অনাদিরঞ্জন বিশ্বাসের তিনটি কবিতা

দুঃখুর কষ্টকথা

হে রাজন, তুমি
পরিয়েছ কাঞ্চন-কিরীট
আমার মাথায়।
পাঁচটি কোরক-সহ পুষ্করের পাঁচ পাপড়ি-শোভিত সেই ধাতব ফলক
যত্নহীন পড়ে থাকে কুটিরের কোনো এক কোণে,
বাঁশের খুঁটিতে ঝোলা ন’ টাকার ব্যাগে।
তার নীচে শতাব্দীর অন্ধকারে স্যাঁতসেঁতে মেঝে
খড় দিয়ে ঢাকা থাকে সারাটি বছর।
এখনও দেখিনি সেই খড়ের ভিতর
লুকিয়ে রয়েছে কি না বিছের ছানারা।

ভালো হত, বুঝে নিতে যদি
ওর চেয়ে বেশি প্রয়োজন
ছিল আমার এ জঠরের প্রাত্যহিক রসদটুকুর।
তিন বেলা ঠিকমতো জোটে না আহার—
প্রভু, কনক-কিরীট দিয়ে কী হবে আমার?

ঘুড়ি

‘উড়ছ ঘুড়ি ওড়ো, তবে লাটাই আমার হাতে’—
বাবা বলেছিলেন আমার কৈশোর প্রভাতে।
শাসন ছিল কড়া হাতের, আদর ছিল আরও,
পান থেকে চুন খসলে পিঠে পড়ত দেদার মারও।
মায়ের অভাব বোঝার সুযোগ পেতাম না তো মোটেই,
তখন বাবার রান্না হলেই খিদেয় খাবার জোটে।

দুই ভূমিকায় ছিলেন বাবা, মা ছিল না বলে,
চারখানি যুগ পেরিয়ে গেছে, বাবা গেছেন চলে—
ছেড়ে দিয়ে হাতের লাটাই এবং সুতোর ঘুড়ি,
এখন আমি স্বাধীনভাবে খেয়ালমতো উড়ি।
কিন্তু এমন স্বাধীনতায় মন লাগে না কেন!
ইচ্ছে হতে আবার বাবার লাটাই-ঘুড়ি যেন।

অপার্থিব

তোমার বাড়ির পাশ দিয়ে
হেঁটে যাচ্ছিলাম
বহুদিন পর।
পুরানো সে অভ্যেসমতন
হৃদপিণ্ড দ্রুত লয়ে ওঠানামা শুরু
করেছিল আর ভালো লাগা,
খুশির আবেশ নিয়ে মন
হয়ে উঠেছিল পুলকিত।

কী এক ঘোরের বশে ঘরের উঠোনে
দাঁড়িয়ে তোমার
নাম উচ্চারণ করতেই
মনে পড়ে গেল—তুমি নেই!
ঘরে ও বাইরে
কোনোখানে নেই তুমি আজ।

অপার্থিব হয়ে গেছো তুমি
কত দিন আগে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on print
Print
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!