জননী,
তুমি সর্বংসহা মা।
দুঃসময়ের বাঙালির কাছে
মমতার আরেক নাম।
কত সন্তানের অশ্রু,
কত ইতিহাসের ক্ষত
নিজের আঁচলে নীরবে
আগলে রেখেছ।
মধুমতীর তীরে তোমার জন্ম।
তারপর নদীর মতোই
কখনো খরস্রোতা,
কখনো শান্ত, সুস্থির।
ঘাট থেকে ঘাটে
জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে
অবশেষে ধানমণ্ডি।
শৈশবেই হারিয়েছ
জন্মদায়িনী মা, জন্মদাতা পিতাকে।
তবু লুৎফর-সায়েরার স্নেহে
মমতার অভাব হয়নি।
হয়তো তখনই
সময় লিখে রেখেছিল—
একদিন
একটি জাতি
তোমার মুখেই
মায়ের মুখ খুঁজে নেবে।
সর্বজয়া,
সর্বংসহা রেণু মা।
তুমি আগলে রেখেছিলে
তোমার খোকাকে,
সন্তানদের,
সংসারকে,
একটি স্বপ্নকে।
কিন্তু ঘাতকের বুলেট
যখন তোমার বুক বিদীর্ণ করল,
ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল
একটি পরিবারের আঁচল।
একজন একজন করে
ঝরে পড়ল
তোমার আপনজন।
রেণু মা,
আমরা পারিনি
সেই ভোররাতে
তোমাদের আগলে রাখতে।
ঘাতকের বুলেটে
ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল
একটি পরিবারের আঁচল।
আজও
দুঃসময়ের রাতে
বাংলার বহু সন্তান
অজান্তেই
সেই আঁচল খোঁজে।




