কবিতা

এক শরৎ সন্ধ্যার শেষে
নিশ্চিত অমাবস্যার রাতে
এ যেন এক রক্তাভ পূর্ণিমার চাঁদ।

শেষবারের মতো জরায়ুমুখ ছুঁয়ে
অন্তিম চুম্বনে চুম্বনে,
যোনিপথ ধরে আর্তনাদের আগুনগোলা হয়ে
এ অনাথ, খেয়ালি, অদ্ভুত, নিরর্থক, নিষ্ফল, নিদারুণ
নরক ভূমির নরক নগরীতে নব নরক যাত্রী,
এক অনাবশ্যক শাবকের জন্ম।

যে শাবকের জন্মের বহুকাল আগে
বিদায় নিয়েছে তার পিতার যৌবন,
তার মাতার যৌবন।
যদিও ভয়, যদিও রয়
আগুনগোলার জন্মধাত্রী ও জন্মদাতা।

এসেছিল সে
শরতের শৈল্পিক ধূসর নীলাভ মেঘে,
রাজরঙে,
সবুজ মায়া আর কাশবন ছুঁয়ে কোমল হাওয়ায়।
হাওয়ায় দুলছিল ধানবন,
ধানসিড়ির ছলাৎ ছলাৎ শব্দ,
জলকলমির ডগায় ডগায়
ঘাসফড়িঙের রঙ ছোঁয়ায়।

মুদ্রা করেছিল অনেকের মতো ধৃত
শুকনো রুটির দর্শনে, নাকি মুদ্রাক্ষুধায়?

আমি সেই দুর্ভিক্ষের রুগ্ণ বালকের মুখ থেকে
ঝরে যাওয়া হড়কানিয়া লালা।
আমাকে আজও ক্ষমা করেনি
মুদ্রামাফিয়া ও খাদ্য মজুতকারী
নিষ্ঠুর, বোধহীন দানবেরা।

আগুনের লেলিহান শিখায়
আজ তাদের নিদারুণ প্রণয়।
দহনে দহনে গড়েছে তারা
নরকেরই নিবিড় আত্মীয়তা।
অনাচারের কালচে বিষে খোঁজে উন্মাদনা,
মন্দের উৎসবে ভুলে গেছে আলোর বাসনা।
পুড়তে পুড়তে পুড়ে গেছে বোধ,
অভ্যস্ত তারা দগ্ধ ছাইয়ে,
নরকের প্রেমে মগ্ন
ধ্বংসের অদ্ভুত মহামায়ায়।

জীবনের পোড়া টানে
শুশ্রূষা লাভের পানে,
পোড়া রুটির গন্ধে
দেশান্তরী হাওয়ায় হাওয়ায় হারায় শরৎ শাবক।

হারায় বয়স,
হয় জীবনের ক্ষয়, ক্ষয়।

নেই ক্ষমা,
এখানেও নেই ক্ষমা!

মুদ্রায় মুদ্রায় এখানেও ফাঁসায়
জীবনের যত দায়।

নিশ্চিত অমাবস্যার রাতে
এ যেন এক রক্তাভ পূর্ণিমার চাঁদ।

এ তবে কালের স্বীয় সৃষ্টির ঋণদায়?

যদিও ক্ষমায় ক্ষমায়
আপনারে আপনারে লয়
অসীম ক্ষমায়, ক্ষমায়…

Facebook
Twitter
LinkedIn
Print
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!