শিশির আজম এর পাঁচটি কবিতা

বাবা

এই নিরীহ আর হাবাগোবা লোকটাকেই তোমার ভালবাসা উচিৎ
কেন না যে মেয়েটির পায়ে তোমার সর্বস্ব তুমি ঢেলে দিয়েছো
যে মেয়েটির ভেতরের আচার প্রকৃতি ইনস্টলেশান
তোমার অনুভূতিতে এতোটা নাড়া দিয়েছে
উনি তার বাবা
আজ মেয়েটির ভেতর যে মনুমেন্টাল ম্যাটেরিয়ালিটি ইমেজ কম্পোজিশান
যা কিছু তুমি পাচ্ছ
তার প্রায় সবটাই ও পেয়েছে ওর বাবার কাছ থেকে
হ্যাঁ
মেয়েটির সত্যিকার অনুভূতির ছোঁয়া তুমি পাবে না
যদি না ওর বাবাকে
ওর ঐ নিরীহ হাবাগোবা বাবাকে ভালবাসতে পারো

চে’র বুকে কার্তুজগুলো

চে গুয়েভারাকে খুন করবার জন্য যে বুলেটগুলো ওর বুকের ভেতর
ঢুকে গিয়েছিল
খুব সহজে
ওরা এখন কোথায়
ওরা কি বেরোতে পেরেছে
ওরা
ঐ কার্তুজগুলো
না কি রয়ে গেছে আজও ঐ বুকের ভেতর

হয় তো ঐসব কার্তুজ চে’র বুকে সুখেই আছে
কেন না
চে তো জানে কার্তুজগুলো মেহনতি মানুষের
রক্ত দিয়েই তৈরি

বিশ্রী এই সূর্য

কোন কোন সূর্য সত্যি এতো বিশ্রী যে মেনে নেওয়া যায় না
না কি একটি সূর্য আরেকটি সূর্যের ধারাবাহিকতা মাত্র
অথবা নৈমিত্তিক জৈববিকিরণ
ধরুন আজকের
এই এখনকার
এই সুবাসিত ভোরের
সূর্য
একে পেয়ে হয় তো আপনি পুনর্বার হয়ে উঠবেন সতেজ আর আত্মবিশ্বাসী
নিঃশঙ্ক
হ্যাঁ
আপনি সুখ অনুভব করবেন
সুখ
একেই তো আমরা দেখেছি বলিভিয়ার জঙ্গলে
চে’র মৃতদেহের ওপর কি অবলীলায় হেঁটে বেড়িয়েছে
কি নির্লিপ্ত
না কি সুখী সুখী
জিগ্যেস করুন একে, এই সূর্যকে, অস্বীকার করুক ও

আফ্রিকা

আফ্রিকা এমন এক মহাদেশ যেখানে সবাই কালো
অর্থাৎ যারা কালো তারা আফ্রিকান
আমরাও তো কালো
আর কিছুটা বাদামী
আর কিছুটা সাদা
তাহলে আমরা কি আফ্রিকান হিসেকে নিজেদেরকে দাবী করতে পারবো
কিন্তু এই বিদঘুটে ব্যাপারটা ঘটালো কে
মানে আমরা না সাদা
না কালো
না পিওর বাদামী
আর এসব নিয়ে গাদা গাদা বই লিখলো কারা আর সিনেমা বানালো
আর ভাস্কর্য আর সেমিনার
আর কালো বলতে কি কেবল চামড়াই কালো
আমাদের ভাষাও তো কালো
হাসি কালো
নদী কালো
সূর্য কালো
খিদে কালো
অশ্রু কালো
রক্ত কালো
হ্যাঁ আজ অব্দি আমাদের রক্তও কালো
দেখে নাও
তাহলে আমরা কেন আফ্রিকান হবো না

এমন কোন মেয়ে

আজ অব্দি এমন কোন মেয়ে আমি পাইনি যার স্তনে দাঁত নেই
হ্যাঁ দাঁত
আর কোন দাঁতই অন্য কোন দাঁতের মতো না
এখন
আপনার সতর্ক হয়ে যাওয়া উচিৎ
কেন না এদের সবার বেড়ে ওঠার গল্প একরকম না
এদের প্রত্যেকের পারিবারিক কালচার
গ্রন্থাগার
বনভোজন
আলাদা
এখন
আপনার দরকার আত্মবিশ্বাসটুকু ধরে রাখা আর ওদের বুঝে ওঠা
বুঝে ওঠা
এটাই আসল
ওরা
ঐ স্তনেরা
আর ওদের দাঁতেরা
হয় তো ওরাও পারে আপনার হিংসা তীব্রতা প্রত্নবিষ মেনে নিতে

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on print
Print
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!