ইরফানের মৃত্যুর পর পুত্রবধূ এথিনার প্রতি শ্বশুরবাড়ির এই নিষ্ঠুরতা কেন?

পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত বহাল থাকার পরও প্রকাশ্য দোষারোপের মুখে এথিনা। ইরফানের পরিবারের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে এথিনার শোক; হেনস্তার মুখে পড়েছে তার পরিবারও।

ইরফান আল-হুসাইনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার জ্যেষ্ঠ ডেটা সায়েন্টিস্ট ও বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী। ২২ জুলাই ২০২৬ ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টোর বাসায় তাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পান স্ত্রী ফাবিয়া ফারলিন এথিনা। জরুরি চিকিৎসার জন্য তাকে স্ট্যানফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। আট দিন পর, ৩০ জুলাই তিনি মারা যান। সান্তা ক্লারা কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনার পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর ধরন আত্মহত্যা হিসেবে নির্ধারণ করেন।

ড. ফাবিয়া ফারলিন এথিনা নিজেও একজন গবেষক এবং বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। তিনি জর্জিয়া টেক থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এনার্জি পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জ্বালানি ব্যবহার কমানোর গবেষণার জন্য তিনি ফোর্বসের ২০২৫ সালের ‘থার্টি আন্ডার থার্টি’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

ইরফানের মৃত্যুর পর এথিনাকে নিয়ে যেসব অভিযোগ ছড়িয়েছে, সেগুলো একজন স্বামীহারা নারীকে জনসমক্ষে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। তিনি কখন জরুরি সেবায় ফোন করেছেন, কেন পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত নিয়ে প্রথমে প্রশ্ন তুলেছিলেন, কোথায় স্বামীকে দাফন করতে চেয়েছিলেন, অনলাইন-অফলাইনে তার প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েই সন্দেহ ছড়ানো হয়েছে। ইরফানের পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছে, প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে, অভিযোগ করেছে। সেই বক্তব্য ধরে এথিনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীসহ দেশ-বিদেশে থাকা অন্যরাও।

ইরফানের বাবা ড. তাহমিদ মালিক আল হোসাইনি বুয়েটের শিক্ষক। তার শিক্ষক পরিচয় এবং শিক্ষার্থী ও পরিচিতজনদের সঙ্গে সম্পর্ক পরিবারের অভিযোগকে মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। এই জনমত তৈরিতে তার সামাজিক প্রভাবের ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

ইরফান জীবিত থাকতেই এথিনার ব্যক্তিস্বাধীনতায় শ্বশুরবাড়ির হস্তক্ষেপ নিয়ে বিরোধ ছিল। আমাদের হাতে আসা অডিও রেকর্ডিংয়ের কথোপকথনে তার আভাস পাওয়া যায়। সেখানে এথিনার পোশাক নিয়ে তার শ্বশুর ড. তাহমিদের আপত্তিকর কথাবার্তা এবং ইরফানের প্রতিবাদ উঠে এসেছে। স্ত্রীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে বাবার হস্তক্ষেপ ইরফান মেনে নিচ্ছিলেন না। বৌমার পোশাক নিয়ে আপত্তি থাকলেই তাকে অপমান করা যায় না। পারিবারিক সম্পর্ক একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয় না।

এরপর ২২ জুলাই ২০২৬ সকালে পালো অল্টোর বাসায় ঘটে সেই মর্মান্তিক ঘটনা। ইরফানকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর এথিনা জরুরি সেবা ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। তার আইনজীবী ম্যাথিউ ডেভিসের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি অপারেটরের নির্দেশনা অনুসরণ করে সিপিআর দেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে ডেভিস জানিয়েছেন, প্রায় ১০ মিনিট তিনি সেই নির্দেশনা অনুসরণ করেছিলেন। জরুরি সেবাকর্মীরা পৌঁছে চিকিৎসার দায়িত্ব নেন এবং ইরফানকে স্ট্যানফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। করোনারের প্রতিবেদনের বরাতে পালো অল্টো অনলাইনের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনেও এই ঘটনাক্রম এসেছে।

ইরফান ৩০ জুলাই পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া বিবরণ অনুযায়ী, তার বোন, বাবা-মা ও অন্য স্বজনেরা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। ৩০ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। এরপর মরদেহ সান্তা ক্লারা কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনার-কোরোনারের হেফাজতে যায়।

৩ আগস্ট মরদেহের বাহ্যিক পরীক্ষা করা হয়। পালো অল্টো অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখন মৃত্যুর ধরন আত্মহত্যা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইরফানের পরিবার প্রাথমিক পরীক্ষায় আত্মহত্যার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয়ে পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্তের দাবি জানায়। এথিনা প্রথমে অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন মনে না করলেও পরে আইনজীবীর মাধ্যমে সম্মতি জানান এবং ১৮ আগস্ট মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তরে লিখিত অনুরোধ করেন। 

এই প্রাথমিক আপত্তিকে সামনে রেখে এথিনা ময়নাতদন্ত করতে দেননি বলে প্রচার করা হয়েছে। অথচ মূল অটোপসি প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে লেখা আছে, ২৮ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে ইরফানের স্ত্রী ফাবিয়া ফারলিন এথিনার অনুরোধে। পালো অল্টো অনলাইনও জানিয়েছে, ইরফানের পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত চেয়েছিলেন। করোনারের দপ্তর প্রথমে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলেও পরে সিদ্ধান্ত বদলায়।

ইরফানের পরিবার তার আপত্তির কথা প্রচার করেছে, অথচ সেই প্রচারে তার পরের লিখিত অনুরোধের কথা উঠে আসেনি। পুরো ঘটনা না জানিয়ে মানুষের মনে এথিনার বিরুদ্ধে সন্দেহ তৈরি করা হলো কেন?

পূর্ণাঙ্গ অটোপসি প্রতিবেদনে শুধু মৃত্যুর সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। চিকিৎসার নথি, পুলিশ রিপোর্ট, ঘটনাস্থলের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য এবং মরদেহের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ফল মিলিয়ে মৃত্যুর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলের ছবি ও সংশ্লিষ্ট তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে। পরীক্ষায় মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত গলার চিহ্ন ছাড়া অন্য আঘাত পাওয়া যায়নি। মাথার ত্বক ও খুলিতে আঘাত বা মস্তিষ্কের আবরণের নিচে রক্তক্ষরণ পাওয়া যায়নি। ঘাড়ের হাইয়য়েড হাড় অক্ষত ছিল; আশপাশের পেশি ও নরম টিস্যুতে রক্তক্ষরণ পাওয়া যায়নি। হাত-পায়ের এক্স-রেতে নতুন হাড়ভাঙার চিহ্নও ছিল না। হাসপাতালে প্রস্রাবের নমুনা পরীক্ষায় মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। পর্যালোচিত পুলিশি তথ্যেও অ্যাপার্টমেন্টে ধস্তাধস্তি বা অপরাধমূলক ঘটনার প্রমাণের উল্লেখ নেই। এসব তথ্য বিবেচনা করে মৃত্যুর কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়, ফাঁসের কারণে শ্বাসরোধ থেকে মস্তিষ্কে অক্সিজেন ও রক্তপ্রবাহের ঘাটতিজনিত ক্ষতি। মৃত্যুর ধরন আত্মহত্যাই বহাল থাকে।

ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ইরফানের মরদেহ বাংলাদেশে নেওয়া ও দাফন নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এথিনার পরিবারের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ইরফানের পরিবার বাংলাদেশে তাকে দাফন করতে চেয়েছিল। এথিনা প্রথমে আপত্তি জানালেও ৫ আগস্ট সম্মতি দেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্তের ফল জানানোর পর ইরফানের পরিবার মরদেহ দেশে নেওয়ার উদ্যোগ আর এগিয়ে নেয়নি। অথচ এথিনা বাংলাদেশে দাফনের অনুমতি দেননি বলে অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে। এথিনা সম্মতি দেওয়ার পরও পরিবার কেন ইরফানের মরদেহ বাংলাদেশে নেয়নি? তার সম্মতির কথা বাদ দিয়ে শুধু আগের আপত্তির কথা প্রচার করা হলো কেন?

মরদেহের অবস্থান জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেছিল ইরফানের পরিবার। ইরফানের বাবা ও বোনের অনুরোধেই মরদেহ মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের (MCA) ফিউনারেল ব্যবস্থাপনায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তারা মরদেহের অবস্থান জানতেন এবং অতিরিক্ত সময় সংরক্ষণের খরচ দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু সেই অর্থ তারা পরিশোধ করেননি। তাহলে মরদেহের অবস্থান জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করলেন কেন? দাফনের বদলে আরও সময় সংরক্ষণের অনুরোধ করেও তার খরচ দিলেন না কেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরও ইরফানের পরিবারের দেওয়া প্রয়োজন। 

পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্তের পরও ইরফানের পরিবার স্বাধীনভাবে আরেকটি পরীক্ষার সুযোগ চায় এবং মরদেহ সংরক্ষণের জন্য আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে। ৩ সেপ্টেম্বর বিচারক মার্ক ফ্ল্যানাগান আবেদন নাকচ করেন। এথিনার আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, সরকারি দপ্তর পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত করে দেওয়ায় যে ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্দেশ্যে সমঝোতা হয়েছিল, তা পূরণ হয়েছে।

ইরফানের দাফনের আগেই তার রেখে যাওয়া সম্পদ নিয়েও আদালতে যায় পরিবার। ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরফানের মরদেহ ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তার পরিবার এথিনার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পালো অল্টো অনলাইনের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্পদসংক্রান্ত নথি খুঁজে বের করা ও সংরক্ষণের জন্য একজন নিরপেক্ষ বিশেষ প্রশাসক নিয়োগের আবেদনও করেছিল তারা।

পরীক্ষা ও দাফন নিয়ে বিরোধের মধ্যেই এথিনার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর একটি অভিযোগ সামনে আসে। ৮ সেপ্টেম্বর এনবিসি বে এরিয়াকে ইরফানের পরিবার জানায়, এথিনা বৃহস্পতিবার মরদেহ দাহ করার সময় নির্ধারণ করেছেন। দাহ হলে গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক আলামত হারিয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বর এনবিসি প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করে এথিনার আইনজীবী ম্যাথিউ ডেভিসের বক্তব্য যুক্ত করে। ডেভিস বলেন, এথিনা ইরফানের মরদেহ দাহ করতে চেয়েছিলেন বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা মিথ্যা। তিনি দাফনের আয়োজনের কথা জানান এবং আদালতের আদেশও সরবরাহ করেন। ওই আদেশে ইরফানের পরিবারের দাফন ঠেকানোর আবেদন নাকচ করা হয়।

এনবিসির একই প্রতিবেদনে ডেভিস জানান, ইরফানের বাবা-মায়ের অনুরোধে পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক ময়নাতদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ সংরক্ষণে এথিনা সম্মত হয়েছিলেন। ময়নাতদন্তের নথি, ছবি, পরীক্ষার ফল ও সংরক্ষিত নমুনা স্বাধীন বিশেষজ্ঞকে দিয়ে পর্যালোচনায়ও তার আপত্তি ছিল না।

অবশেষে মৃত্যুর ৪১ দিন পর, ৯ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার লিভারমোরের ফাইভ পিলার্স কবরস্থানে ইরফানকে দাফন করা হয়। এই দীর্ঘ সময়ের কিছু অংশ মরদেহ মেডিকেল এক্সামিনারের হেফাজতে এবং কিছু অংশ এমসিএর ফিউনারেল ব্যবস্থাপনায় ছিল। পরীক্ষার দাবি, দুই পক্ষের সমঝোতা ও আদালতের কার্যক্রমের মধ্যে দাফন পিছিয়েছে। ইরফানের কবরের জায়গা কেনা থেকে দাফনের সব খরচ এথিনা একাই বহন করেছেন। 

এই ঘটনাক্রম এথিনার বিরুদ্ধে প্রচারিত বক্তব্যের সঙ্গে মেলে না। তাহলে তিনি আলামত নষ্ট করতে চেয়েছিলেন, এমন অভিযোগের ভিত্তি কী? এনবিসির প্রতিবেদনে দাহের দাবির পক্ষে কোনো নথির উল্লেখ নেই। অথচ অভিযোগটি মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়েছে। আইনজীবীর অস্বীকৃতি, এথিনার সহযোগিতা এবং দাফনের তথ্যও কি একই গুরুত্ব দিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে?

ইরফানের দাফনের পরও এথিনাকে ঘিরে অভিযোগের প্রচার থামেনি। ১৭ সেপ্টেম্বর পালো অল্টো সিটি হলের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ইরফানের বোন সারাহ, ড. তাহমিদ মালিক আল হোসাইনি এবং পরিবারের আইনজীবী মৃত্যু ও দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগ তোলেন। সারাহ ভাইয়ের শরীরে দাগ দেখার কথা বলেন। ইরফানের অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো বার্তা, একটি ইমেইলের “I can’t” শব্দ এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রসঙ্গও আসে। কিন্তু এসব বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট ছাড়া এথিনাকে দায়ী করা যায় না। শরীরের দাগ কীভাবে হয়েছে, তার সমর্থনে প্রমাণ দরকার। ইরফান কেন ইমেইলে “I can’t” লিখেছিলেন, তা বুঝতেও আগের ও পরের কথোপকথন জানা প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে বলেই কোনো দাবি প্রমাণিত হয়ে যায় না। অথচ এমন অভিযোগ মানুষের মনে সঙ্গে সঙ্গেই সন্দেহ তৈরি করে। অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে এথিনার বিরুদ্ধে সেই সন্দেহ ছড়িয়ে তাকে অপমান ও হেনস্তা করার পথও খুলে দিয়েছে ইরফানের পরিবার।

জরুরি সেবায় ফোন করার প্রায় ২০ মিনিট আগে ইরফানের কর্মক্ষেত্রের অ্যাকাউন্ট থেকে বার্তা যাওয়ার ঘটনাও পরিবার সন্দেহের কারণ হিসেবে তুলেছে। তাদের দাবি, চিকিৎসকেরা ৩০ থেকে ৬০ মিনিট অক্সিজেনের ঘাটতির কথা বলেছিলেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ডেভিস জানিয়েছেন, তার পর্যালোচনা করা চিকিৎসা নথিতে ওই সময়সীমার উল্লেখ নেই। এই প্রশ্নের উত্তর চিকিৎসা নথি ও তদন্তের মাধ্যমেই জানা সম্ভব। তার আগেই এথিনা ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য চাইতে দেরি করেছেন বলে প্রচার করা তার বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর দোষারোপ।

অটোপসি প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের থেরাপির নথিতে ইরফানের নিজের জানানো পারিবারিক সহিংসতার উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তবে ওই সংক্ষিপ্ত উল্লেখ থেকে নির্দিষ্ট ঘটনার পূর্ণ বিবরণ বা মৃত্যুর জন্য এথিনার দায় প্রতিষ্ঠিত হয় না। এথিনা তার আইনজীবীর মাধ্যমে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পরিবারের আইনজীবী টনি ব্রাসও পালো অল্টো অনলাইনকে বলেছেন, তারা ওই নথিকে মৃত্যুর জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির দায়ের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনার দাবি করছেন না। সামাজিক প্রচারে এই সীমাটুকু বজায় রাখা জরুরি ছিল।

১৯ অক্টোবরের পালো অল্টো অনলাইন এবং ৩১ অক্টোবরের ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চললেও তখন পর্যন্ত ইরফানের মৃত্যুর পেছনে অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারপরও এথিনাকে অপরাধী হিসেবে তুলে ধরার ভিত্তি কী? পরিবারের সন্দেহকে প্রমাণ ধরে একজন নারীকে দোষারোপ করা অন্যায়।

পালো অল্টো অনলাইনে এথিনার আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, এথিনা, তার সহকর্মী এবং বাংলাদেশে তার পরিবার হয়রানির শিকার হয়েছেন। ইরফানের মৃত্যুর তদন্তের সঙ্গে এথিনার বাবা-মা, ভাই, আত্মীয় ও সহকর্মীদের অপমান করার সম্পর্ক কী? তাদের সামাজিক মর্যাদায় আঘাত করে কোন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে?

স্বামী হারানোর শোকের মধ্যেই এথিনাকে নিজের চরিত্র ও দাম্পত্য জীবন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের জবাব দিতে হয়েছে। এসব আচরণ এথিনার ওপর যে মানসিক চাপ তৈরি করেছে, তাকে নিছক পারিবারিক মতবিরোধ বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

ইরফানের পরিবার তদন্ত চাইতে পারে, কিন্তু সেই দাবি এথিনাকে জনসমক্ষে অপরাধী বানানোর অনুমতি দেয় না। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে হবে, বিপরীত তথ্যও স্বীকার করতে হবে। এসব তথ্য উপেক্ষা করে দোষারোপ চালিয়ে যাওয়া অন্যায়। ড. তাহমিদ ও তার পরিবার অভিযোগ নিয়ে যেভাবে মানুষের সামনে এসেছেন, এথিনা ও তার পরিবারের হেনস্তা থামাতেও তাদের সেভাবেই এগিয়ে আসা উচিত। ইরফানের জন্য ন্যায়বিচার চাইতে গিয়ে এথিনার প্রতি অন্যায় করা যায় না। এথিনা ও তার পরিবারকে নিজেদের মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে দেওয়া হোক।# 

 

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on print
Print
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!