আমাকে যেতে হবে

চোখে শুকনো অশ্রু নিয়ে এসেছি কলামন্দিরের পাশে তুমি দাঁড়িয়ে আছ তোমার মাথায় নেমেছে বিকেল এখনও আমি বৈরাগ্যকে খুঁজছি কেউ চিৎকার করে ডাকেনি আমাকে অপেক্ষার দিনরাত পার হয়ে একটি নিজস্ব আয়নায় এসে দাঁড়িয়েছি তুমি কলামন্দিরের পাশেই রূপক ডানে বামে ঘাড় ঘোরাচ্ছ অতীত ও ভবিষ্যৎ মাঝখানে স্বর্ণময়ী রোদ তোমার মুখের আলো তীব্র নিয়ন্ত্রণের ভেতর ছুটে যাচ্ছে ট্রেন…

Read More

বৃটিশ অনুগ্রাহী মির্জা গালিব

‘‘মন্ত্রীর জন্য স্তুতিকাব্য লেখা আমার কাজ নয়। বরং তোমাদের মন্ত্রীকে বোলো, তিনি যেন আমাকে দেখলে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। তবেই তাঁর দরবারে যাব আমি।’’ – একদা এই কথাগুলো যিনি বলেছিলেন, তাঁর বয়স তখন মাঝদুপুর পার করেছিল, তাঁর দাড়িতে অল্প পাক ধরেছিল, আর তাঁর শরীরটাও তখন ভেঙে যাচ্ছিল নানা কারণে। তিনি ‘অসদউল্লা খান বেগ’ ওরফে ‘মির্জা…

Read More

ছায়া কাহিনী

চোখ মেললেই দেখি ভাসছে পতন কান পাতলেই শুনি তার আস্ফালন বাতাসে ভাসছে বিনাশ কালের গান বেলা শেষে বন্দী হয়েছে প্রলম্বিত ছায়া মনের সঙ্গে চলে মনামনী বিশ্লেষণের নিবেদনে খুঁজি অপছন্দের অনুভব বিমূঢ ছায়ায় নি.শব্দ রোদ্দুরের চলে রৌদ্র স্নান মুহূর্তে মিলিয়ে যায় নিরুদ্দেশের সংলাপ

Read More

নব্বই দশকের ব্রহ্মশিশিরে স্নান করা কবি তৈমুর খান

নব্বই দশকের বাংলা কবিতাকে তৈমুর খান ভরিয়ে দিয়েছেন প্রাচুর্যে ও সম্পন্নতায়। তাঁকে নিয়ে দু একটি কথা যা বলা অত্যন্ত জরুরি। একান্ত নিজস্ব অন্ধকারে যখন “সব মানুষগুলি গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে” সব মুখগুলি লুকিয়ে পড়েছে মানুষের মুখে সেই সময়েই “কোথায় পা রাখি” এই জিজ্ঞাসার আচ্ছন্নতা থেকে কবি তৈমুর খানের কবিতার যাত্রাপথ শুরু। তারও আগে রয়ে গেছে…

Read More

গল্প: হাত

“উস আওরাত কো পেহেলে ইধার লেকে আও!” মেজর ইয়াকুব খোশ মেজাজে তার দরাজ গলায় হাঁক ছাড়লেন। আজকে গ্রামে গিয়ে দারুণ সুন্দরী এক বাঙালি মেয়েকে ধরে এনেছে মিলিটারি বাহিনী,তাকে নিয়ে কে আগে ফুর্তি করবে সেটার হিসাব চলছে। মেজর ইয়াকুব কথা বলার পরে আর কথা বলা চলে না,মেয়েটাকে আগে সেই খাবে! অগত্যা গজরাতে গজরাতে সুন্দরীকে ইয়াকুবের হাতে…

Read More

বাংলা সাহিত্যের মুক্তিদাতা মধুসূদন

মধুসূদন দত্তের কাছ থেকে ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ কাব্য উপহার পাওয়ার পরে তাঁর বাল্যবন্ধু রাজনারায়ণ বসু তাঁকে ১৮৬০ সালের ২৯শে জুন তারিখের একটি পত্রে লিখেছিলেন— “Your reward is very great indeed, immortality.” শুধু রাজনারায়ণ বসুই নন, সমকালের ও পরবর্তীকালের সব সাহিত্য সমালোচকই এককথায় স্বীকার করে নিয়েছেন যে, মাইকেল মধুসূদন দত্তই আধুনিক বাংলা তথা ভারতের নবজাগরণযুগের ভাবরাজ্যে বিপ্লবের প্রথম…

Read More

গল্প: জল সইতে

থালা ভরে ফুলফল সাজিয়ে দক্ষিণেশ্বর থেকে নদীপথে বেলুড় মঠ যেতেন আমার ঠাকুরদা অশোক মিত্র৷ ঈশ্বর সম্বন্ধে যদিও আমার নাক কোঁচকানি সেই ছেলেবেলা থেকেই, তবুও কেন যেন ঈশ্বরপ্রাপ্তির পথে আমাকেই বারবার সাথে নিতে চাইতেন ঠাকুরদা অশোক৷ আমিও অবলীলায় বইতাম পুজোর উপকরণ৷ বইতাম আমার অশোকের জন্য৷ ভালোবাসার মানুষটির ভারটুকু বয়ে দিতাম৷ জল কেটে নৌকো এগোত৷ অশোক দেখতেন…

Read More

গল্প: যুদ্ধ ফেরত

“ভাইজান আপনে কি মুক্তিযোদ্ধা?” পাশে হেঁটে চলা লোকটার কথা শুনে তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো দিদার। কোনো কথা বললো না। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে হাঁটছে সে। পাড়ি দিতে হবে আরো বহু পথ। শুধু যে সে একা বা তার পাশের লোকটি হাঁটছে তা কিন্তু না। হাঁটছে শ’য়ে শ’য়ে লোক। প্রত্যেকের গন্তব্য নিজের বাড়ি। নাড়ির টান বড় টান।…

Read More

গল্প: মা

ক্ষেতের আইলে হেলান দিয়ে পা গুলোকে ছড়িয়ে, কোমড়ে থাকা সিগারেটটা জ্বালায় রফিক। লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে আবিররাঙা আকাশের দিকে তাকায়। মার্চের ২৬ তারিখের পর দেশের অবস্থা যখন ভয়াবহ, রফিক ফজলুল হক হলের দোতলার ২০১নং রুমটাতে বন্দী। ট্রাংকে রাখা মুড়ি আর পুকুর পাড়ের আমগাছটা সঙ্গী। বন্ধুদের অনেকেই হল ছেড়ে চলে গেছে, কেউবা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে সীমান্তের…

Read More

ভারতীয় খৃষ্টান সমাজে জাতিভেদপ্রথা

যদিও বৌদ্ধ, জৈন বা ইসলাম ধর্মের মত খৃষ্টধর্মেও তত্ত্বের দিক থেকে জাতিপ্রথার কোন জায়গা নেই, কিন্তু তবুও ভারতীয় খৃষ্টান সমাজের একটা বড় অংশ কিন্তু অতীত থেকে এদেশে প্রচলিত থাকা জাতিপ্রথাকে মেনে চলেন বলে দেখতে পাওয়া যায়। একথার উদাহরণস্বরূপ বলা চলে যে, এদেশের আদি সিরীয় খৃষ্টানদের সাম্প্রদায়িকতা একটা প্রবাদস্বরূপ এবং তাঁরা কোনদিনই নিজেদের সম্প্রদায়ের বাইরে স্বধর্মীদের…

Read More

হাইকু: মকর সংক্রান্তি

#১ পৌষ পার্বণে রসালো সমীরণে তোমাকে চাই। #২ সাকরাইনে ওড়ে রঙিন ঘুড়ি আকাশ ছুঁয়ে। #৩ চব্বিশে শুনি সাকরাইন মানা অজ্ঞঘোষণা। #৪ চালের গুড়ি শীতে সাজে নক্সায় মায়ের হাতে। #৫ মাটির বাসনে নব চালের ভাত নতুন ঘ্রাণ। #৬ বিহুর সুরে সুখ-দুঃখ গাথা পৌষপার্বণ। #৭ পিঠা পার্বনে ক্যাকটাসের কাঁটা হুল ফোটায়। #৮ পিঠা খাবে না মরুভূমির বোলতা…

Read More

বাঙালীর পৌষ-পার্বণ

বছর বছর পৌষ-পার্বণ আসে ও চলে যায়, কিন্তু অতীতের মত এই পার্বণ-উৎসবে বাঙালীর প্রাণ আর তেমন করে নেচে ওঠে কি? সেই পিঠে-পুলি খাওয়ার আমোদ; সেই পার্বণী গানের লহর; সেই হাসি-ঠাট্টা, ফুলের সাজ, বেশের ঠাঁট আর আছে কি? এখনও আগের মতোই পৌষ-পার্বণের দিনে গঙ্গা-স্নান করবার জন্য ভিড় হয় বটে, এখনও আগের মতোই গঙ্গাসাগরে অত্যধিক যাত্রী সমাগম…

Read More
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!