শতবর্ষে পথের দাবী প্রসঙ্গ ও প্রাসঙ্গিকতা

বাঙালি কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসটি ১৯২৬ সালের অগাস্ট মাসে প্রকাশিত হওয়ার পর বর্তমানে ২০২৬ এর অগাস্টে শতবর্ষের পৌঁছে গেছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রেক্ষাপটে লেখা এই দেশপ্রেমের রাজনৈতিক তথা বিদ্রোহী উপন্যাসটি সেই সময়ে যেমন যুবসমাজে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছিল, তেমনি তা কেবল স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসেই নয়, বরং বাংলা উপন্যাসের ধারায়ও এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছিল। আজ এক শতাব্দী পার হয়ে এসেও উপন্যাসটির আবেদন ও প্রাসঙ্গিকতা ফুরিয়ে যায়নি। বরং বর্তমান একবিংশ শতাব্দীর সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানবিক প্রেক্ষাপটে উপন্যাসটির মূল্য তথা আবেদন নতুন মাত্রায় অনুভূত হয়। বিভিন্ন দিক থেকে এর প্রাসঙ্গিকতা প্রণিধানযোগ্য।

অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে চিরন্তন দ্রোহ:

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসে ‘অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে চিরন্তন দ্রোহ’ বিষয়টি অত্যন্ত গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট ভারতবাসীর দীর্ঘশ্বাস এবং সেই শৃঙ্খল ভাঙার অদম্য বাসনা এই উপন্যাসের প্রতিটি ছত্রে বিদ্যমান। ​উপন্যাসের বিভিন্ন সংলাপ ও ঘটনার মধ্য দিয়ে এই দ্রোহের স্বরূপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

​সব্যসাচী মল্লিক এবং তার সঙ্গীরা ব্রিটিশ রাজের চোখে ভয়ঙ্কর ‘বিপ্লবী’ ও ‘অপরাধী’ হলেও সাধারণ মানুষের মুক্তিই ছিল তাদের জীবনের একমাত্র ব্রত। পরাধীনতার গ্লানি থেকে দেশকে মুক্ত করতে তারা জীবনের সমস্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছিলেন। তাই তাদের দাবি উঠেছিল :
​”আমাদের দাবি—ভারতবর্ষ কেবল ভারতবর্ষের মানুষেরই।”

এই সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত শক্তিশালী বক্তব্যটির মাধ্যমেই উপন্যাসের মূল সুরটি নির্ধারিত হয়েছে। বিদেশি শক্তি কর্তৃক নিজের দেশের সম্পদ লুণ্ঠন এবং মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে এটি কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং এটি হলো মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার চিরন্তন দাবি। পরাধীনতার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে নিজস্ব সত্তা ও স্বাধিকার অর্জনের জন্য যে আকুতি, তা যেকোনো ধরনের নিপীড়ক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মানুষের সহজাত বিদ্রোহের প্রতীক।

ব্রিটিশ পুলিশ ও প্রশাসন ভারতীয়:

জনগণের ওপর যে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালাত, তার বিরুদ্ধে আপসহীন প্রতিরোধের প্রতীক ছিলেন সব্যসাচী। অত্যাচারীর ভয় দেখিয়ে মানুষের মুখ বন্ধ করার যে নীতি ব্রিটিশরা নিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে ছিল চরম দ্রোহ। তাই স্পষ্ট বক্তব্য :
​”যে দেশ পরের গোলামি করে তার আবার লজ্জা কী, সম্মান কী!”

এই ধরনের ক্ষোভ ও উপলব্ধির মধ্য দিয়ে শরৎচন্দ্র পরাধীন জাতির মনস্তত্ত্বকে উন্মোচন করেছেন। পরাধীনতার ফলে মানুষের মেরুদণ্ড কীভাবে ভেঙে যায় এবং আত্মসম্মানবোধ কীভাবে ধূলিসাৎ হয়, তা লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন। আর এই অবমাননাকর অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সশস্ত্র বা নীতিগত প্রতিবাদই একমাত্র পথ—এই চেতনা থেকেই চরিত্রগুলোর মধ্যে দ্রোহের আগুন জ্বেলে উঠেছিল।

সব্যসাচী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক দেখিয়েছেন যে, ব্যক্তিগত সুখ, পরিবার বা ভালোবাসার চেয়েও রাষ্ট্রের নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করা অনেক বেশি মহান দায়িত্ব। আর সেইটি তাঁদের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল:
​”নিজের সুখের চেয়ে দেশের মুক্তি অনেক বড়।”

বিপ্লবী জীবনের অনিশ্চয়তা, মৃত্যুভয় এবং সমস্ত ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়াকে তুচ্ছ করে মুক্তির এই যে সাধনা, তা অন্যায়ের কাছে নতিস্বীকার না করার মানসিকতাকে নির্দেশ করে। সব্যসাচী ও তাঁর সহযোগীদের এই মনোভাব প্রমাণ করে যে, মানবাত্মার মুক্তি ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা অর্জনের জন্য যেকোনো বৃহৎ শক্তির বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়ার সাহস মানুষের চিরন্তন স্বভাব।

‘পথের দাবী’ উপন্যাসে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যে দ্রোহের চিত্র এঁকেছেন, তা কোনো কাল্পনিক বা সাময়িক ক্ষোভ নয়। এটি হলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা মানবীয় শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শাশ্বত দলিল। ব্রিটিশ রাজের পটভূমিতে রচিত হলেও এই উপন্যাসের দ্রোহের মূল বার্তাটি সর্বকালের এবং সর্বযুগের। আজও বিশ্বের নানা প্রান্তে ক্ষমতার অপব্যবহার, একনায়কতন্ত্র এবং সাধারণ মানুষের অধিকার হরণের ঘটনা ঘটে চলেছে। রাষ্ট্র বা ক্ষমতার বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর এবং স্বাধীনভাবে বাঁচার যে শিক্ষা ‘পথের দাবী’ দেয়, তা মুক্তিকামী মানুষের জন্য সবসময়ই একটি প্রেরণা।

গতানুগতিক সমাজ ব্যবস্থা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ:

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসে রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি সমাজসংস্কার এবং রক্ষণশীল গোঁড়ামির বিরুদ্ধে এক সাহসী ও সংস্কারমুক্ত দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছে। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি বাঙালি সমাজের অভ্যন্তরে জেঁকে বসা অন্ধবিশ্বাস, জাতপাত, তথাকথিত শুচিতা এবং সংকীর্ণ সামাজিক বিধিনিষেধকে লেখক অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। ​উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব এবং কর্মপদ্ধতির মধ্য দিয়ে শরৎচন্দ্র দেখিয়েছেন যে, পরাধীনতার গ্লানি থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হলে যেমন বাইরের রাজনৈতিক শৃঙ্খল ভাঙতে হয়, তেমনই মনের ভেতরকার সামাজিক গোঁড়ামির জিঞ্জিরও ছিঁড়ে ফেলতে হয়। ​

উপন্যাসের প্রথমার্ধে কেন্দ্রীয় চরিত্র অপূর্ব চরিত্রের মধ্য দিয়ে তৎকালীন উচ্চবর্ণের হিন্দু সমাজের কট্টর গোঁড়ামি ও ছুঁৎমার্গের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। অপূর্ব ও তার ভৃত্য তেওয়ারী রেঙ্গুনে নিজেদের বাসায় একরকম “হিন্দুয়ানীর দুর্ভেদ্য দুর্গ” গড়ে তুলেছিল। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের তরুণী ভারতী বিপদের দিনে সাহায্য করা সত্ত্বেও এবং তার প্রতি অপূর্বর অন্তরে দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও, কেবল ধর্মীয় ও সামাজিক গোঁড়ামির কারণে অপূর্ব ভারতীর হাতের তৈরি খাবার গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। শরৎচন্দ্র এখানে অত্যন্ত সচেতনভাবে দেখিয়েছেন যে, সমাজের তথাকথিত পবিত্রতা রক্ষার এই মিথ্যা অহংকার আসলে মানুষের প্রকৃত মানবিক সম্পর্ক এবং কৃতজ্ঞতাবোধকে অবমূল্যায়ন করে। লেখক এই সংকীর্ণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন, যেখানে জাত-পাতের বা ধর্মের দেওয়াল মানুষের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়।

​সেকালের সমাজব্যবস্থায় নারীদের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দী রাখার যে অদৃশ্য নিয়ম ছিল, ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের নারী চরিত্রগুলো সেই প্রথাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে। বিশেষ করে ভারতী বা সুমিত্রার চরিত্রগুলো কোনো গতানুগতিক অবলা নারীর প্রতিচ্ছবি নয়। তারা পুরুষের পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিপ্লবী আন্দোলনের ঝামেলার অংশীদার হয়েছেন, সমাজের ভ্রূকুটি বা লোকলজ্জাকে পরোয়া না করে নিজেদের স্বাধীন সত্তা বজায় রেখেছেন। সমাজ যখন ভারতীর স্বাধীনচেতা জীবনযাপন বা বিপ্লবীদের সঙ্গে তার অবাধ মেলামেশাকে বাঁকা চোখে দেখেছে, তখন লেখক দেখিয়েছেন যে সমাজের তথাকথিত ভদ্রলোকদের নৈতিকতা আসলে অন্তঃসারশূন্য। সব্যসাচী মল্লিক বা ভারতীর চরিত্র এ কথাই প্রমাণ করে যে, সংস্কারাচ্ছন্ন সমাজব্যবস্থা নারীমুক্তি বা প্রকৃত প্রগতির বড় অন্তরায়।

​উপন্যাসের বিপ্লবীরা কেবল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেননি, তারা সমাজকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মুক্ত করার পক্ষেও সচেষ্ট ছিলেন। তৎকালীন সমাজে শিক্ষাদীক্ষা ও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও মানুষের মন থেকে যে সামন্ততান্ত্রিক ও গোঁড়া মানসিকতা দূর হয়নি, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন সব্যসাচী মল্লিক। সমাজে প্রচলিত অন্ধ নিয়মকানুনকে অন্ধের মতো মেনে নেওয়া এবং প্রশ্নহীন আনুগত্যকে শরৎচন্দ্র তীব্রভাবে প্রতিহত করেছেন। উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে—
“যা ভুল তা তেত্রিশ কোটী লোকে মিলে বললেও ভুল।”
অর্থাৎ, সংখ্যাগুরু সমাজ কোনো ভুল প্রথা বা গোঁড়াকে দীর্ঘদিন ধরে সঠিক বলে মেনে নিলেও তা সত্য হয়ে যায় না। সমাজকে অন্ধত্ব থেকে বের করে আনতে হলে মুক্তবুদ্ধি ও সংস্কারমুক্ত চেতনার প্রয়োজন।
​’পথের দাবী’ উপন্যাসে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কেবল একজন দক্ষ কথাসাহিত্যিকই নন, বরং একজন সমাজসংস্কারক হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি দেখিয়ে গেছেন যে, বাইরের রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন তখনই সার্থক হতে পারে, যখন একটি জাতি ভেদাভেদ, কুসংস্কার, জাতপাত ও অন্ধ গোঁড়ামির মানসিক কারাগার থেকে পুরোপুরি মুক্তি লাভ করে।
একবিংশ শতাব্দীতে এসেও সমাজ থেকে জাত-পাত, শ্রেণিভেদ, ধর্মান্ধতা এবং রক্ষণশীলতা পুরোপুরি দূর হয়নি। বিজ্ঞানমনস্কতা ও আধুনিকতার প্রসারের কথা বললেও সমাজ এখনও বহু পুরনো কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। সমাজের এই জীর্ণ রূপকে ভেঙে এক সমতাভিত্তিক ও আধুনিক সমাজ গঠনের তাগিদ আজও এই উপন্যাস থেকে পাওয়া যায়।

দেশপ্রেমের অর্থ ও আত্মত্যাগের মহিমা:

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসে দেশপ্রেমের প্রচলিত ধারণাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সাধারণ অর্থে দেশপ্রেম বলতে জন্মভূমির প্রতি আবেগ বা ভালোবাসাকে বোঝানো হলেও, পরাধীন ভারতের প্রেক্ষাপটে লেখক দেখিয়েছেন যে প্রকৃত দেশপ্রেম কেবল আবেগের বিষয় নয়, এটি হলো চরম আত্মত্যাগ, ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন এবং আপসহীন সংগ্রামের নাম। ​রক্ত-মাংসের পারিবারিক সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দেশের মুক্তি ও মানবকল্যাণকে যারা বড় করে দেখেন, উপন্যাসের চরিত্রগুলোর মাধ্যমে শরৎচন্দ্র সেই সত্যকেই মূর্ত করে তুলেছেন। ‘পথের দাবী’ উপন্যাসে দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের এই মহিমা এক একটি চরিত্রের মধ্যেই দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। যেমন ​উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সব্যসাচী মল্লিক কেবল একজন রাজনৈতিক বিদ্রোহী নন, তিনি হলেন আত্মত্যাগের এক জীবন্ত প্রতীক। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের কাছে তিনি মোস্ট ওয়ান্টেড এবং ত্রাসের সঞ্চারকারী এক ব্যক্তি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা লাভ করা সত্ত্বেও, বিলাসবহুল জীবন বা পারিবারিক সুখের মোহ তাঁকে ধরে রাখতে পারেনি। তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন, স্ত্রী-পরিবার এবং সমস্ত সুখানুভূতি স্বেচ্ছায় বিসর্জন দিয়েছিলেন। তিনি মনে করেন দেশ যখন পরাধীন এবং সাধারণ মানুষ যখন শৃঙ্খলিত, তখন ব্যক্তিগত সুখ বা পারিবারিক বন্ধন আঁকড়ে পড়ে থাকা একধরনের আত্মপ্রবঞ্চনা। সব্যসাচী তাঁর মেধা, জীবন এবং তারুণ্য—সবকিছুই উৎসর্গ করেছিলেন দেশের স্বাধীনতার জন্য। তাঁর এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে, নিজের অস্তিত্বকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বিলীন করে দেওয়াই হলো প্রকৃত দেশপ্রেম।

​উপন্যাসে রক্ত-মাংসের পারিবারিক সম্পর্কের চেয়ে আদর্শের মিল এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা যে অনেক বেশি শক্তিশালী বন্ধন, তার এক অসাধারণ নিদর্শন পাওয়া যায় বিপ্লবী চরিত্রের রূপায়ণে। সমাজের চোখে যারা অপরাধী বা ফেরারি, দেশের মুক্তিসংগ্রামে তারাই হয়ে ওঠে সবথেকে আপন মানুষ।

উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র ভারতী নিজের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা সরাসরি বিপ্লবের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও, সে বিপ্লবীদের মহৎ উদ্দেশ্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করত এবং বিপদের দিনে তাঁদের আগলে রাখত। অপূর্বর মতো রক্ত-সম্পর্কের মানুষ যখন ভীরুতা বা সমাজের ভয়ে পিছিয়ে যায়, তখন ভারতী বা সুমিত্রার মতো চরিত্রগুলো নিজেদের জীবন বিপন্ন করে বিপ্লবীদের পাশে দাঁড়ায়। এর মাধ্যমে লেখক এই বার্তা দিয়েছেন যে, রক্তের সম্পর্কের চেয়ে দেশের মুক্তির জন্য যারা লড়াই করে, তারাই প্রকৃত আত্মীয় বা আপনজন। ​বিপ্লবীদের জীবন ছিল চরম অনিশ্চয়তা এবং মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে থাকা এক নিত্যদিনের লড়াই। ব্রিটিশ পুলিশের গোয়েন্দা জাল, ফাঁসির ভয় কিংবা দেশান্তরিত হওয়ার যন্ত্রণা—কোনো কিছুই তাদের দেশপ্রেমের ব্রত থেকে টলাতে পারেনি।

সব্যসাচী ও তাঁর সহকর্মীদের কর্মকাণ্ডে বারবার ফুটে উঠেছে দেশপ্রেমের জন্য প্রয়োজন চরম মূল্য পরিশোধের মানসিকতা। সব্যসাচী যখন পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ান, তখন তাঁর প্রতিটি মুহূর্ত কাটে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে। কিন্তু তবুও তাঁর কণ্ঠে বা আচরণে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা ভীতি প্রকাশ পায় না। দেশের জন্য এই নিঃশর্ত আত্মোৎসর্গই উপন্যাসটির অন্যতম প্রধান নৈতিক শক্তি।

​’পথের দাবী’ উপন্যাসে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দেশপ্রেমকে কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে উপস্থাপন করেননি। তিনি দেখিয়েছেন যে, প্রকৃত দেশপ্রেমের অর্থ হলো সমস্ত ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া, আরাম-আয়েশ এবং মোহের বিসর্জন দিয়ে একটি পরাধীন জাতিকে মুক্ত করার জন্য নিজের জীবনকে পণ রাখা। সব্যসাচী মল্লিকের চরিত্রের মাধ্যমে লেখক যে আত্মত্যাগের মহিমা ফুটিয়ে তুলেছেন, তা যুগে যুগে মুক্তিকামী মানুষকে নিঃস্বার্থ দেশসেবায় উদ্বুদ্ধ করে। বর্তমান ভোগবাদী ও আত্মকেন্দ্রিক যুগে দেশপ্রেম প্রায়শই স্লোগানসর্বস্ব বা সুবিধাবাদী রূপ নেয়। নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজ ও দেশের প্রতি নিঃস্বার্থ দায়িত্ববোধ এবং আত্মত্যাগের মানসিকতা জাগিয়ে তুলতে সব্যসাচীর আদর্শ আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

নারীর অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্ন:

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসে দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের যে স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে, তা প্রচলিত আবেগময় বা গতানুগতিক ধারার চেয়ে অনেক বেশি গভীর ও বাস্তবসম্মত। পরাধীন ভারতের সংকটময় মুহূর্তে লেখক দেখিয়েছেন যে, দেশের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা কেবল মুখের বুলি বা বাহ্যিক প্রকাশ নয়; বরং এটি হলো নিজের সমস্ত ব্যক্তিগত সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য এবং পারিবারিক মোহ বিসর্জন দিয়ে একটি কঠিন ও রক্তক্ষয়ী পথ বেছে নেওয়ার নাম। ​উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্র, বিশেষ করে বিপ্লবী নেতা সব্যসাচী মল্লিক এবং তাঁর সহযোগীদের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমের এই নতুন সংজ্ঞা ও আত্মত্যাগের মহিমা ফুটে উঠেছে। ​উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সব্যসাচী মল্লিক কেবল একজন রাজনৈতিক বিদ্রোহী নন, তিনি হলেন নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের এক জীবন্ত প্রতীক। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষিত। চাইলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের অধীনে কোনো উচ্চপদস্থ বা আরামদায়ক চাকরি করে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে অত্যন্ত সুখের ও বিলাসবহুল জীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই ব্যক্তিগত সুখের পথ মাড়াননি। সব্যসাচী তাঁর নিজের চিকিৎসক পেশা এবং মেধাকে ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য ব্যবহার না করে দেশের পরাধীনতা মোচনে এবং শোষিত মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেছিলেন। নিজের স্ত্রী, পরিবার এবং ভবিষ্যতের সমস্ত ব্যক্তিগত প্রাপ্তির মোহ ত্যাগ করে তিনি বেছে নিয়েছিলেন এক অনিশ্চিত, ফেরারি এবং মৃত্যুঝুঁকিতে ভরা জীবন। এই চরিত্রটি প্রমাণ করে যে, দেশ যখন পরাধীন, তখন ব্যক্তিগত সুখের অন্ধত্ব ত্যাগ করাই হলো প্রকৃত দেশপ্রেম।

​’পথের দাবী’ উপন্যাসে শরৎচন্দ্র দেশপ্রেমের এক দারুণ সামাজিক রূপ দেখিয়েছেন। সেখানে রক্তের সম্পর্কের চেয়েও দেশের মুক্তির জন্য লড়াই করা মানুষগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক অনেক বেশি গভীর ও পবিত্র হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। উপন্যাসে দেখা যায়, অপূর্বর মতো রক্ত-সম্পর্কের বা সমাজের তথাকথিত আপনজনেরা যখন পরাধীনতার ভয়ে বা সমাজের বকধার্মিকতার কারণে বিপ্লবীদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চায়, তখন ভারতী বা সুমিত্রার মতো চরিত্রগুলো নিজেদের জীবন বিপন্ন করে সেই বিপ্লবীদের আগলে রাখে। সব্যসাচী ও তাঁর সঙ্গীদের এই আত্মত্যাগী জীবনযাত্রা দেখে ভারতীর মনে যে শ্রদ্ধাবোধ জন্মায়, তা রক্ত-মাংসের পারিবারিক গণ্ডি ছাড়িয়ে এক বৃহত্তর মানবপ্রেম ও দেশপ্রেমে রূপান্তরিত হয়। এর মাধ্যমে লেখক এই বার্তা দিয়েছেন যে, যারা দেশের জন্য জীবন বাজি রাখে, রক্ত-সম্পর্কহীন মানুষও তাদের প্রকৃত দেশপ্রেমিক বলে।

​বিপ্লবী জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল চরম অনিশ্চয়তা, পুলিশি নির্যাতন এবং ফাঁসি বা দ্বীপান্তরের আশঙ্কায় পূর্ণ। কিন্তু এই ভয়ংকর বাস্তবতার সামনেও সব্যসাচী ও তাঁর সহকর্মীরা ছিলেন পাহাড়ের মতো অবিচল। উপন্যাসে ব্রিটিশ পুলিশের গোয়েন্দা জাল ছিন্ন করে ছদ্মবেশে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো সব্যসাচীর চরিত্রটি দেখায় যে, দেশের স্বাধীনতার জন্য কীভাবে তিল তিল করে জীবনকে পণ রাখতে হয়। তাঁর কাছে নিজের প্রাণ বা নিরাপত্তার চেয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা অনেক বড় ও পবিত্র দায়িত্ব ছিল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে এই আপসহীন লড়াই এবং তার জন্য হাসিমুখে যেকোনো শাস্তি বা মৃত্যুকে বরণ করে নেওয়ার মানসিকতাই দেশপ্রেমের চূড়ান্ত নিদর্শন।

‘পথের দাবী’ উপন্যাসে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দেশপ্রেমকে কোনো সাময়িক আবেগ হিসেবে দেখাননি। রক্ত-মাংসের পারিবারিক মোহের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মুক্তিসংগ্রামে নিঃস্বার্থভাবে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার যে আদর্শ সব্যসাচী মল্লিক ও অন্যান্য চরিত্র স্থাপন করেছে, তা পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার এক অনন্য আত্মত্যাগের মহাকাব্য।

নারী ক্ষমতায়ন এবং সমাজে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এই বিদ্রোহী নারীকক্ষগুলো পথপ্রদর্শক। পুরুষতন্ত্রের শৃঙ্খল ভেঙে নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাধীনচেতা হয়ে ওঠার যে বার্তা উপন্যাসে রয়েছে, তা বর্তমান নারীবাদী আন্দোলনের চেতনাকেও পরিপূরক করে।

আপসহীন নৈতিকতা বনাম সুবিধাবাদিতা:

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসে মানব চরিত্রের এক শাশ্বত দ্বন্দ্ব অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে—তা হলো ‘আপসহীন নৈতিকতা বনাম সুবিধাবাদিতা’। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের নিষ্ঠুর বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে মানুষ কীভাবে নিজের সুবিধা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে গিয়ে আদর্শের সঙ্গে আপস করে, আবার অন্যদিকে কীভাবে চরম প্রতিকূলতার মাঝেও মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়ে থাকে—তার এক অনন্য দলিল এই উপন্যাস।

​উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র অপূর্ব হলো মধ্যবিত্ত সমাজের সেই অংশের প্রতিনিধি, যারা মনে মনে দেশপ্রেম ও ন্যায়বিচারকে সমর্থন করে এবং বিপ্লবীদের প্রতি একধরনের সহানুভূতিও পোষণ করে, কিন্তু যখন নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ, নিরাপত্তা বা সামাজিক প্রথার প্রশ্ন আসে, তখন তারা গুটিয়ে যায় বা আপস করে বসে। অপূর্ব রেঙ্গুনে চাকরি করতে গিয়ে ব্রিটিশ পুলিশের অবিচার নিজের চোখে দেখেছে এবং তার বিরুদ্ধে ক্ষোভও প্রকাশ করেছে। সে বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিককে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে এবং বিপদের দিনে তাঁকে ও ভারতীকে সাহায্যও করে। কিন্তু একই সঙ্গে সে ব্রিটিশ আইনের ভয়ে ভীত এবং নিজের চাকরি ও সামাজিক অবস্থান হারানোর আশঙ্কায় সবসময় সংকিত থাকে। যখনই ব্রিটিশ প্রশাসন বা সমাজের বকধার্মিকতার মুখোমুখি হতে হয়, তখন সে আপসহীন লড়াইয়ের পথ ছেড়ে ভীরু ও সুবিধাবাদী অবস্থান নেয়।

অপূর্বর এই চরিত্রটির মাধ্যমে শরৎচন্দ্র ফুটিয়ে তুলেছেন সমাজের সেই বিশাল অংশের রূপ, যারা বড় বড় কথা বলতে ভালোবাসে বা পরিবর্তন চায়, কিন্তু পরিবর্তনের মূল্য বা ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত নয়। তাদের কাছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যই সবার আগে। ​অপূর্ব ছাড়াও উপন্যাসের পার্শ্বচরিত্র এবং তৎকালীন সমাজের তথাকথিত ভদ্রলোকদের আচরণে সুবিধাবাদিতার নগ্ন রূপ দেখা যায়। ব্রিটিশ সরকারের অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য বা নিজের চামচামি বজায় রাখার জন্য তারা বিপ্লবীদের ধরিয়ে দিতেও দ্বিধা করে না। ঔপনিবেশিক শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েও সমাজের একটা বড় অংশ যখন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হয়ে উল্টো তাদের তোষামোদ করে কিংবা বিপ্লবীদের ‘আইনভঙ্গকারী’ বা ‘অপরাধী’ বলে গালমন্দ করে, তখন সেই সুবিধাবাদী মানসিকতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তারা বিপ্লবীদের আদর্শকে বুঝতে চায় না, বরং নিজেদের আরামদায়ক জীবন বাঁচাতে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার পরিবর্তে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে বা শাসকের দালালিতে মেতে ওঠে। এই চরিত্রগুলোর মাধ্যমে লেখক দেখিয়েছেন যে, পরাধীনতা কেবল বাইরের শক্তির কারণে দীর্ঘস্থায়ী হয় না; বরং সমাজের ভেতরকার সুবিধাবাদী ও মেরুদণ্ডহীন মানুষেরা যখন অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে, তখনই শাসনব্যবস্থা আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

​সুবিধাবাদের ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান করেন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় বিপ্লবী চরিত্র সব্যসাচী মল্লিক। তাঁর জীবন এবং চরিত্র কোনো রকম আপস, ভীরুতা বা সুবিধাবাদের ধারেকাছেও দিয়ে যায়নি। সব্যসাচী ব্রিটিশ রাজের চোখে মোস্ট ওয়ান্টেড এবং তাঁর মাথার ওপর পুরস্কার ঘোষিত ছিল। তিনি জানতেন যে এই পথে পদে পদে মৃত্যু বা ফাঁসি অপেক্ষা করছে। তা সত্ত্বেও তিনি জীবনের এক মুহূর্তের জন্যও নিজের আদর্শের সঙ্গে বিন্দুমাত্র আপস করেননি। আত্মগোপন করে থেকেও তিনি দেশের সাধারণ মানুষকে সচেতন করার এবং শোষক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কাজ থেকে একচুলও সরে দাঁড়াননি। সব্যসাচীর আপসহীন অবস্থান নৈতিকতার এমন এক উচ্চতা তৈরি করে, যা সুবিধাবাদী অপূর্বর মতো চরিত্রগুলোকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। সব্যসাচী প্রমাণ করেন যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যক্তিগত ভয় বা সুবিধার কোনো স্থান থাকতে পারে না; নৈতিকতা মানেই হলো প্রয়োজনে সব কিছু হারিয়েও সত্য ও মুক্তির পক্ষে অনড় থাকা।

​’পথের দাবী’ উপন্যাসে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় খুব সুকৌশলে দেখিয়েছেন যে, মানুষের আসল পরিচয় বিপদের দিনে প্রকাশিত হয়। একদিকে অপূর্বর মতো চরিত্রগুলোর মানসিক দ্বন্দ্ব ও সুবিধাবাদিতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় সাধারণ মানুষের সহজাত দুর্বলতার কথা, অন্যদিকে সব্যসাচীর আপসহীন নৈতিকতা ও সাহসিকতা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে হলে সুবিধাবাদের মোহ ত্যাগ করে কীভাবে ইস্পাতকঠিন নৈতিক বল নিয়ে লড়তে হয়। আজও বাস্তব জীবনে নানামুখী অন্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে মেরুদণ্ড সোজা রাখা কিংবা সুবিধাবাদের মোহ ত্যাগ করার যে নৈতিক লড়াই একজন মানুষকে লড়তে হয়, তার দার্শনিক উত্তর মেলে এই উপন্যাসের পাতায় পাতায়।

​’পথের দাবী’ কেবল ব্রিটিশ আমলের কোনো রাজনৈতিক দলিল বা নিছক উত্তেজনাকর কোনো গল্প নয়; এটি হলো মানুষের আত্মমর্যাদা, সাম্য ও মুক্তির চিরন্তন ইশতেহার। যতদিন পর্যন্ত সমাজে শোষণ, বৈষম্য, অন্যায় এবং মানসিক সংকীর্ণতা থাকবে, ততদিন পর্যন্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাতে শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবী’ প্রাসঙ্গিক ও অপরিহার্য হয়ে থাকবে।#

Facebook
Twitter
LinkedIn
Print
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!