জয়িতা চট্টোপাধ্যায়ের পঞ্চ কবিতা

সে অন্ধকারে শুয়ে আছি আমি

ঘরের থেকে আরো নীচে ঘর
তারও নীচে ভাঙা ভাঙা রং
একটা খোলামকুচি চুমুর ভেতর
আমি শুয়ে আছি
বহু নগরীর ডাক পিছনে ফেলে

এগিয়ে আসছে ঠাণ্ডা হাসি,
বরফ কুচি আগুন
পাড়ভাঙা শব্দ
কুরুশ কাঁটায় বুনছে অপচয়হীন আদর

নীল শরীর ও কঠিন মুখে দূরের দোসর

হে সময়,
এভাবে রেখো না কাছে আর
দূরে যেতে দিও
অন্ধকারে তোমার ছায়াও
নিরাভরণীয়।

শেষ হেমন্ত

অক্ষরে অক্ষরে সত্যি
কোজাগরী চাঁদ,
সাদা দেওয়ালের ময়ূরকন্ঠী আলো,
তার চেয়েও সত্যি
আমার ভেতরের গুছিয়ে রাখা মরা পাখির মমতা

কিছু বাক্য আজ সেখানে বৃথা, হয়তো চলে যেতে হবে বলেই, জ্বলে ওঠে যন্ত্রনায় অপরিচিতা

তবু জানি চিরকাল ,
ভালোবাসি একথা বলা অতটা সহজ না,
আসন্ন মৃত্যু, ভেসে যায়
শুভ্র স্তবে,ভেসে যায় বিজয়ী মিছিলে
বিচ্ছেদ সেনা।

ভাগশেষ নেই

নিজেস্ব উপশম হয়ে পেরিয়ে যাচ্ছি
আলোকবর্ষ পথ
পেরিয়ে যাচ্ছি পাহাড়,মাঠ, জঙ্গল
তারপরও হুলুস্থুল জীবনের ফর্মুলা মেলাতে
পারিনি

যদিও আমার বাবা
বলেছিলেন
আমি নাকি অঙ্কে বরাবরই ভালো ছিলাম

তবু একলা ঘরে বসে থাকা
ওই সরল মানুষটিকে
বলতে পারিনি
‘বাবা-যে চলে গেল
সেই তো রয়ে গেল বেশি!’

ভাঙা সুর

তোমার অভাবে
যতটা লিখেছি,
তার চেয়ে ঢের বেশি না লেখাই রয়ে গেছে।

যতটা বলেছি তোমাকে,
তারচেয়েও বেশি নিঃশব্দ উচ্চারণ
ভেতরে সয়ে গেছে।

শব্দের স্পর্ধা ঠিক কতটুকু বলো!
অনুভূতি হয়ে যাবে-

যতটা রেখেছি ভালোবাসা,
তার চেয়ে ঢের বেশি শোকালয়
তোমার অভাবে…

বুনে চলে ভালোবাসা

ছোটো ছোটো গলি জুড়ে দিলে
অচেনা পথ হঠাৎ লম্বা হয়ে যায়,
মোড়ের পর মোড় ঘুরে
খুলে যায় এক অনিঃশেষ গন্তব্য—

তেমনই আমাদের ভালোবাসা,
একটা সরু সাঁকোর বুক থেকে শুরু করে
নিঃশব্দে ছড়িয়ে পড়ে
গোটা জীবনের মানচিত্র জুড়ে।

যেখানে আমরা হারিয়ে যাই
হাতে হাত রেখে,

অচেনা পথের ভেতর দিয়েই
চেনা হয়ে ওঠে সবকিছু—

আর সেই হারিয়ে যাওয়ার মধ্যেই
আমরা খুঁজে পাই
আস্ত জীবনের ঠিকানা

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on print
Print
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!