রানা চক্রবর্তী

ইতিহাস অনুসন্ধিৎসু একজন সাধারণ মানুষ।

বাংলার নব্যস্মৃতি

এখনও পর্যন্ত ঐতিহাসিকেরা বাংলায় রচিত নব্যস্মৃতির যেসব গ্রন্থগুলির সন্ধান পেয়েছেন, সেগুলির মধ্যে প্রাচীনতম গ্রন্থেই এদেশের নব্যস্মৃতির প্রায় মধ্যাহ্নকালের পরিচয় পাওয়া যায়। সুতরাং বাংলায় ঠিক কোন সময়ে নব্যস্মৃতি রচনা শুরু হয়েছিল, সেবিষয়ে ইতিহাস আজও অন্ধকারে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত বাংলায় নব্যস্মৃতির যেসব গ্রন্থ আবিষ্কৃত হয়েছে, সেগুলির মধ্যে ভবদেব ভট্টের গ্রন্থগুলি সবথেকে বেশি প্রাচীন। তাঁর জীবনকাল খৃষ্টীয় একাদশ-দ্বাদশ…

Read More

চর্যাপদের দার্শনিকতা

প্রাচীন বাংলার বৌদ্ধ সহজিয়া সাধক-সম্প্রদায়ের ধর্মসাধনার নিগূঢ় সংকেতবাণী বহন করে চর্যাপদগুলি আধুনিকযুগের মানুষের কাছে আত্মপ্রকাশ করেছে বলে দেখতে পাওয়া যায়। চর্যাপদে ইশারা ও ইঙ্গিতের মাধ্যমে অতীতের বাংলার সহজিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মসাধনার গুহ্যতত্ত্বকথা আভাসিত হয়ে উঠেছে। তবে সেই তত্ত্বকথার গহন-গভীরে প্রবেশ করবার আগে বৌদ্ধধর্মের সহজিয়া সম্প্রদায়ের উদ্ভবের ইতিহাসটি জেনে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।  সাধারণভাবে বৌদ্ধ ধর্মের চরম লক্ষ্যই…

Read More

ত্রয়ী: নিবেদিতা, মিস ম্যাকলাউড ও মিসেস ওলা বুল

মিস জোসেফিন ম্যাকলাউড ঊনবিংশ শতাব্দীর নিউইয়র্কের মার্কিন সমাজের একজন বিশেষ প্রতিপত্তিসম্পন্না মহিলা ছিলেন। ১৮৯৫ সালে নিউইয়র্কে স্বামীজীর সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়েছিল এবং এরপরে ক্রমে স্বামীজী ও তাঁর মধ্যে নিবিড় বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। স্বামীজী তাঁকে ‘জো’ বা ‘জয়া’ বলে সম্বোধন করতেন। মিস ম্যাকলাউডের অন্তরে স্বামীজীর জন্য গভীর শ্রদ্ধা ছিল। পরবর্তী সময়ে প্যারিস থেকে স্বামীজীর…

Read More

বরিশালের ব্রজমোহন কলেজের জীবনানন্দ

কবিতায় ‘অশ্লীলতার’ অভিযোগে কলকাতার সিটি কলেজ থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পরেও জীবনানন্দ কলকাতাতেই থেকে গিয়েছিলেন এবং এখানে ওখানে চাকরির চেষ্টা করতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু এরপরে বছর খানেক ধরে তিনি কোথাও কোনো চাকরি পাননি। সেই সময়ে নিজের হাতখরচ ও প্রেসিডেন্সি বোর্ডিংয়ের খরচ চালানোর জন্য তিনি সামান্য দু’-একটা টিউশনি করতেন মাত্র। তারপরে ১৯২৯ সালের কোন একসময়ে তিনি খুলনা…

Read More

লালন শাহের ইসলামীকরণ বিতর্ক

লালন ফকিরের জন্মসাল সম্পর্কে আজও কেউ নিঃসন্দেহ নেন। তবুও সাধারণভাবে তাঁর জীবনকাহিনী নিয়ে মানুষ যতটা পরিচিত রয়েছেন, সেটা এরকম— লালন এক হিন্দু বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পরে তিনি মহাব্যাধিতে আক্রান্ত হলে তাঁর আত্মীয়স্বজনরা তাঁকে পরিত্যাগ করেন। সেই সময়ে এক মুসলমান রমণী কর্তৃক তিনি শুশ্রূষা পেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে লালন ফকির ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন। নিজের জাত সম্পর্কে তাঁকে কোন…

Read More

লক্ষ্মী: এক বিচিত্র দেবীর ঐতিহাসিক বিবর্তন

সুকুমার রায় লিখেছিলেন—‘ছিল বেড়াল হয়ে গেল রুমাল!’ প্রশ্ন হল যে, তিনি যদি দেবী লক্ষ্মীর বাহনের বিবর্তন দেখতেন, তাহলে কি বলতেন? কারণ—আদিতে লক্ষ্মীর বাহন কিন্তু প্যাঁচা ছিল না, ছিল পশুরাজ সিংহ! বৈদিক সাহিত্যে লক্ষ্মী সম্পর্কিত যে বর্ণনা পাওয়া যায়, সেটার থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে—বৈদিকযুগের মধ্যেই প্রাচীন ভারতে লক্ষ্মী সংক্রান্ত ধর্মবিশ্বাসের জন্ম হয়েছিল। এই দেবী সংক্রান্ত…

Read More

দুর্গাপূজায় বেশ্যাদ্বারের মাটি: গূঢ়তত্ত্ব

“বাঙালির দুর্গাপুজোয় গণিকাঘরের মাটির (বেশ্যাদ্বারের মাটি) প্রয়োজন হয়। গণিকা ও গণিকালয় নির্মূল করে দিলে এ মাটি আসবে কোথা থেকে? বেশ্যাবাড়ির মাটি ছাড়া কি দুর্গাপুজো হবে? দুর্গাপুজো হবে কি হবে না, সেই ভিত্তিতে গণিকাবৃত্তিকে সমর্থন করব কি করব না সেটা নির্ভর করে না। একসময় নীলকণ্ঠ পাখি না ওড়ালে জমিদাররা দেবী বিসর্জন স্বপ্নেও ভাবতে পারত না। এখন…

Read More

লোকসাংস্কৃতিক ইতিহাসের দৃষ্টিতে মহালয়া

প্রকৃতপক্ষে মহালয়ার তিথি থেকেই দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে শারদোৎসবের সূত্রপাত হয়ে থাকে। লোকসাংস্কৃতিক গবেষকদের মতে—বাংলা সালপঞ্জির আশ্বিন মাসের অমাবস্যার এই মহালয়া নামটির উৎসের মধ্যেই এর ধর্মীয় সংস্কারগত তাৎপর্যকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। এজন্য—এই বিশেষ দিনটিতে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করবার যে রেওয়াজ স্মরণাতীত কাল থেকে প্রচলিত রয়েছে, সবার আগে সেটারই পরিপ্রেক্ষিতে এই নামটির নিহিতার্থ সন্ধান করবার প্রয়োজনীতা দেখতে পাওয়া…

Read More

পণ্ডিত বিদ্যাসাগর ও শকুন্তলা

পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর যদিও সেকেলে সংস্কৃত সাহিত্য পড়েছিলেন, কিন্তু তিনি কোন সেকেলে ধরণের মানুষ ছিলেন না। আর সেই কারণেই সেযুগের অন্য পাঁচজনের মত তিনি বিদ্যা-ব্যবসায়ী টুলো পণ্ডিত না হয়ে বিদ্যাজীবী হিউম্যানিস্ট হতে পেরেছিলেন। এখনো পর্যন্ত প্রায় সকলেই একথা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তাঁর বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব বহমান কালের সঙ্গে চলতে গিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত প্রত্যয়ে ও সামাজিক…

Read More

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শরৎচন্দ্র

অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের এমন এক আশ্চর্য প্রতিভা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তাঁর আগে ও পরে— যাঁর কোন দোসর খুঁজে পাওয়া যায় না। একথা সত্যি যে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবশ্যই শরৎচন্দ্রের থেকে অনেক বহুবিস্তারী প্রতিভাসম্পন্ন লেখক ছিলেন, তাঁরা দু’জনেই রসসৃষ্টিতে যেমন অনন্য ছিলেন, তেমনি আবার মনীষা ও বৈদগ্ধ্যের দিক থেকে বিচিত্রপথসন্ধানী জিজ্ঞাসায়…

Read More

সর্পপূজার বিবর্তন

লোকসংস্কৃতির গবেষকদের মতে, সর্পদেবী মনসাকে বিভিন্ন অর্বাচীন পুরাণে পাওয়া গেলেও বাস্তবে তাঁকে একজন লৌকিক দেবী হিসেবেই গণ্য করা উচিত। এর কারণ হল যে, সর্প-অধিষ্ঠাত্রী দেবীর উপাসনা পৃথিবীর আদিমতম ধর্মসংস্কারগুলির মধ্যে অন্যতম। সুতরাং দশহরা থেকে শুরু করে ভাদ্র মাসের নাগপঞ্চমী তিথি পর্যন্ত ভারতবর্ষের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সর্প-উপাসনার যে ব্যাপক রেওয়াজ দেখতে পাওয়া যায়, সেটাকে দেবীভাবগত বা ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ…

Read More

বাংলা গদ্যসাহিত্যে বিদ্যাসাগরীয় রীতি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৩০২ বঙ্গাব্দে লিখিত তাঁর ‘বিদ্যাসাগর-চরিত’ প্রবন্ধের সূচনাতেই পণ্ডিত বিদ্যাসাগরের চরিত্রের সর্বপ্রধান গুণ হিসেবে তাঁর— করুণার অশ্রুজলপূর্ণ উন্মুক্ত অপার মনুষ্যত্বের —কথা উল্লেখ করে নির্দ্বিধায় জানিয়েছিলেন যে— ‘তাঁহার প্রধান কীর্তি বঙ্গভাষা’। এরপরে নিজের সেই প্রবন্ধে বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে বিদ্যাসাগরের কীর্তি বিশ্লেষণ করে তিনি লিখেছিলেন— “বিদ্যাসাগর বাংলা ভাষার প্রথম যথার্থ শিল্পী ছিলেন। তৎপূর্বে বাংলায় গদ্যসাহিত্যের সূচনা…

Read More
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!