ভালোবাসার নদী

আমি পাপ জানিনা পূন্য জানিনা শুধু বুকের ভেতরের অনন্তধারা নদীটিকে জানি সেই নদীর পাড়ে এসো হাতে রাখ হাত এখনো কি বৃষ্টি ভিজতে হয়? বৃষ্টি ভিজবে অকিঞ্চিৎকর শরীর ভাসিয়ে নেবে সুখ দুঃখ মান অভিমান আগুন খেলা সারা করে গাঙচিলের দল ফিরে গেছে নিজস্ব স্বপ্নের খোঁজে ধুলো মালঞ্চের ধুলো মেখে নিচ্ছে রাতের জ্যোৎস্না আজ ঘাস কুমারীদের ফুলশয্যা,…

Read More

মৃত্যুর ভেতরে

জলে নেভানো একশব্দ তাড়া করে আগুনকে যে ধরে রাখে কালো কয়লার মধ্যে চোখের আড়ালে নীল বিষ পড়ে শিশিরে মানুষের মৃত মুখ নিকষ তিমিরে শব্দকে খুঁজে পাওয়া সনেটের গেঁথে যাওয়ার ভেতর চাঁদ খেকো গলির নিশ্চিন্ত সুরঙ্গে গুমোট গরম শামুকের মতো করুনা সকলের চোখে শব্দ ছিল ঘামে ভিজে নরম নৈরাশে কতো শব্দ জলজ্যান্ত নদীর ভেতরে উষ্ণ প্রগলভ…

Read More

সাম্প্রতিক কবিতার অভিমুখ

ব্যক্তিঅভিক্ষেপ থেকে নৈর্ব্যক্তিক অভিক্ষেপ: তোমার মধ্যে প্রতিবাদ আছে। মানবিকতা আছে। সংবেদনশীল হৃদয়ের স্পন্দন আছে। তোমার মধ্যে ভালো মানুষও আছে। কিন্তু তবু তুমি কবি নও, যতক্ষণ না পর্যন্ত তোমার ভাষাকে শিল্প মাধুর্যে উন্নীত করতে পারছ। যতক্ষণ না পর্যন্ত তোমার ভাষাকে কাব্যিক ব্যঞ্জনায় আলাদা করতে পারছ। যতক্ষণ না পর্যন্ত তোমার শব্দকে বহুমুখী বিনির্মাণে প্রয়োগ করতে পারছ। যতক্ষণ…

Read More

ছোটগল্প: জুটি বন্দিশ

শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী হিসেবে বিনায়ক মিত্র একজন স্বনামধন্য শিল্পী। দেশের তো বটেই বিদেশ থেকেও বিভিন্ন পুরস্কারে উনি ভূষিত। খুব কম বয়সেই বিয়ে করেন সমবয়সী বিদিশাকে৷ বিয়ের দু’বছরের মধ্যেই একটি কন্যা সন্তান হল। বিনায়ক মিত্রকে সংগীত জগতে প্রতিষ্ঠিত করার মূলে মূলত যার অবদান তিনি হলেন ওনার গুরু যাকে সবাই এক নামে বলে শিল্পীর শিল্পী পন্ডিত মুরুলি…

Read More

পাখির আরোগ্য

যদি মরাপাখি দেখতে চাও একদিন এসো পাশে বসে দেখে নিও সে রঙ, মৃত্যুজ্বালা ভাসা ভাসা শ্যাওলার কী অপার জীবন ছেঁড়া অস্থির আরক্ষা অসহায় নেভা আলো তোমার একটুখানি দেখা — পদ্যের রোদ্দুর সুষমা খিলখিলে ভেতর-তন্ত্র বাঁচে ভাঙন মন-গঙ্গা বিষে নীল দেহ নির্বিষে অভয় বোধ গাছ জোড়া জোছনার পেয়ালায় বসি যে প্রগাঢ় একা রাত্রি বন্ধনে যদিও যাব…

Read More

ধারাবাহিক উপন্যাস: এ এক অন্য আঁধার (পর্ব- ৬)

কালবৈশাখী ঝড়ে প্রকৃতি যেমন আন্দোলিত হয়, আকাশের ভিতরের অবস্থা ঠিক সেইরকম। ক’দিন ধরে একটানা মানসিক কসরত করে চলেছে কিন্তু কিছুতেই বহমান ঝড়ের বাইরে আসতে পারছে না যদিও বিশেষ এক অকুতোভয় ভাবনায় দুলতে বেশ লাগছে। শুধু ভাবছে, তার পদমর্যাদার তুলনায় এ ঝড় কিছুই নয়। এতদিনের অভিজ্ঞতা বলছে, কালবৈশাখী সারা বছর চলে না। শরৎ, হেমন্ত কিংবা শীতে…

Read More

সতীদাহ না সহমরণ: আড়াইশো বছরে রামমোহনের প্রাসঙ্গিকতা

রামমোহন রায়। ভারতের ইতিহাসে চিরকালই স্মরণযোগ্য। ভারতের আধুনিক মানুষের শিরোপার দাবিদার তিনি। হুগলির রাধানগরে তাঁর জন্ম এবং পরবর্তীতে তিনি কর্মসূত্রে কলকাতা আসেন। পরিবারের দিক থেকে দেখলে তাঁর প্রপিতামহ ছিলেন নবাবের গকর্মচারী। অনেক ভাষা জ্ঞান ও বেদান্ত পাঠ তাঁর দৃষ্টিকে স্বতন্ত্র করেছিল। কলকাতাতে পাকাপাকি বাস, ইউরোপীয় উদারপন্থীদের সঙ্গে মেলামেশা এবং কথিত নিজ বৌদিকে সহমৃতা হতে দেখে,…

Read More

বৃক্ষদেবী

দূরে টিমটিম আলো। পায়ের পাতায় সর্ষে চলাচল, হে বৃক্ষদেবী- তুমি কার? কে তোমার? শিকড় এপার ওপার মাঝে বরাভয় রহস্যময় ধেয়ে আসা আমাদের অগ্নিসংস্কার। ক্রমশ প্রকট হয়ে যায় উৎস উৎসব আলোর কান্নার স্বর বা মন আজ শুধু লিখি এ জীবন অঙ্গীভূত অঙ্গারক পাতাল ভৈরব।

Read More

প্রথম মহিলা আত্মজীবনীকার ‘রাসসুন্দরী দেবী’

প্ৰথম আত্মজীবনী লেখার জন্য বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম মহিলা লেখকদের মধ্যে স্মরণীয় হয়ে আছেন রাসসুন্দরী দেবী। তিনি জন্মেছিলেন ১৮০৯ সালে। অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার পাতাজিয়া গ্রামে। ১৮৬৮ সালে তাঁর যখন সাতষট্টি বছর বয়স, তখন ‘আমার জীবন’ নামে তাঁর আত্মজীবনীর প্রথম খণ্ডটি প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের মধ্যে ছোট ছোট মোট ১৬টি রচনা রয়েছে। এবং‌ সেই বই প্রকাশের একুশ…

Read More

আধুনিক ভারতীয় কথাসাহিত্য: প্রসঙ্গ ‘ময়লা আঁচল’

‘ময়লা আঁচল’ ফণীশ্বরনাথ রেণুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। ২৩টি অধ্যায়ে এই উপন্যাসটি সম্পূর্ণ হয়েছে। বিবৃত হয়েছে আন্তেবাসী সমাজে বসবাসকারী মানুষজন ও উপজাতিদের কথা। হিন্দিকথাসাহিত্যে তথা ভারতীয় কথাসাহিত্যের ইতিহাসে এটি একটি মাইলস্টোন বলা যেতে পারে। এইজন্যই শিবদান সিংহ চৌহান বলেছেন : ‘ময়লা আঁচলে শুধু কিষাণ কেন, তথাকথিত ছোটজাত, উপজাতি আর আদিবাসীদের ভেতরেও তাদের জন্যে পূর্ব নির্দিষ্ট বাঁধা…

Read More

ভাষাহীন আজ

আজ হৃৎপিণ্ড কথা বলতে চাইছে কিন্তু আশ্চর্য সে কথার কোনও শব্দ নেই নিষ্পলক চোখ কোনও দূরের দিকে তাকিয়ে আছে একা কাকে খুঁজছে? কাকে? কার সঙ্গে তার বহুদিন হয়নিকো দেখা? অনুভূতি একা একা কাঁদে ভাষা নেই তার, কোথা পাবে ভাষা? নীরবতা নিরুত্তর প্রশ্নের কাছে আসে প্রশ্ন শুধুই ব্যাকুল হয় উদাসীন বিকেলের কাছে একখণ্ড মেঘ ভেসে গেলে…

Read More

দাহ

আমার দুহাতে কলঙ্করেখার উচ্ছলতা শরীর জুড়ে অপব্যয় আর ছন্নছাড়া ভয় আমি রচনা করি কবিতা স্তব্ধ রাতে শীতার্ত হয়ে আছে দুঃখ প্রহরী অনেক দিন বসিনি সহজে মুখোমুখি তোমার শ্যামল মুখে আজও সজীব সঞ্চার করি লেখার পটভূমিকায় উড়েছে সমুদ্রের আন্তরিক হাওয়া আমার মেরুদন্ড ঘিরে ওঠে ভ্রষ্ট উপদ্রব নীলাভ তর্জনী ডুবে যায় অনিঃশেষ ভূমধ্যসাগরে জ্বলে ওঠে শরীর বন্য…

Read More
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!