রানা চক্রবর্তী

ইতিহাস অনুসন্ধিৎসু একজন সাধারণ মানুষ।

ইতিহাসের আলোয় গঙ্গাসাগর ও পৌষপার্বণ

ভারতীয় বৈদিক সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গঙ্গাসাগরসঙ্গম বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাতীর্থ। অতি প্রাচীনকাল থেকেই অধ্যাত্ম পথের সাধক, মুনিঋষি ও সাধুসন্তরা গঙ্গার তটভূমিতে আশ্রয় নিয়ে নিজেদের পরম প্রাপ্তি লাভ করে চলেছেন। একারণে সুদূর অতীত থেকে গঙ্গার উভয় তীরে অগণিত মঠ, মন্দির, দেবালয়, তীর্থক্ষেত্র গড়ে উঠেছে। শাস্ত্র বলে যে, গঙ্গাতীরে যাগ-যজ্ঞ, শাস্ত্রপাঠ, দান, তপস্যা, জপ, শ্রাদ্ধকৃত্য, দেবতা পূজন…

Read More

সমকালীন সংবাদপত্রে বিধবাবিবাহ 

ঊনিশ শতকের বাংলায় বিধবাবিবাহ আন্দোলনের সময় থেকেই বাংলার জনচিত্ত যে প্রকৃত অর্থে আলোড়িত হয়ে উঠেছিল, একথা তখনকার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত জনমতের আধিক্য থেকেই বুঝতে পারা যায়। এপ্রসঙ্গে ১৮৫২ সালের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় সর্বপ্রথম একটি মজার চিঠি প্রকাশিত হয়েছিল বলে দেখা যায়। বিধবাবিবাহের বিষয়ে মতামত প্রকাশের অভিনবত্বের বিচারে এবং বর্তমানে রীতিমত দুষ্প্রাপ্য হওয়ার কারণে উক্ত চিঠিটির…

Read More

বেদের উপরে নারীর অধিকারের পরিবর্তন

প্রাচীন ভারতের শাস্ত্রশাসিত সমাজে বেদপাঠে নারীর আদৌ কোন অধিকার ছিল কিনা, এবিষয়ে প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থগুলিতে, এবং এমনকি বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের প্রদত্ত তথ্যে প্রধানতঃ দুটি পরস্পরবিরোধী মত দেখতে পাওয়া যায়। এরমধ্যে একটি মতানুসারে প্রাচীন ভারতের নারীরা বেদের অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা বা বৈদিক যাগযজ্ঞের অনুষ্ঠান, সাবিত্রী মন্ত্র, প্রণব, যজুর্মন্ত্র প্রভৃতি উচ্চারণ করবার অনধিকারী ছিলেন। “সাবিত্রীং প্রণবং যজুলক্ষ্মীঃ স্ত্রীশূদ্রায়…

Read More

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ও বাংলা শিশুসাহিত্য

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীকে যাঁরা তাঁর জীবদ্দশায় প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তাঁদের প্রায় সকলেরই স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায় যে, বিভিন্ন জায়গায় তাঁর উপস্থিতির মধ্যে এমন একটা কর্তৃত্বের ভাব থাকত যে, অন্যরা তাঁকে গুরুত্ব না দিয়ে পারতেন না। তবে এত গুরুত্ব পাওয়া সত্ত্বেও তাঁর আচরণ অবশ্য খুবই অমায়িক ছিল, এবং তিনি সহজেই অন্য কারো বন্ধু হয়ে যেতে পারতেন। তিনি দেখতে…

Read More

বাংলা গদ্যসাহিত্যের ইতিহাসে বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর

খৃষ্টীয় ঊনিশ শতকের বাংলায় যাঁরা বাংলা গদ্যসাহিত্যের সযত্ন চর্চা করেছিলেন, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৭০-১৮৯৯) তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তিনি বাংলা ভাষার অনুশীলনে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গবেষকদের মতে, মাত্র ঊনত্রিশ বছরের স্বল্পস্থায়ী জীবনে বলেন্দ্রনাথ যে গদ্যকীর্তি রেখে গিয়েছেন, তা ভাষানৈপুণ্যে অতুলনীয়। কিন্তু এখানে বলেন্দ্রনাথের লিখিত প্রবন্ধাবলীর মূল্য নিরূপণ করা সম্ভব নয়…

Read More

যৌবনের বিভূতিভূষণ

বিভূতিভূষণ যখন কলেজে তৃতীয় বার্ষিক শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন, তখন খুব সম্ভবতঃ ১৩২৩ বঙ্গাব্দে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। পাত্রী ছিলেন—তৎকালীন বসিরহাটের মোক্তার পানিতর গ্রামের কালীভূষণ মুখোপাধ্যায়ের কন্যা গৌরী দেবী। এই বিবাহের সময়ে বিভূতিভূষণের বয়স তেইশ-চব্বিশ বছর ছিল বলে এসময়ে তাঁর মধ্যে থাকা রোম্যান্টিক কল্পনা যে নববধূকে কেন্দ্র করেই বিকশিত হয়ে উঠেছিল, এবিষয়ে সন্দেহর কোন অবকাশ নেই।…

Read More

নবাবী আমলে বাঙালির সাহিত্য ও ভাষাচর্চা

বাংলা সাহিত্যের গবেষকদের মতে, খৃষ্টীয় অষ্টাদশ শতকের বাংলা সাহিত্যে বৈচিত্র্য থাকলেও এতে প্রধানতঃ সপ্তদশ শতকের জের টানা হয়েছিল। এসময়ে ধর্মমঙ্গল, কৃষ্ণলীলা, রামায়ণ-কাহিনী, ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের কাহিনী প্রভৃতি বাঙালি কবিদের উপজীব্য হয়ে উঠেছিল। তাছাড়া ভাগীরথী-তীরবর্তী বাঙালি নাগরিক সমাজে তখন বিদ্যাসুন্দরের প্রণয়-কাহিনী জনপ্রিয় ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, নবাবী আমলের বাংলার প্রধান তিনজন কবি ছিলেন—রামেশ্বর ভট্টাচার্য, ভারতচন্দ্র রায় এবং রামপ্রসাদ সেন।…

Read More

জীবনের ব্যথা থেকে বিদ্রোহ: কবি নজরুলের সাহিত্যভুবন

কালবৈশাখী ঝড় যেমন নিজের সহজ ও প্রবল আত্মপ্রকাশে চকিত আবির্ভাবে বিশ্বসংসারকে একেবারে অভিভূত করে দেয়, ঠিক এরকমভাবেই আধুনিকযুগের বাংলা কাব্যজগতে একদা কাজী নজরুল ইসলামের চমক লাগানো আবির্ভাব ঘটেছিল। এই জগতে আবির্ভুত হয়ে তিনি প্রথমেই নতুনের কেতন উড়িয়ে দিয়েছিলেন, আর তারপরে মহাকবি রবীন্দ্রনাথের চরণে নিজের প্রণতি রেখে অনুরাগভরা দৃষ্টিতে কবিঅগ্রজ সত্যেন্দ্রের দিকে তাকিয়েছিলেন। আর এর বদলে…

Read More

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে সুভাষচন্দ্র ও হাওড়া জেলা

রবিদাস সাহারায় তাঁর ‘আমাদের শরৎচন্দ্র’ গ্রন্থে জানিয়েছিলেন যে, সুভাষচন্দ্র দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনকে নিজের রাজনৈতিক গুরুপদে বরণ করে নেওয়ার আগে হাওড়া শহরের বাসিন্দা কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁকে নিজের রাজনৈতিক গুরুপদে বরণ করে নিয়েছিলেন। প্রসঙ্গতঃ স্মরণীয় যে, ১৯২১ সালে দেশবন্ধুই শরৎচন্দ্রকে হাওড়া জেলা কংগ্রেসের সভাপতি করে দিয়েছিলেন। (আমাদের শরৎচন্দ্র, রবিদাস সাহারায়, পৃ: ১০৯ ও ৯৭) এসময়ে সুভাষচন্দ্র ও…

Read More

প্রাচীন থেকে আধুনিকযুগে বাঙালির পত্রচর্চা

বাঙালির পত্র রচনার ইতিহাস কম প্রাচীন নয়। বর্তমানে বিজ্ঞানের অবদানের জন্য চিঠিপত্রের প্রয়োজন অনেকটাই কমে গিয়েছে। কিন্তু এখন থেকে কিছুকাল আগেও বাঙালি চিঠি লিখত, এমনকি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে পত্র-সাহিত্য বলে একটি আলাদা বিভাগও রয়েছে। এই সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধে অতীতের বাঙালির পত্রচর্চার কিছু ইতিহাস তুলে ধরবার চেষ্টা করা হল। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর একটি…

Read More

প্রাচীন ভারতে বিষকন্যা

বিষকন্যা নামটি উঠলেই, প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের সাথে যাঁরা মোটামুটি পরিচিত, তাঁদের মানসে যে দুটি নাম ভেসে উঠবে, সেগুলি হল— চাণক্য ও চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য। কিন্তু ইতিহাস বলে যে এই বিষকন্যার ব্যাপারটি কিন্তু সেই আমলের থেকেও বেশি প্রাচীন। অর্থাৎ— মৌর্য্য আমলের আগেও ভারতে বিষকন্যা ছিল, হঠাৎ করেই সেযুগেই বিষকন্যার উৎপত্তি হয়নি। বস্তুতঃ বিষকন্যারা কিন্তু মহাভারতের যুগ থেকেই…

Read More

বৈষ্ণবপদাবলীর মুসলিম পদকর্তা

মধ্যযুগের বাংলার বৈষ্ণবপদাবলীর মুসলিম পদকর্তাদের নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে প্রথমেই যে কথাটা উল্লেখ্য, সেটা হল যে, এঁরা কেউই ধর্মের দিক থেকে বৈষ্ণব ছিলেন না; এঁরা সকলেই বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন ছিলেন। এখানে বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন শব্দটি বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। অতীতে যেসব বাঙালি গবেষক বৈষ্ণবপদাবলী নিয়ে গবেষণা করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য এসব কবিদের জন্য এই বিশেষ শব্দবন্ধটি প্রয়োগ করেছিলেন। এবিষয়ে গবেষণা…

Read More
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!