রানা চক্রবর্তী

ইতিহাস অনুসন্ধিৎসু একজন সাধারণ মানুষ।

রামমোহন রায়ের দৃষ্টিতে বৃটিশ শাসন

খৃষ্টীয় ঊনিশ শতকের সূচনায় ইউরোপীয় আধুনিকতা ও প্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী সমাজব্যবস্থার এক সন্ধিক্ষণে ভারতের আধুনিক ভাবধারার পথিকৃৎ রাজা রামমোহন রায়ের (১৭৭২–১৮৩৩) আবির্ভাব ঘটেছিল। তিনি শুধুমাত্র একজন সমাজসংস্কারক বা ধর্মীয় চিন্তাবিদ ছিলেন না; তিনি এক দূরদর্শী জাতীয় ও সামাজিক রূপকারও ছিলেন। তিনি খৃষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ ও ঊনিশ শতকের সূচনালগ্নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাহীন, সামাজিক কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং শিক্ষাগত দিক…

Read More

বিদ্রোহী ও রাজদ্রোহী

পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু—উভয়ের নামই উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। ইতিহাস বলে যে, এঁদের মধ্যে একজন যেখানে অগ্নিবীণার ঝঙ্কার তুলে পরাধীন জাতির সুপ্ত চেতনাকে জাগ্রত করেছিলেন, অন্যজন সেখানে সশস্ত্র বিপ্লব ও অদম্য নেতৃত্ব দিয়ে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। আরো লক্ষ্যণীয় বিষয় হল যে, এঁদের দু’জনের মধ্যেকার বয়সের ব্যবধান…

Read More

ঔপনিবেশিক কলকাতার বাবুসংস্কৃতি ও পোষা প্রাণীর বিবাহ-উৎসব

ইতিহাস বলে যে, খৃষ্টীয় আঠারো শতকের দ্বিতীয়ার্ধে পলাশীর যুদ্ধের পরে ভাগীরথী নদীর পূর্বতীরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে কলকাতা নগরের দ্রুত উত্থান ঘটেছিল। আর অতঃপর বাংলায় স্থায়ীভাবে বৃটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গেই এ শহরে এক নতুন সামাজিক গোষ্ঠীর বিকাশ ঘটেছিল, যাঁরা ইতিহাসে ‘বাবু’ হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। তবে আক্ষরিক অর্থে এটি তখন একটি সম্মানসূচক শব্দ…

Read More

আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ও বাংলার বিপ্লববাদ

সাধারণভাবে বিজ্ঞান সাধনা ও স্বদেশী শিল্পের রূপকার হিসেবে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ভারত তথা বাংলার ইতিহাসে সর্বজনবিদিত হলেও, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে, বিশেষতঃ বাংলার সশস্ত্র বিপ্লববাদে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গভীর, তাৎপর্যপূর্ণ এবং সুদূরপ্রসারী ছিল বলে দেখতে পাওয়া যায়। আর যদিও তিনি নিজে কখনও প্রত্যক্ষভাবে অস্ত্র হাতে নিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের মঞ্চে অবতীর্ন হননি; কিন্তু তবুও, তিনি যে তাঁর…

Read More

কালীসাধক নজরুল

কাজী নজরুল ইসলামের জীবনেতিহাস থেকে জানা যায় যে, ‘দারিদ্র’ কবিতাটি লেখবার মাস চারেক পরে, ১৯২৭ সালের এপ্রিল মাসে তাঁর প্রথম পুত্র বুলবুলের জন্ম হয়েছিল। এরপরে তিনি কৃষ্ণনগরে আর বেশিদিন থাকেন নি। খুব সম্ভবতঃ সাংসারিক প্রয়োজনের চাপে পড়েই এসময়ে তাঁকে কলকাতায় চলে আসতে হয়েছিল। কিন্তু আগে থেকে কিছু ঠিক ছিল না বলে এসময়ে তিনি প্রথমে সপরিবারে…

Read More

বঙ্কিম-বিদ্যাসাগর সংঘাতের বাস্তবতা

ঐতিহাসিকদের মতে, খৃষ্টীয় ঊনিশ শতকের বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতির নবজাগরণ বা রেনেসাঁস কোনো একক রৈখিক স্রোত ছিল না; বরং, তা বহুবিধ আদর্শ, সমাজবীক্ষা এবং মতাদর্শগত সংঘাতের এক জটিল তন্তুজাল ছিল। আর তখন এ বৌদ্ধিক আলোড়নের কেন্দ্রবিন্দুতে যে দু’জন প্রাতঃস্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব অবস্থান করছিলেন, তাঁরা ছিলেন পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০–১৮৯১) এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮–১৮৯৪)। এঁদের…

Read More

বিধবাবিবাহের সমর্থনে ঊনিশ শতকের কাব্য

বিধবাবিবাহের সমর্থনে ঊনিশ শতকের বাঙালি কবিরা একাধিক কাব্য লিখেছিলেন। এবিষয়ে বিপিনবিহারী গুপ্ত লিখিত ‘পুরাতন প্রসঙ্গ’ গ্রন্থটি থেকে জানা যায় যে, বাংলায় বিধবাবিবাহ আন্দোলনের উদ্যোক্তা পণ্ডিত বিদ্যাসাগরকে ব্যঙ্গ করে সেযুগের স্বভাবকবি ধীরাজ ‘বিদ্যাসাগরের বিদ্যে বোঝা গিয়েছে’ শিরোনামের প্রথম গানটি রচনা করেছিলেন, এবং কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন যে, অশ্লীল ও রুচিবিগর্হিত এই গানটি ধীরাজের কণ্ঠে শুনে স্বয়ং বিদ্যাসাগরও…

Read More

স্ত্রী-স্বাধীনতা ও অবরোধপ্রথার অবসানে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান

অতীতের বাংলার লেখকদের মধ্যে পুলিনবিহারী সেন সর্বপ্রথম সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে— ‘বাংলার স্ত্রী-স্বাধীনতার পথিকৃৎ’ —অভিধায় সম্মানিত করেছিলেন। অতীতে— ‘সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর: বাংলার স্ত্রী-স্বাধীনতার অন্যতম পথিকৃৎ’ —শিরোনামে তাঁর প্রবন্ধটি প্রথমে ইন্দিরা দেবী সঙ্কলিত ‘পুরাতনী’ গ্রন্থে, এবং এরপরে ১৩৬৩ বঙ্গাব্দের শারদীয়া দেশ পত্রিকায় ‘প্রবাসীর পত্র’–র সঙ্গে মুদ্রিত হয়েছিল। পুলিনবিহারী প্রদত্ত এই অভিধাটি সত্যেন্দ্রনাথের প্রতি সার্থকভাবে প্রযুক্ত বলেই ইতিহাস থেকে দেখতে…

Read More

কাজী নজরুল ইসলামের শাক্তচেতনা ও কালীসাধনা

কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার, বিদ্রোহ, মানবতা ও সাম্যবাদী চেতনার কবি হিসেবেই অধিক পরিচিত। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিসত্তার আরেকটি গভীর ও রহস্যময় দিক দীর্ঘদিন আড়ালেই থেকে গিয়েছে— সেটি হল তাঁর শাক্তভাবনা ও কালীসাধনা। ব্যক্তিজীবনের দুঃখ, পুত্রশোক, আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান এবং শ্যামাসঙ্গীত রচনার মধ্য দিয়ে নজরুল একসময় বিদ্রোহী কবি থেকে সাধক কবিতে রূপান্তরিত হয়েছিলেন। কাজী নজরুল ইসলামের জীবনেতিহাস থেকে…

Read More

বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসে রামমোহন রায় ও তাঁর বেদান্ত গ্রন্থ

জনশ্রুতি রয়েছে যে, রামমোহন রায়ের সহধর্মিণী উমা দেবী একবার নাকি তাঁকে—‘ওগো, বলো তো জগতে কোন ধর্মটি সত্য?’—এই প্রশ্ন করলে তিনি হেসে উঠে তাঁকে জবাব দিয়েছিলেন— “গরু তো নানা বর্ণের। কোনটার রঙ কালো, কোনটার সাদা। কিন্তু তাহাদের দুগ্ধ একই বর্ণের। তেমনি সাম্প্রদায়িক ধর্ম নানা প্রকার, কিন্তু তাহাদের মধ্যে যা সত্য, তা একই!” রামমোহন রায়ের ধর্মীয় জীবনের…

Read More

বাংলা পত্রসাহিত্যে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর

অতীতে প্রিয়নাথ শাস্ত্রী মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা কতগুলি চিঠির সঙ্গে মহর্ষিকে লেখা কেশবচন্দ্র সেনের দশটি চিঠি, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের লেখা একটি ইংরেজি চিঠি, এবং ম্যাক্সমুলারের ইংরেজিতে লেখা একটি চিঠি ‘পত্রাবলী’ নাম দিয়ে সঙ্কলিত করে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত করেছিলেন। এই বইটি লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, এগুলির মধ্যে থাকা অধিকাংশ চিঠিই ১৮৫০-১৮৮৭ সালের মধ্যে লেখা হয়েছিল। আর…

Read More

ব্যক্তিগত পত্রের আলোকে মানুষ সুকান্ত

সাধারণভাবে সাহিত্য সমালোচকরা বলেন যে, কিছু বিশেষ বিশেষ সৃষ্টিব মধ্যে কোন লেখকের সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়, আর সেগুলোর সার্বিক বিচারেই লেখকের কৃতির সার্থকতা বিচার করা সম্ভব। তবে এরমধ্যে লেখক বিশেষের অনুভব, কল্পনা, রূপকল্পের ব্যবহার, দৃষ্টিভঙ্গি প্রভৃতির পরিচয় পাওয়া গেলেও এর বাইরেও লেখকের যে একটি সত্তা রয়েছে, সেখানে তিনি একান্তভাবে তাঁর নিজের হয়ে থাকেন। এরমধ্যে তাঁর…

Read More
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!