স্বামী হারানোর পরও কেন কাঠগড়ায় এথিনা?

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বামী ইরফানকে হারিয়ে এথিনা যখন শোক ও বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। একজন মানুষের আত্মহত্যা নিঃসন্দেহে মর্মান্তিক। কিন্তু সেই মৃত্যুর সবচেয়ে বড় ক্ষত যাদের বহন করতে হয়, তাদের একজন তারই স্ত্রী। স্বামী হারানোর পর সেই স্ত্রীকেই যদি প্রমাণ ছাড়াই দোষী করা হয়, তার চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে?

২২ জুলাই গুরুতর অবস্থায় ইরফানকে পাওয়ার পর এথিনা ৯১১-এ ফোন করেন। তাকে ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং
আট দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর ক্যালিফোর্নিয়ার Santa Clara County Medical Examiner-Coroner-এর নথিতে তার মৃত্যুর ধরন স্পষ্টভাবে ‘Suicide’ উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুর চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক কারণও সেখানে নথিবদ্ধ রয়েছে।

ইরফানের মরদেহ প্রথমে ক্যালিফোর্নিয়ায় দাফনের কথা থাকলেও ৫ আগস্ট তাঁর বাবা-মায়ের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে দাফনের বিষয়ে এথিনা সম্মতি দেন। ৭ আগস্ট ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর ইরফানের পরিবারের পক্ষ থেকে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের অনুরোধ করা হয়। এথিনা স্বামীর মরদেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে সম্মত নন। তবে বাংলাদেশে মরদেহ নিয়ে দাফনের বিষয়ে তার কোনো আপত্তি নেই। বিষয়টি বর্তমানে উভয় পক্ষের আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এখন পর্যন্ত এমন কোনো নথি সামনে আসেনি যে ইরফান জীবদ্দশায় তার স্ত্রী এথিনার বিরুদ্ধে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো অভিযোগ করেছিলেন। তাহলে কোন তথ্য বা প্রমাণের ভিত্তিতে এথিনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমান ও হেনস্তা করা হচ্ছে?

আত্মহত্যার পেছনে মানসিক সংকট, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি কিংবা আরও নানা জটিল কারণ থাকতে পারে। সেই কারণ অনুসন্ধানের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। একজন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন বলেই তার স্ত্রীকে সেই মৃত্যুর জন্য দায়ী করা যায় না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, ইরফান ও এথিনার পরিচিত বা বন্ধু দাবি করে কেউ কেউ নানা বক্তব্য লিখছেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মেডিকেল নথিতে যে ফলাফল এসেছে, তার বিপরীতে অভিযোগ তুলতে হলে প্রমাণও থাকতে হবে। বন্ধুত্বের দাবি কি একজন শোকাহত নারীর বিরুদ্ধে যাচাইহীন অভিযোগ ছড়ানোর অধিকার দেয়?

ইরফানের মৃত্যু নিয়ে কারও সন্দেহ থাকলে আইনি পথ খোলা আছে। প্রমাণ থাকলে তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া হোক। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া একজন সদ্য স্বামীহারা নারীকে সামাজিক বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো মানে সত্যের অনুসন্ধান করা নয়। স্বামীকে হারিয়েছেন এথিনা। এখন কি তাকে জনে জনে নিজের নির্দোষিতাও প্রমাণ করে বেড়াতে হবে?

প্রমাণ ছাড়া অভিযোগের এই নিষ্ঠুরতা বন্ধ হোক। #

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on print
Print
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!