রানা চক্রবর্তী

ইতিহাস অনুসন্ধিৎসু একজন সাধারণ মানুষ।

কোম্পানি আমলে আধুনিক শিক্ষা ও মাতৃভাষার বঞ্চনা

বেনিয়া-শাসনের প্রথম যুগে বঙ্গদেশে ইংরেজি-শিক্ষা বিস্তারের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কোম্পানির শাসকদের ছিল না। ১৭৫৭ সালের পরবর্তী প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে তাঁরা ভারতের মাটিতে নিজেদের অবস্থানকে রাজনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে সুদৃঢ় করতে সচেষ্ট ছিলেন। তখন বঙ্গদেশে ইংরেজদের প্রতিষ্ঠিত আদালতের কাজের সুবিধার জন্য পণ্ডিত-মৌলভীদের নিয়োগ করতে হত বলে তাঁরা বাংলায় সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা-চর্চায় উৎসাহ দিয়েছিলেন।…

Read More

চর্যাপদের রচয়িতাদের ধর্মমত

চর্যাপদগুলির মাধ্যমে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরা যে ধর্মমত প্রচার করতে চেয়েছিলেন, সেগুলির আলোচনা প্রসঙ্গে অতীতের বিভিন্ন ব্যাখ্যাতারা বৌদ্ধধর্মমতের বিভিন্ন ‘যান’ বা সাধন-পদ্ধতির সমন্বয়টাই যে সেইসব সিদ্ধাচার্যদের মূল লক্ষ্য ছিল — সেদিকেই বেশি করে জোর দিয়েছিলেন। ইতিহাস বলে যে, চর্যাপদের সমকালীন বাংলার ভাবলোকে আত্মবিস্মৃতি এবং আত্মস্বাতন্ত্র্যরক্ষার প্রেরণা যুগপৎ কার্যকরী হয়েছিল, এবং সেই বোধের স্বাক্ষর চর্যাপদের বিভিন্ন গীতগুলির মধ্যে…

Read More

জীবনানন্দের প্রথম তিনটি কাব্যগ্রন্থ

জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হল – ঝরা পালক। এই গ্রন্থের প্রথম সংস্করণের শিরোনাম পৃষ্ঠায় গ্রন্থটির প্রকাশকাল হিসাবে – ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ – লেখা হয়েছিল। গ্রন্থটির ভিতরে ভূমিকা অংশে জীবনানন্দ ভূমিকা লিখে তারিখ দিয়েছিলেন – ১০ই আশ্বিন ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ। কিন্তু গ্রন্থটির ভূমিকায় আশ্বিন মাসের তারিখ থাকলেও জীবনানন্দ গবেষকদের মতে গ্রন্থটি পৌষ মাসের কোনো এক সময়ে প্রকাশিত…

Read More

ইতিহাসের দৃষ্টিতে দেবী সরস্বতী

দেবী সরস্বতীই সম্ভবতঃ হিন্দুদের পূজিত দেবদেবীদের মধ্যে একমাত্র দেবী, যাঁর উদ্ভব এবং স্বরূপ সম্বন্ধে এত অজস্র এবং এত পরস্পর-অসম্পৃক্ত তথ্য বেদ-পুরাণ-উপনিষদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন লোকপুরাণ এবং কিংবদন্তীগুলির মধ্যে থরে-থরে ছড়িয়ে রয়েছে, যেগুলো থেকে তাঁর সঠিক ঐতিহাসিক পরিচয় উদ্ধার করা রীতিমত দুরূহ ব্যাপার। প্রাচীন হিন্দু পুরাণবৃত্তান্তের বিভিন্ন পর্যায়ে এমনভাবে এই বিশেষ দেবীকে দেখা যায় যে,…

Read More

ঊনিশ শতকের বাংলার মুসলিম সমাজ ও আধুনিকতা

নিজের নিজের ধর্ম, সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনীতির মধ্যযুগীয় ঐতিহ্য নিয়ে বাংলার হিন্দু-মুসলমানরা একত্রে বৃটিশ আমলে প্রবেশ করেছিলেন; বাংলা ও বাঙালীর ইতিহাসে সেটাই আধুনিক যুগ নামে পরিচিত। আরবদের মত ইংরেজদেরও বাণিজ্যতরী প্রথমে বাংলার মাটিতে নোঙর ফেলেছিল। ১৬৯০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুতানুটি, গোবিন্দপুর ও কলকাতা ক্রয় করে নিজেদের বাণিজ্য-কুঠি নির্মাণ করেছিল। ১৬৯৬ সালে নিরাপত্তার কারণ…

Read More

মানুষ সত্যেন্দ্রনাথ

বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর অন্যতম সুহৃদ অধ্যাপক প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশ একবার তাঁর একটি বক্তৃতায় বলেছিলেন – “আচার্য বসুর বৈজ্ঞানিক দিকটা যদিও বা বাইরে থেকে কিছুটা বোঝা যায়, কিন্তু মানুষ সত্যেন্দ্রনাথকে বোঝা খুব সোজা নয়।” আর তাঁর ছাত্র রবীন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন – “সত্যেন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সান্নিধ্যে আসার সৌভাগ্য আমরা পেয়েছি অনেক পরে – তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে…

Read More

মাইকেল মধুসূদন দত্ত আজও কেন প্রাসঙ্গিক?

১৮৬০ সালে কোচবিহার রাজ্যের ম্যাজিস্ট্রেট পদে চাকরির প্রার্থী হয়ে মাইকেল মধুসূদন দত্ত কোচবিহারের মহারাজার কাছে যে দরখাস্তটি পাঠিয়েছিলেন, সেই দরখাস্তের একপাশে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর স্বহস্তে মহারাজার উদ্দেশ্যে লিখে দিয়েছিলেন – “একটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ পাঠাইলাম, দেখিও যেন ইহা বাতাসে উড়িয়া না যায়।” মধুসূদনের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ তখনো পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। সমকালীন বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ বলে যিনি তখন স্বীকৃত…

Read More

অম্বুবাচী, ইতু, নবান্ন ও পৌষ-পার্বণ: ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা

ঐতিহাসিকদের মতে শিরোনামের চারটি পার্বণই সংশয়বিবহিতভাবে শস্য উৎসব-ভিত্তিক ধর্মধারার সঙ্গে সম্পর্কিত। উর্বরতা-কেন্দ্রিক ধর্মধারার ক্ষেত্রে নারী ও ধরিত্রী সমার্থবোধক বলে গণ্য হওয়ার ফলে, সুদূর অতীতে যেসব সংস্কার সৃষ্টি হয়েছিল, অম্বুবাচী সেগুলির মধ্যে সবিশেষ উল্লেখনীয়। নতুন বর্ষার মুখপাতে পৃথিবী যখন প্রথম সিক্ত হয়ে ওঠে, তখন পৃথিবীকে প্রথম ঋতুমতী নারীরূপে গণ্য করবার আদিম সংস্কারই অম্বুবাচী পার্বণের উৎস। ঋতুর…

Read More
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!