গবেষক: দেবাশীষ দাস
তত্ত্বাবধায়ক: ড. গোবিন্দ সরকার
বিভাগ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ
প্রতিষ্ঠান: সিকম্ স্কিলস্ ইউনিভার্সিটি
প্রকাশনা: সময়ের শব্দ
ISSN: 2704-1387
প্রকাশের তারিখ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সংক্ষিপ্তসার
বাংলা নাট্যজগতে গিরিশচন্দ্র ঘোষের অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি পৌরাণিক কাহিনিকে আধুনিক মঞ্চ-চেতনার সঙ্গে যুক্ত করে তার মধ্যে জাতীয় চেতনা, নৈতিক আদর্শ, কর্তব্যবোধ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তাঁর নাট্যভাবনা নিছক বিনোদননির্ভর ছিল না; সমাজসচেতনতা ও মানবিক চেতনার বিকাশও ছিল তার অন্যতম লক্ষ্য। পেশাদার বাংলা রঙ্গমঞ্চের বিকাশেও তাঁর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
‘সীতার বনবাস’ নাটকে রাজধর্ম ও ব্যক্তিজীবনের দ্বন্দ্বই প্রধান ট্র্যাজিক ভিত্তি। রামচন্দ্র প্রজাকল্যাণ ও রাজধর্মের স্বার্থে ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন দিয়ে সীতাকে বনবাসে পাঠান। কিন্তু রাজা রামের কঠোর কর্তব্যপরায়ণতার অন্তরালে ব্যক্তি রামের গভীর বেদনা ও সীতার প্রতি ভালোবাসা ক্রমশ প্রকাশিত হয়। অন্যদিকে সীতা নিজের অপমান ও দুঃখ সন্তানদের কাছে গোপন রেখে লব-কুশের মনে রামের প্রতি শ্রদ্ধা অটুট রাখেন। তাঁর এই আত্মসংযম মাতৃত্ব, নৈতিক মহত্ত্ব ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
লব-কুশের বাল্মীকি আশ্রমে বেড়ে ওঠা, রামায়ণগান এবং পরবর্তীকালে পিতৃপরিচয়ের উদ্ঘাটন নাটকের পারিবারিক ও মানবিক দ্বন্দ্বকে আরও গভীর করে। রাজসভায় সীতার আত্মমর্যাদাপূর্ণ অবস্থান এবং ধরিত্রীতে প্রত্যাবর্তন তাঁর চরিত্রের চূড়ান্ত প্রতিবাদ ও আত্মমর্যাদার প্রকাশ। তাঁর প্রস্থান রামচন্দ্রের ব্যক্তিজীবনেও এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করে। সীতার স্মৃতিকে ধারণ করে রামের পরবর্তী জীবন তাই রাজধর্মের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিমানুষের গভীর পরাজয় ও বেদনার কথাও প্রকাশ করে।
অতএব, ‘সীতার বনবাস’ কেবল পৌরাণিক কাহিনির নাট্যরূপ নয়; এটি রাজধর্ম ও ব্যক্তিসুখ, কর্তব্য ও ভালোবাসা, সামাজিক প্রত্যাশা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, নৈতিক আদর্শ ও মানবিক বেদনার এক গভীর সংঘাতের নাট্যরূপ। গিরিশচন্দ্র ঘোষের সাফল্য এখানেই যে, তিনি পুরাণের পরিচিত চরিত্রগুলিকে মানবিক দ্বন্দ্ব ও জীবনসত্যের সঙ্গে যুক্ত করে সমকালীন দর্শকের কাছে অর্থবহ করে তুলেছেন।
মূলশব্দ
গিরিশচন্দ্র ঘোষ, বাংলা নাট্যজগৎ, পৌরাণিক নাটক, ‘সীতার বনবাস’, রাজধর্ম, ব্যক্তিজীবন, কর্তব্য ও ভালোবাসা, রামচন্দ্র, সীতার আত্মমর্যাদা, লব-কুশ, বাল্মীকি আশ্রম, মাতৃত্ব, আত্মসংযম, নৈতিক আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ, জাতীয় চেতনা, পেশাদার রঙ্গমঞ্চ, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সামাজিক প্রত্যাশা, ট্র্যাজিক দ্বন্দ্ব, মানবিক বেদনা।
বাংলা নাট্যজগতে গিরিশচন্দ্র ঘোষের অবদান অবিস্মরণীয়। পৌরাণিক নাটকের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন ভারতীয় ঐতিহ্য ও পৌরাণিক কাহিনিকে আধুনিক মঞ্চে রূপ দিয়েছিলেন, অন্যদিকে তেমনই তার অন্তর্নিহিত জাতীয়তাবাদী চেতনা, নৈতিক আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছিলেন। বাংলা রঙ্গমঞ্চকে পেশাদার রূপ দিয়ে তিনি নাট্যচর্চাকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেন। তাঁর নাট্যভাবনা কেবল বিনোদনকেন্দ্রিক ছিল না; সমাজসচেতনতা, নৈতিক মূল্যবোধ, দেশাত্মবোধ এবং মানবিক চেতনার বিকাশেও তাঁর নাটকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর হাত ধরেই বাংলা নাটক আধুনিকতার এক নতুন পর্বে প্রবেশ করে।
গিরিশচন্দ্র ঘোষ তাঁর পৌরাণিক নাটকগুলিতে হিন্দু পুরাণ ও মহাকাব্যের কাহিনিগুলিকে সমকালীন মঞ্চ-চেতনার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। পৌরাণিক চরিত্র ও ঘটনাকে নতুন ব্যাখ্যায় উপস্থাপন করে তিনি দর্শকের মনে ভক্তি, শক্তি, কর্তব্যবোধ ও নৈতিক আদর্শের জাগরণ ঘটাতে চেয়েছিলেন। ফলে তাঁর পৌরাণিক নাটক নিছক অতীতের কাহিনি হয়ে থাকেনি; তা সমকালীন সমাজ ও মানুষের জীবনবোধের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত হয়ে উঠেছিল।
গিরিশচন্দ্র ঘোষের ‘সীতার বনবাস’ নাটকে রাজধর্ম ও ব্যক্তিজীবনের দ্বন্দ্বের একটি গভীর প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। এখানে রামচন্দ্র কেবল একজন স্বামী নন, তিনি একজন আদর্শ রাজা। প্রজাকল্যাণ ও রাজধর্মকে ব্যক্তিগত সুখের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়ে তিনি নিজের দাম্পত্যজীবনের সুখ বিসর্জন দেন। সীতাকে বনবাসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত এবং সেই সিদ্ধান্তের পর রামচন্দ্রের অন্তর্দ্বন্দ্ব তাঁর চরিত্রের এক গভীর মানবিক দিককে উন্মোচিত করে। রাজধর্ম পালন করতে গিয়ে ব্যক্তিগত বেদনা স্বীকার করার এই দ্বন্দ্ব নাটকটিকে নিছক পৌরাণিক আখ্যানের সীমা অতিক্রম করে একটি গভীর নৈতিক ও মানবিক ট্র্যাজেডিতে পরিণত করেছে।
‘সীতার বনবাস’-এ সীতার বনবাসের ঘটনা তাই শুধুমাত্র একটি পৌরাণিক পর্ব নয়; এর মধ্যে নিহিত রয়েছে কর্তব্য ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, রাজধর্ম ও ব্যক্তিসুখ, সামাজিক প্রত্যাশা ও মানবিক অনুভূতির জটিল সংঘাত। গিরিশচন্দ্র ঘোষ এই সংঘাতকে নাট্যরূপ দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের মানবিক মূল্যবোধ, কর্তব্যপরায়ণতা এবং ভাগ্যের নির্মম পরিহাসকে গভীরভাবে প্রকাশ করেছেন। বিশেষত সীতার বেদনা, নিঃসঙ্গতা ও অসহায়তার চিত্র দর্শকের মনে গভীর সহানুভূতির সৃষ্টি করে।
রামচন্দ্রের আত্মত্যাগ যেমন রাজধর্মের কঠিন আদর্শকে সামনে আনে, তেমনই সীতার বনবাসের বেদনা সেই আদর্শের মানবিক মূল্যকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। এই দ্বৈত অনুভূতিই নাটকটির ট্র্যাজিক তাৎপর্যকে গভীর করেছে। গিরিশচন্দ্র ঘোষ পৌরাণিক কাহিনিকে মঞ্চে এমনভাবে রূপায়িত করেছিলেন যে দর্শক সেখানে কেবল অতীতের কোনো কাহিনি দেখত না; বরং নিজের জীবন, সমাজ এবং নৈতিক সংকটের প্রতিচ্ছবিও খুঁজে পেত।
গিরিশচন্দ্রের নাট্যপ্রতিভার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল চরিত্রের অন্তর্গত মানসিক দ্বন্দ্বকে নাট্যরূপ দেওয়ার ক্ষমতা। তাঁর পৌরাণিক নাটকের চরিত্রগুলি তাই কেবল দেবদেবী বা মহাকাব্যের পরিচিত চরিত্র নয়; তারা সুখ-দুঃখ, কর্তব্য, দ্বিধা, বেদনা ও আত্মসংকটে জর্জরিত জীবন্ত মানুষ হিসেবেও দর্শকের সামনে উপস্থিত হয়। এই মানবিকীকরণের ফলে পৌরাণিক আখ্যান সমকালীন দর্শকের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য ও অর্থবহ হয়ে ওঠে।
সুতরাং গিরিশচন্দ্র ঘোষের পৌরাণিক নাটক বাংলা নাট্যসাহিত্যে কেবল ধর্মীয় বা পৌরাণিক কাহিনির নাট্যরূপ নয়। এর মধ্যে নিহিত রয়েছে জাতীয় চেতনা, নৈতিক আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ এবং গভীর জীবনদর্শন। তাঁর নাট্যকর্ম দর্শককে শুধু বিনোদন দেয়নি; বরং তাকে নিজের জীবন, কর্তব্য, নৈতিকতা ও অস্তিত্বের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এই কারণেই বাংলা নাট্যজগতের ইতিহাসে গিরিশচন্দ্র ঘোষের অবদান আজও বিশেষভাবে স্মরণীয় এবং তাঁর পৌরাণিক নাট্যভাবনা এখনও প্রাসঙ্গিক।
বলা বাহুল্য, রামের আত্মত্যাগ শুধুমাত্র সীতার সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর পরিসর অনেক গভীর ও বিস্তৃত। রাজা হিসেবে রামচন্দ্রকে শুধু সীতার স্বামী হিসেবে নয়, সমগ্র অযোধ্যার শাসক হিসেবে তাঁর কর্তব্য পালন করতে হয়। এই কর্তব্য পালনের পথে তাঁকে পারিবারিক শান্তি, ব্যক্তিগত আবেগ, দাম্পত্য সুখ এমনকি স্বামীর অধিকার পর্যন্ত বিসর্জন দিতে হয়। ফলে রামের আত্মত্যাগ আসলে ব্যক্তিজীবনের সুখ ও রাজধর্মের মধ্যে এক গভীর সংঘাতের প্রকাশ।
রামচন্দ্র একই সঙ্গে অযোধ্যার রাজা এবং সীতাদেবীর স্বামী। এই দুই পরিচয়ের মধ্যে কোনো স্বাভাবিক বিরোধ থাকার কথা নয়; কিন্তু সীতার বনবাসের পরিস্থিতিতে এই দুই পরিচয়ই পরস্পরের মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়। স্ত্রী সীতার প্রতি রামচন্দ্রের গভীর প্রেম, তাঁর প্রতি বিশ্বাস এবং স্বামী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব একদিকে; অন্যদিকে রাজা হিসেবে প্রজাদের প্রতি তাঁর কর্তব্য, রাজ্যের সামাজিক মর্যাদা রক্ষা এবং প্রজামতের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা অন্যদিকে। এই দ্বন্দ্বই রামচন্দ্রের চরিত্রকে জটিল ও ট্র্যাজিক করে তোলে।
রামচন্দ্র জানতেন সীতাদেবী পবিত্র। সীতার চরিত্র সম্পর্কে তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাসে কোনো সংশয় ছিল না। কিন্তু রাজা হিসেবে তিনি এমন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, যেখানে প্রজাদের একাংশ সীতার সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অর্থাৎ এখানে ব্যক্তিগত সত্য এবং সামাজিক ধারণার মধ্যে একটি তীব্র সংঘাত সৃষ্টি হয়। রামচন্দ্রের কাছে সীতার পবিত্রতা ছিল অন্তরের সত্য, কিন্তু একজন প্রজানুরঞ্জক রাজা হিসেবে প্রজাদের মনে রাজার পরিবার সম্পর্কে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সেটিকেও তিনি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করতে পারেননি। ফলে যে সিদ্ধান্ত তিনি গ্রহণ করেন, তা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ভিত্তিতে নয়; বরং রাজধর্মের কঠোর আদর্শের ভিত্তিতে।
এইখানেই রামের আত্মত্যাগের প্রকৃত তাৎপর্য। তিনি সীতাকে পরিত্যাগ করেননি তাঁর প্রতি অবিশ্বাস থেকে; বরং রাজা হিসেবে নিজের ব্যক্তিগত অধিকারকেই বিসর্জন দিয়েছেন। স্বামী হিসেবে তিনি সীতাকে নিজের কাছে রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু রাজা হিসেবে প্রজাদের বিশ্বাস ও রাজধর্মকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর কাছে ব্যক্তিগত সুখের চেয়ে রাজ্যের প্রতি কর্তব্য বড় হয়ে ওঠে। ফলে রামের জীবনে যে বিচ্ছেদ ঘটে, তা কেবল স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ নয়; এটি একজন মানুষের ব্যক্তিসত্তা ও একজন রাজার কর্তব্যসত্তার মধ্যে সংঘর্ষের করুণ পরিণতি।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রামচন্দ্রের নিজের জীবনও সুখময় থাকে না। সীতাকে বনবাসে পাঠানোর পর তাঁর রাজ্য হয়তো বাহ্যিকভাবে শাসিত হতে থাকে, কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত জীবন হয়ে ওঠে গভীর বেদনা ও শূন্যতায় পূর্ণ। অর্থাৎ প্রজাদের সন্তুষ্ট করার জন্য যে আত্মত্যাগ তিনি করেন, তার মূল্য তাঁকেও দিতে হয়। এখানে গিরিশচন্দ্র ঘোষ রামের চরিত্রকে একমাত্রিক আদর্শ চরিত্র হিসেবে দেখান না; বরং তাঁর অন্তর্দ্বন্দ্ব, মানসিক যন্ত্রণা এবং ব্যক্তিগত বেদনার মধ্য দিয়ে তাঁকে মানবিক করে তোলেন।
‘সীতার বনবাস’-এর এই দিকটি নাটকের ট্র্যাজিক তাৎপর্যকে আরও গভীর করে। একদিকে সীতা স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অসহনীয় বেদনার সম্মুখীন হন, অন্যদিকে রামও প্রিয়তমা স্ত্রীকে হারিয়ে ব্যক্তিগত সুখ থেকে বঞ্চিত হন। অর্থাৎ এই আত্মত্যাগে কোনো পক্ষই প্রকৃত অর্থে বিজয়ী হয় না। রাজধর্ম রক্ষিত হলেও ব্যক্তিমানুষের সুখ বিনষ্ট হয়। গিরিশচন্দ্র ঘোষ এই দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়েই প্রশ্ন উত্থাপন করেন—একজন আদর্শ রাজার কর্তব্যের সীমা কোথায় এবং সেই কর্তব্য পালনের জন্য ব্যক্তিজীবনের কতখানি বিসর্জন গ্রহণযোগ্য?
সুতরাং রামের আত্মত্যাগকে শুধু সীতার বিচ্ছেদ হিসেবে দেখলে তার প্রকৃত তাৎপর্য ধরা পড়ে না। এর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক শান্তির বিসর্জন, দাম্পত্য সুখের ত্যাগ, ব্যক্তিগত আবেগের দমন এবং স্বামীর অধিকারকে রাজধর্মের কাছে সমর্পণ। রামচন্দ্রের এই আত্মত্যাগ তাঁকে একদিকে আদর্শ রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, অন্যদিকে তাঁর চরিত্রের গভীর মানবিক বেদনাকেও প্রকাশ করে। এই দ্বৈততার মধ্যেই ‘সীতার বনবাস’-এর মূল ট্র্যাজিক শক্তি নিহিত এবং এখানেই গিরিশচন্দ্র ঘোষের নাট্যভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্থকতা।
প্রজাগণ কথার তীর ছুঁড়লে রামচন্দ্র লক্ষ্মণকে বলেন –
১.“ছিল সীতা রাবনের ঘরে কহে কি হে ! প্রজাগণে?”
(১ম অঙ্ক/১ম গর্ভাঙ্ক)
সীতাকে রাবণ জোরপূর্বক হরণ করে নিয়ে গেলে রাম রাবণের যুদ্ধের মাধ্যমে সীতা উদ্ধার হয়। সীতা রাজ্যে ফিরে এলে রাজ্যের প্রজাগণ সীতার সতীত্ব নিয়ে কুকথা রটনা করছেন। রাজার প্রজানুরঞ্জকতাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে সীতাদেবীকে বনবাসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। রামচন্দ্র লক্ষ্মণকে দায়িত্ব দেন সীতাদেবীকে বনবাসে পাঠানোর। রামচন্দ্রের আজ্ঞা পালনে ইচ্ছা না থাকলেও লক্ষ্মণ বাধ্য হন। লক্ষ্মণ সীতাকে ঘুরতে যাওয়ার নাম করে বনবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ভ্রমণ করতে করতে আবহাওয়ার অবনতি ঘটলে সীতাদেবী অযোধ্যায় ফিরে যাওয়ার কথা বলেন লক্ষ্মণকে। সেই সময় লক্ষ্মণ সীতাদেবীকে বলেন –
২. “শুনো শুনো মাতৃস্বরূপিনী সীতা ,
জ্যেষ্ঠের আজ্ঞায় এনেছিগো বনবাসে।”
(২য় অঙ্ক/২য় গর্ভাঙ্ক)
লক্ষ্মণ সীতাদেবীকে বনবাসের কথা বললেন। সীতাদেবী লক্ষ্মণের কথায় হতাশ হয়ে মূর্ছা যান। সীতাদেবী লক্ষ্মণকে বললেন আমি এখন পাঁচ মাসের গর্ভবতী। গর্ভে আমার রামের সন্তান। লক্ষ্মণ বলেন এই আদেশ জ্যেষ্ঠের। রামের আদেশকে সীতাদেবী মুখ বুজে মেনে নিলেন কারণ স্বামীর প্রতি গভীর প্রেম, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, ভক্তি ও সম্মান ছিল। সীতাদেবী সেই মুহূর্তে লক্ষ্মণকে বলেন –
৩. “যেন জন্ম জন্মান্তরে হয় মম রাম সম স্বামী,
সীতা নারী না হয় তাঁহার।”
(২য় অঙ্ক/২য় গর্ভাঙ্ক)
সীতাদেবী রামের আদেশকে মুখ বুজে সহ্য করছেন, আবার বলছেন জন্ম-জন্মান্তরে যেন রামের মতো স্বামীকে পাই। রাম রাজা হয়ে দাম্পত্য সুখ পাচ্ছেন না তাই সীতাদেবী বলছেন আমার মত নারী যেন আর কোনো জন্মে রামচন্দ্রের স্ত্রী না হয়।
রামচন্দ্র সীতাদেবীকে স্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভক্তি করতেন। রাজধর্ম পালন করতে গিয়ে সীতাদেবীকে বনবাস পাঠান। বনবাসে পাঠানোর মাধ্যমে দাম্পত্য সুখকে বিসর্জন দেন। রামচন্দ্র ছিলেন সূর্যবংশের রাজা। সূর্যবংশের দুর্নাম রটনায় তিনি নিন্দিত। নিন্দা অখ্যাতি রটনায় রামচন্দ্র মনের মধ্যে অনুশোচনা বোধ প্রকাশ করছেন।
৪. “তব বংশে রটিল অখ্যাতি !
করি ব্রহ্মবধ আনিনু কলঙ্ক ঘরে ।”
(১ম অঙ্ক/১ম গর্ভাঙ্ক)
অর্থাৎ, ব্রহ্মবধ করে আমি বিবাহ করলাম। সীতাকে ঘরে নিয়ে এসে বংশে অখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল। সীতার মতো নারীকে আমি বিবাহ করে বংশের উজ্জ্বলতা, মান, সম্মান সমস্ত কিছু জলাঞ্জলি দিলাম। রামচন্দ্র মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে বলছেন –
৫. “ব্রহ্মবধ সীতা লাগি;
অকলঙ্ক কূলে কলঙ্ক সীতার তরে!”
(১ম অঙ্ক/১ম গর্ভাঙ্ক)
সীতাদেবী বনবাসে গিয়ে মহর্ষি বাল্মীকির আশ্রমে আশ্রয় গ্রহণ করেন। সেখানেই তিনি যমজ দুই পুত্রের জন্ম দেন। মহর্ষি বাল্মীকি তাঁদের নাম রাখেন লব ও কুশ। ধীরে ধীরে তাঁরা আশ্রমের পরিবেশে বেড়ে উঠতে থাকেন এবং মহর্ষি বাল্মীকি তাঁদের বিদ্যা, শাস্ত্র ও অস্ত্রশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলেন। অন্যদিকে সীতাদেবী তাঁদের মনে রামচন্দ্রের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তির বীজ রোপণ করেন। তিনি সন্তানদের রামের নাম শেখান, রামের গুণগান করেন এবং তাঁদের কাছে রামচন্দ্রকে একজন মহান রাজা, রঘুকুলতিলক, পরম ধার্মিক ও প্রজাবৎসল নরপতি হিসেবে তুলে ধরেন।
কিন্তু এখানে সীতার মাতৃত্বের এক গভীর আত্মসংযমের পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি নিজের বঞ্চনা, দুঃখ ও অপমানের কথা সন্তানদের সামনে প্রকাশ করেননি। এমনকি দীর্ঘকাল তাঁদের কাছে তাঁদের পিতৃপরিচয়ও গোপন রেখেছিলেন। এর পিছনে ছিল এক গভীর মাতৃসুলভ উদ্দেশ্য—সন্তানদের মনে যেন তাঁদের পিতার প্রতি কোনো ক্ষোভ বা বিদ্বেষ জন্ম না নেয়। নিজের জীবনের যন্ত্রণা তিনি নিজের মধ্যেই ধারণ করেছিলেন, কিন্তু সন্তানদের হৃদয়ে পিতার প্রতি শ্রদ্ধাকে অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন। ফলে সীতার নীরবতা নিছক নীরবতা নয়; এটি এক অসীম আত্মসংযম ও মাতৃত্বের মহত্তর প্রকাশ।
লব ও কুশ যখন তাঁদের মায়ের কাছে প্রশ্ন করত—‘রাম কে, মা?’—তখন সেই প্রশ্নের মধ্যে যেমন ছিল পিতৃপরিচয় জানার স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা, তেমনই ছিল সীতার কাছে এক গভীর ব্যক্তিগত বেদনার পুনরাবৃত্তি। সন্তানদের সামনে তিনি রামের পরিচয় দিয়েছেন মহত্ত্বের ভাষায়; কিন্তু নিজের হৃদয়ের ক্ষত প্রকাশ করেননি। রামের নাম উচ্চারণ করতে করতে তাঁর নয়ন থেকে নীরব অশ্রু ঝরে পড়লেও তিনি সন্তানদের কাছে রামের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেননি। এইখানেই সীতার চরিত্রের এক অসাধারণ নৈতিক উচ্চতা প্রকাশিত হয়—যে মানুষটির সিদ্ধান্তে তাঁর জীবনে অসীম দুঃখ নেমে এসেছে, সন্তানদের কাছে সেই মানুষটির মর্যাদা তিনি নিজেই রক্ষা করেছেন।
পরবর্তীকালে মহর্ষি বাল্মীকি লব ও কুশকে রামায়ণের কাহিনি ও গান শিক্ষা দেন। রামের অশ্বমেধ যজ্ঞের সময় তাঁদের সেই রামায়ণগান রাজসভায় পরিবেশিত হয়। রামায়ণের কাহিনি গাইতে গাইতেই লব ও কুশ নিজেদের পিতৃপরিচয়ের সত্যের সম্মুখীন হয়। অর্থাৎ যে পিতার পরিচয় সীতাদেবী এতদিন নিজের বেদনার আড়ালে গোপন রেখেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই পিতার কাহিনিই দুই সন্তানকে তাঁদের জন্মপরিচয়ের কাছে নিয়ে আসে। এখানে রামায়ণ শুধু একটি মহাকাব্য নয়; তা হয়ে ওঠে পিতা, মাতা ও সন্তানের বিচ্ছিন্ন সম্পর্ককে পুনরায় সংযুক্ত করার এক গভীর মাধ্যম।
সীতাদেবীকে রাজসভায় উপস্থিত করা হলে তাঁর জীবনের আর-একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়। তিনি নিজের সতীত্বের বিষয়ে আর কোনো পরীক্ষা দিতে অস্বীকার করেন এবং নিজের অন্তরের সত্যকে সর্বসমক্ষে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর কাছে রামচন্দ্রের স্থান ছিল একান্ত ও অদ্বিতীয়। ফলে সীতার সিদ্ধান্তকে কেবল ব্যক্তিগত অভিমান হিসেবে দেখলে তার গভীর তাৎপর্য অনুধাবন করা যায় না। এর মধ্যে রয়েছে বারবার সন্দেহের সম্মুখীন হওয়া এক নারীর আত্মমর্যাদার ঘোষণা। নিজের পবিত্রতা প্রমাণের জন্য আর কোনো পরীক্ষা নয়—এই অবস্থান সামাজিক বিচারব্যবস্থার সেই মানদণ্ডের বিরুদ্ধেই এক শক্তিশালী প্রতিবাদ, যেখানে নারীকেই বারবার নিজের চরিত্রের প্রমাণ দিতে হয়।
সীতার ধরিত্রীতে প্রত্যাবর্তনের ঘটনায় ‘সীতার বনবাস’-এর ট্র্যাজেডি চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। সীতা আর রামের জীবনে প্রত্যাবর্তন করেন না। তাঁর প্রস্থান শুধু একজন স্ত্রীর প্রস্থান নয়; এটি রামচন্দ্রের ব্যক্তিজীবনের সবচেয়ে বড় শূন্যতার সূচনা। লব ও কুশও মাতৃহারা হয়ে গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়। রামচন্দ্র তাঁদের আপন সন্তানরূপে গ্রহণ করেন। কিন্তু এই পুনর্মিলন সীতার অনুপস্থিতিকে পূরণ করতে পারে না। বরং সীতার অনুপস্থিতি রামচন্দ্রের জীবনের অপূর্ণতাকে আরও প্রকট করে তোলে।
সীতার ধরিত্রীতে প্রত্যাবর্তনের পর রামচন্দ্রের পুনর্বিবাহ না করা এবং সীতার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে তাঁর স্বর্ণমূর্তি পাশে রাখা—এই ঘটনাগুলির মধ্যে তাঁর দাম্পত্যনিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রতিফলিত হয়। এর মধ্য দিয়ে অন্তত নাট্যব্যাখ্যার স্তরে বোঝা যায় যে রামের সিদ্ধান্তকে সীতার প্রতি ব্যক্তিগত অবিশ্বাসের সরল ফল হিসেবে দেখলে তাঁর চরিত্রের জটিলতা ধরা পড়বে না। রাজা হিসেবে যে সিদ্ধান্ত তাঁকে নিতে হয়েছিল, ব্যক্তি রাম হিসেবে সেই সিদ্ধান্তের বেদনা তিনি সারাজীবন বহন করেছেন। অর্থাৎ রাজধর্ম পালন করতে গিয়ে তিনি সীতাকে হারিয়েছেন, কিন্তু হৃদয় থেকে সীতাকে কখনো হারাননি।
এইখানেই ‘শাসক রাম’ এবং ‘ব্যক্তি রাম’-এর মধ্যে গভীর পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শাসক রাম প্রজামতের প্রতি দায়বদ্ধ, রাজধর্মের প্রতি কঠোর এবং রাষ্ট্রের মর্যাদা রক্ষায় নিজের ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত। কিন্তু ব্যক্তি রাম একজন স্বামী, যিনি সীতাকে ভালোবাসেন; একজন পিতা, যিনি লব-কুশকে আপন করে নিতে চান; একজন মানুষ, যিনি বিচ্ছেদের যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হতে পারেন না। রাজধর্মের কঠোর দাবি এবং ব্যক্তিমানুষের কোমল অনুভূতির এই সংঘাতই রামচরিত্রকে গভীর ট্র্যাজিক মাত্রা প্রদান করে।
সীতার ধরিত্রীতে প্রত্যাবর্তন তাই রামচন্দ্রের রাজধর্মের একটি করুণ পরিণতি। প্রজাদের দৃষ্টিতে ‘শাসক রাম’ হয়তো রাজধর্মের কঠোর অনুসারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন, কিন্তু ‘ব্যক্তি রাম’-এর জীবনে সেই সিদ্ধান্ত এক অপূরণীয় ক্ষত সৃষ্টি করে। রাজধর্মের আনুষ্ঠানিকতা রক্ষিত হলেও ব্যক্তিগত ন্যায়বোধ, দাম্পত্যসুখ ও মানবিক পূর্ণতা আর ফিরে আসে না। ফলে রামের সাফল্যের মধ্যেই তাঁর পরাজয়ের বীজ নিহিত থাকে।
এই কারণেই ‘সীতার বনবাস’-এর ট্র্যাজেডি শুধু সীতার নয়, রামেরও। সীতা হারিয়েছেন স্বামী, সংসার ও সামাজিক নিরাপত্তা; রাম হারিয়েছেন তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী এবং ব্যক্তিগত জীবনের সুখ। লব-কুশ হারিয়েছে পিতা-মাতার সান্নিধ্যের স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন। অর্থাৎ একটি রাজধর্ম রক্ষা করতে গিয়ে একটি সম্পূর্ণ পরিবারকে যে মূল্য দিতে হয়েছে, তার মধ্যেই নাটকের গভীর মানবিক বেদনা নিহিত।
সুতরাং সীতার ধরিত্রীতে প্রত্যাবর্তনকে কেবল একটি পৌরাণিক অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখলে ‘সীতার বনবাস’-এর প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করা যায় না। এটি একদিকে সীতার আত্মমর্যাদা ও প্রতিবাদের চূড়ান্ত প্রকাশ, অন্যদিকে রামচন্দ্রের রাজধর্ম ও মানবিক সত্তার সংঘাতের করুণ পরিণতি। যে রাজধর্ম ব্যক্তিগত সুখকে বিসর্জন দিয়ে রাষ্ট্রের মর্যাদা রক্ষা করে, সেই রাজধর্মই শেষ পর্যন্ত রামচন্দ্রের ব্যক্তিজীবনকে শূন্য করে দেয়। এখানেই গিরিশচন্দ্র ঘোষের নাট্যভাবনার গভীর ট্র্যাজিক শক্তি—রাজা রাম হয়তো কর্তব্যে অবিচল, কিন্তু মানুষ রাম সেই কর্তব্যের মূল্য সারাজীবন বহন করে চলেছেন।
পরিশেষে বলা যায়, গিরিশচন্দ্র ঘোষ বাংলা থিয়েটারকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখেননি; বরং সমাজসংস্কার, নৈতিক চেতনা ও দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তোলার এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে তাকে ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর পৌরাণিক নাটকে রাজার আত্মত্যাগ, কর্তব্যবোধ ও নৈতিক দ্বন্দ্বের যে চিত্রায়ণ দেখা যায়, তা আজকের সামাজিক ও নৈতিক পরিস্থিতিতেও নতুন করে ভাবার অবকাশ সৃষ্টি করে। পুরাণের আখ্যানকে সমকালীন জীবনবোধের সঙ্গে যুক্ত করে গিরিশচন্দ্র বাংলা মঞ্চনাটককে বিষয়গত গভীরতা ও শিল্পমর্যাদার এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত করেছিলেন।
তথ্যসূত্র:
১. সীতার বনবাস, দ্বিতীয় সংস্করণ, শ্রী গিরিশচন্দ্র ঘোষ প্রণীত, কলিকাতা আমহার্স্ট স্ট্রীট নিউ বৃটেনিয়া প্রেস ডিপোজিটারি কর্তৃক প্রকাশিত। পৃ. ৩
২. তদেব, পৃ. ৩৬
৩. তদেব, পৃ. ৩৮
৪. তদেব, পৃ. ৬
৫. তদেব, পৃ. ৭
গ্রন্থপঞ্জি:
১. ড. দেবেশ কুমার আচার্য্য (২০০৪)— ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’, ইউনাইটেড বুক এজেন্সি টি ৩১/বি কলেজ রোড, কলিকাতা – ৭০০০০৯।
২. গিরিশচন্দ্র ঘোষ – ‘সীতার বনবাস’ ২য় সংস্করণ, কলিকাতা আমহার্স্ট স্ট্রীট নিউ বৃটেনিয়া প্রেস ডিপজিটারি কর্তৃক প্রকাশিত।
৩. ড. রথীন্দ্রনাথ রায় ও ড. দেবীপদ ভট্টাচার্য (১৯৬৯) ‘গিরিশ রচনাবলী’ ১ম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, ৩২ এ আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোড, কলিকাতা ৭০০০৯।
৪. শ্রী প্রফুল্ল কুমার দাশগুপ্ত (১৩৮৪)— ‘গিরিশ-নাট্যসাহিত্য পরিচিতি’ সান্যাল এন্ড কোম্পানী, ১/১৩ বঙ্কিম চ্যাটার্জ্জী স্ট্রীট কলিকাতা ৭০০০৭৩।




