্চাৎপদ শিক্ষার কারণে মাদ্রাসার কিছু কথিত ‘হুজুর’রা পাষণ্ড হয়ে উঠেছে। এইসব কূপমণ্ডুকরা ঐতিহ্যবাহি মাদ্রাসা শিক্ষাকেও কলুষিত করেছে।

অন্যত্র আরও কিছু ঘটনা দৃশ্যমান হয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সামাজিক অবক্ষয় চূড়ান্তরূপে দায়ী। আইনের শাসন যখন প্রতিহিংসায় পরিণত হয়, তখন শাসকবর্গের ছত্রচ্ছয়ায় দুবৃত্তায়ন চরম আকার ধারন করে।

অন্তবর্তী সরকারের সময়কালের দুঃশাসনকে ঢাকা দিতে এই সমস্ত অপকর্ম হচ্ছে কিনা, তা তলিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইউনুস সরকারের অপকর্মের দায়ভার তৎকালীন উপদেষ্টারা ‘চিকেন কেবিনেট’ নামক অদৃশ্য শক্তির উপর দায় চাপাচ্ছে। সারাদেশে কি কি ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছ, তার ফিরিস্তি সকলেই কমবেশি জানেন।

সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলি সুদূরপ্রসারী কোন পরিকল্পনার ছক বলে মনে হয়েছে। যা বিএনপির সরকারকেও বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। বিশেষতঃ ইউএসএ-র ডিপস্টেট-চুক্তি ও তা বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে অপকৌশল হতে পারে। আবার বিরোধী দলগুলোকেও একেবারে ধোয়া তুলশি পাতা ভাববার কোন কারণ নেই।

বাংলাদেশে যৌন নির্মমতা, রাজনৈতিক নিপীড়ন, মুক্তচিন্তার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মাধ্যমে লুটেরা চক্র দেশের সীমাহীন সংকটকে আড়াল করতে চায়। বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা কাম্য নয়। অনাহারে অভুক্ত কৃষক শ্রমিকদের জীবন মানের উন্নয়ন ধূসর হয়ে গেছে। তবুও আশাকরি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাশবিক ও নৃশংসতার সাথে জড়িতরা চরম শাস্তি পাবে।

একইসাথে প্রত্যাশা করি, বাংলাদেশে ইউনুস সরকারের সময়কালের সহিংসতাকে গুরুত্ব দিয়ে ‘ইউনুস, তার দোসর ও প্রতিষ্ঠান’ এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানের নৃশংসতাকে আমলে নিয়ে’পাকিস্তান’কে কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য জাতিসংঘ যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।#

Facebook
Twitter
LinkedIn
Print
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!