রানা চক্রবর্তী

ইতিহাস অনুসন্ধিৎসু একজন সাধারণ মানুষ।

বঙ্কিম-বিদ্যাসাগর সংঘাতের বাস্তবতা

ঐতিহাসিকদের মতে, খৃষ্টীয় ঊনিশ শতকের বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতির নবজাগরণ বা রেনেসাঁস কোনো একক রৈখিক স্রোত ছিল না; বরং, তা বহুবিধ আদর্শ, সমাজবীক্ষা এবং মতাদর্শগত সংঘাতের এক জটিল তন্তুজাল ছিল। আর তখন এ বৌদ্ধিক আলোড়নের কেন্দ্রবিন্দুতে যে দু’জন প্রাতঃস্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব অবস্থান করছিলেন, তাঁরা ছিলেন পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০–১৮৯১) এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮–১৮৯৪)। এঁদের…

Read More

বিধবাবিবাহের সমর্থনে ঊনিশ শতকের কাব্য

বিধবাবিবাহের সমর্থনে ঊনিশ শতকের বাঙালি কবিরা একাধিক কাব্য লিখেছিলেন। এবিষয়ে বিপিনবিহারী গুপ্ত লিখিত ‘পুরাতন প্রসঙ্গ’ গ্রন্থটি থেকে জানা যায় যে, বাংলায় বিধবাবিবাহ আন্দোলনের উদ্যোক্তা পণ্ডিত বিদ্যাসাগরকে ব্যঙ্গ করে সেযুগের স্বভাবকবি ধীরাজ ‘বিদ্যাসাগরের বিদ্যে বোঝা গিয়েছে’ শিরোনামের প্রথম গানটি রচনা করেছিলেন, এবং কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন যে, অশ্লীল ও রুচিবিগর্হিত এই গানটি ধীরাজের কণ্ঠে শুনে স্বয়ং বিদ্যাসাগরও…

Read More

স্ত্রী-স্বাধীনতা ও অবরোধপ্রথার অবসানে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান

অতীতের বাংলার লেখকদের মধ্যে পুলিনবিহারী সেন সর্বপ্রথম সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে— ‘বাংলার স্ত্রী-স্বাধীনতার পথিকৃৎ’ —অভিধায় সম্মানিত করেছিলেন। অতীতে— ‘সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর: বাংলার স্ত্রী-স্বাধীনতার অন্যতম পথিকৃৎ’ —শিরোনামে তাঁর প্রবন্ধটি প্রথমে ইন্দিরা দেবী সঙ্কলিত ‘পুরাতনী’ গ্রন্থে, এবং এরপরে ১৩৬৩ বঙ্গাব্দের শারদীয়া দেশ পত্রিকায় ‘প্রবাসীর পত্র’–র সঙ্গে মুদ্রিত হয়েছিল। পুলিনবিহারী প্রদত্ত এই অভিধাটি সত্যেন্দ্রনাথের প্রতি সার্থকভাবে প্রযুক্ত বলেই ইতিহাস থেকে দেখতে…

Read More

কাজী নজরুল ইসলামের শাক্তচেতনা ও কালীসাধনা

কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার, বিদ্রোহ, মানবতা ও সাম্যবাদী চেতনার কবি হিসেবেই অধিক পরিচিত। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিসত্তার আরেকটি গভীর ও রহস্যময় দিক দীর্ঘদিন আড়ালেই থেকে গিয়েছে— সেটি হল তাঁর শাক্তভাবনা ও কালীসাধনা। ব্যক্তিজীবনের দুঃখ, পুত্রশোক, আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান এবং শ্যামাসঙ্গীত রচনার মধ্য দিয়ে নজরুল একসময় বিদ্রোহী কবি থেকে সাধক কবিতে রূপান্তরিত হয়েছিলেন। কাজী নজরুল ইসলামের জীবনেতিহাস থেকে…

Read More

বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসে রামমোহন রায় ও তাঁর বেদান্ত গ্রন্থ

জনশ্রুতি রয়েছে যে, রামমোহন রায়ের সহধর্মিণী উমা দেবী একবার নাকি তাঁকে—‘ওগো, বলো তো জগতে কোন ধর্মটি সত্য?’—এই প্রশ্ন করলে তিনি হেসে উঠে তাঁকে জবাব দিয়েছিলেন— “গরু তো নানা বর্ণের। কোনটার রঙ কালো, কোনটার সাদা। কিন্তু তাহাদের দুগ্ধ একই বর্ণের। তেমনি সাম্প্রদায়িক ধর্ম নানা প্রকার, কিন্তু তাহাদের মধ্যে যা সত্য, তা একই!” রামমোহন রায়ের ধর্মীয় জীবনের…

Read More

বাংলা পত্রসাহিত্যে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর

অতীতে প্রিয়নাথ শাস্ত্রী মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা কতগুলি চিঠির সঙ্গে মহর্ষিকে লেখা কেশবচন্দ্র সেনের দশটি চিঠি, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের লেখা একটি ইংরেজি চিঠি, এবং ম্যাক্সমুলারের ইংরেজিতে লেখা একটি চিঠি ‘পত্রাবলী’ নাম দিয়ে সঙ্কলিত করে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত করেছিলেন। এই বইটি লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, এগুলির মধ্যে থাকা অধিকাংশ চিঠিই ১৮৫০-১৮৮৭ সালের মধ্যে লেখা হয়েছিল। আর…

Read More

ব্যক্তিগত পত্রের আলোকে মানুষ সুকান্ত

সাধারণভাবে সাহিত্য সমালোচকরা বলেন যে, কিছু বিশেষ বিশেষ সৃষ্টিব মধ্যে কোন লেখকের সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়, আর সেগুলোর সার্বিক বিচারেই লেখকের কৃতির সার্থকতা বিচার করা সম্ভব। তবে এরমধ্যে লেখক বিশেষের অনুভব, কল্পনা, রূপকল্পের ব্যবহার, দৃষ্টিভঙ্গি প্রভৃতির পরিচয় পাওয়া গেলেও এর বাইরেও লেখকের যে একটি সত্তা রয়েছে, সেখানে তিনি একান্তভাবে তাঁর নিজের হয়ে থাকেন। এরমধ্যে তাঁর…

Read More

রবীন্দ্রনাথ ও বিধানচন্দ্র

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে বিধানচন্দ্র রায়ের পিতামাতার ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল। ধর্ম-সাধনার ক্ষেত্রে তাঁরা সকলেই রাজা রামমোহন রায়ের আদর্শ ও পথকে গ্রহণ করেছিলেন, অর্থাৎ তাঁরা ব্রাহ্ম ছিলেন। বর্তমানে প্রায় সকলেই অবগত রয়েছে যে, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের প্রচেষ্টায় ব্রাহ্মধর্মের প্রবর্তক রামমোহনের ভাবধারা ভারতে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল। তাঁর প্রতি বিধান রায়ের মা অঘোরকামিনী ও পিতা…

Read More

প্রাচীন ভারতে নৃত্য ও সঙ্গীত

আলোচনার শুরুতেই জানিয়ে রাখা যাক যে, প্রাচীনকাল থেকে আধুনিকযুগ পর্যন্ত ভারত-ভূখণ্ডে নৃত্যকলার কোন ধারাবাহিক ইতিহাস পাওয়া সম্ভব না হলেও এর উপাদান ভারতের প্রায় সর্বত্রই ছড়িয়ে রয়েছে বলেই দেখতে পাওয়া যায়। আর পাথরের গায়ে খোদিত শিলালিপি, তাম্রফলক, পাণ্ডুলিপি, মন্দিরের গায়ে খোদিত মূর্তি, লিপি ও বাদ্যযন্ত্রগুলি নিশ্চল নীরব ভাষায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই সাক্ষ্য বহন করে…

Read More

সেকালের নববর্ষে বাঙালির ভোজনবিলাস

বাংলা নববর্ষ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে কবি-দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একদা বলেছিলেন— “আজ যেখানে বর্ষশেষ, কালই সেখানে বর্ষারম্ভ—একই পাতার এ পৃষ্ঠায় সমাপ্তি, ও পৃষ্ঠায় সমারম্ভ—কেউ কাউকে পরিত্যাগ করে থাকতে পারে না। পূর্ব এবং পশ্চিম একটি অখণ্ড মণ্ডলের মধ্যে পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে, তাদের মধ্যে ভেদ নেই বিবাদ নেই—একদিকে যিনি শিশুর আর একদিকে তিনিই বৃদ্ধের। একদিকে তাঁর বিচিত্র…

Read More

বাঙালির লোকসাহিত্যে তন্ত্রপ্রভাব

সাধারণভাবে ঐতিহাসিকেরা বলে থাকেন যে, সেই সুপ্রাচীনকাল থেকেই বাংলায় তন্ত্র ও তান্ত্রিকধর্মের প্রবাহ গতিমান রয়েছে, এবং সমগ্র ভারতভূমির মধ্যে বাংলাই হল তন্ত্রসাধনার সবিশেষ উল্লেখযোগ্য বিকাশক্ষেত্র। বস্তুতঃ ভারতের প্রায় সর্বত্রই তন্ত্রশাস্ত্র এবং তান্ত্রিক সাধনার ঐতিহাসিক পরিচয় পাওয়া গেলেও এদেশের কতগুলি বিশেষ অঞ্চল শুধুমাত্র তান্ত্রিক সাধনার জন্যই অতীত থেকে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে বলে দেখতে পাওয়া যায়। বিভিন্ন…

Read More

হিন্দুশাস্ত্র ও সতী

১৯৮৭ সালে রাজস্থানের রূপ কানোয়ার সতী হয়েছিলেন। সরকারি হিসাবানুসারে সেটাই ছিল ভারতে শেষ কোন সতীদাহের ঘটনা। এর আগে, বিংশ শতাব্দীর ভারতে — ১৯১৩, ১৯৭৫, ১৯৭৮, ১৯৮০ ও ১৯৮১ — সালেও সতী হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। প্রথমেই দেখা যাক যে — সতী শব্দের অর্থ কি? আমাদের ভুললে চলবে না যে ভারতীয় ভাষাগুলির ক্ষেত্রে সতীর কোনও পুংলিঙ্গ প্রতিশব্দ…

Read More
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!