বরিশালে কালিবাড়ি রোডে শহীদ মিনারের নকশাকারের নাম বিকৃতির অভিযোগ

বরিশাল নগরীর কালিবাড়ি রোডে জগদীশ সারস্বত গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের বিপরীত পার্শ্বে অবস্থিত শহীদ মিনারের আসল স্থপতি চিত্রশিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর চিত্ত হালদার এর নামের পরির্বতে প্রকৌশলী মানস কুমার মিত্র নাম লেখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এ বিষয়ে বরিশালের সাংস্কৃতিক ও সুধীজনরা ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। এ শহীদ মিনারের আসল স্থপতি হলেন চিত্রশিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর চিত্ত হালদার।

জানা যায়, বরিশাল শহরের কালিবাড়ি রোডে জগদীশ সারস্বত গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের বিপরীত পার্শ্বে অবস্থিত বহুদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা শহীদ মিনারটির সম্প্রতি সংস্কার কাজ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এ শহীদ মিনারটি ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের শহীদ স্মরণে ১৯৭২ সালে নির্মিত হয়েছিল। ২০২৩ সালের অক্টেবর মাসে নতুন যে সংস্কার কাজ করা হয়েছে; সেখানে উদয়নী ক্লাব ও ব্যায়ামাগার – শহীদ সেরনিয়াবাত স্মৃতি পাঠাগারের সৌজন্যে দেয়া নামফলকে স্থপতির নাম সংযুক্ত করা হয়েছে এবং লেখা হয়েছে এভাবে:“স্থপতি: প্রকৌশলী মানস কুমার মিত্র”।

সূত্র মতে, এটির নকশা করেছিলেন শিল্পী চিত্ত হালদার ও তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে এটি নির্মিত হয়েছিল। এ কালিবাড়ি রোডেই চিত্র হালদারের ছিল ‘চিত্রালী’ নামে একটি আর্ট গ্যালারি যা তিনি ১৯৬১ সালে শুরু করে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পরিচালনা করেন।

এ বিষয়ে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১ বরিশাল বিভাগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রদীপ কুমার ঘোষ পুতুল বলেন, কালিবাড়ি রোডে সারস্বত গার্লস স্কুলের সামনে যে শহীদ মিনারটি আছে সেটি তৈরি করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্ত হালদার।

শিক্ষাবিদ ও লেখক ফয়জুন নাহার ফেসুবকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা জানি এর রূপকার চিত্ত হালদার। মানস কুমার এলো কোথা থেকে।’

ডেইলি স্টার পত্রিকার বরিশাল প্রতনিধি সুশান্ত ঘোষের “বরিশালের দ্বিতীয় শহীদ মিনারটির নকশাকার ছিলেন চিত্ত হালদার” শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন যে, “১৯৭২ সালে সাংবাদিক ও উদয়নী ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি শহীদ সেরনিয়াবাতের উদ্যোগে রাণী ভট্টাচার্য, বদিউর রহমান, মানবেন্দ্র বটব্যাল, কবি মাসুদ আহম্মেদ, নওসের প্রমুখের সহযোগিতায় এখানে এই ব্যতিক্রমী শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়।” সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষ তার এই লেখায় আরো উল্লেখ করেন যে, “বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল ঘোষ জানান, এটি নির্মাণে শহীদ সেরনিয়াবাত প্রধান ভূমিকা পালন করেন, তবে এর নকশাকার ছিলেন চিত্ত হালদার।” এ প্রবন্ধে সুশান্ত ঘোষ আরো লেখেন,“প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এস এম ইকবাল বলেন,“আমার যতটুকু মনে পড়ে চিত্তদাই শহীদ মিনারের নকশা করেছেন।” সুশান্ত ঘোষ

গণসঙ্গীত শিল্পী ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুকুল দাসের উক্তি দিয়ে এ প্রবন্ধে লিখেছেন,“চিত্ত হালদার ছিলেন এর নকশাকার।”

অপরদিকে শহীদ মিনারে স্থপতির নাম প্রকৌশলী মানস কুমার মিত্র যুক্ত করার প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসুবকে পোস্ট দেন চিত্রশিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর চিত্ত হালদার এর মেয়ে নরওয়ে প্রবাসী ভায়োলেট হালদার। তিনি পোস্টে বলেন বরিশালের ঐতিহ্যবাহী এ শহীদ মিনারটির সঠিক ইতিহাস যাতে অক্ষুণ্ণ রয় সে বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও সচেতন বরিশালবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শহীদ মিনারটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনুধাবন করে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নকশাকার চিত্ত হালদারের নামফলক প্রতিস্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।

ভায়োলেট হালদারের পোস্টে বরিশালে সামাজিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা প্রতিবাদ জানিয়ে কমেন্ট করেছেন। তাঁরা অবিলম্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্ত হালদারের নাম সংযৃক্ত করার দাবি জানায়।♦

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on print
Print
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!