কবিতা এক ভিন্নতর জীবনবীক্ষার পথ দেখায়
—কবিতা না লিখলে কী করতাম? —আর পাঁচজন যা করে, সংসার, জীবিকার জন্য লড়াই, ধর্ম-কর্ম, কলহ-বিবাদ ইত্যাদি। —যাঁরা কবিতা লিখছেন তাঁরা কি এসব করেন না? —অবশ্যই করেন, তবু আমার মনে হয় তাঁদের এসব করার মধ্যেও একটা সৌন্দর্য বিরাজ করে। সমস্ত সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে একটা মানবিক আকাশ ঝলমল করে। একটা বিজ্ঞ পরিশীলিত আশ্চর্য জীবনআচারের মুগ্ধতা খেলা করে। অবশ্য…
গীতিকাব্য: নোনা মাটির নোলক (পর্ব- ৬)
মাটির গান গাইতে গাইতে নোনাজলে ভেসে বেড়ায় মদন, ছমির মিঞারা। প্রকৃতি কাড়ে তাদের সুখ- স্বপ্ন- আশা- ভরসা। নোনাস্রোতে ভাঙনের সাক্ষী হয় রোজ রোজ। রাত নামলে ছমিরের চোখে ভাসে মেয়ে গোলাপির মুখ। শোনে বিবির অসহায় কান্না।কালক্রমে বাঁজা হারামনি শোনে নারী জীবনের কাঙ্খিত মা ডাক। নোনা জল শোনায় নিখোঁজ হওয়া মানুষের গল্প। আখ্যান জড়িয়ে বাঁচে বিপন্ন লোকসংস্কৃতি,…
বনফুলের একটি অপ্রকাশিত চিঠি
বনফুলের এ অপ্রকাশিত চিঠিটি সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট ডাকসংগ্রাহক ও গবেষক আখলাকুর রহমান। এ চিঠিটি সংগ্রহের নেপথ্যের গল্পটি এ রকম: ১৯৭৩ সাল, তখন আখলাকুর রহমান রাজশাহী কলেজের ছাত্র, কলেজের শতবর্ষ উৎযাপন উপলক্ষে কলেজ সাজাতে চুনকাম ও রঙের কাজ চলছিল আর কলেজের অফিসের বস্তা বস্তা কাগজ বারান্দায় ফেলে রাখা ছিল। রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং রাজশাহী…
ভাষাশিল্পী প্রমথ চৌধুরী
আধুনিক মনস্ক বিলেত ফেরত সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর আর জ্ঞানদানন্দিনীর কন্যা ইন্দিরা দেবীর স্বামী তথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্রির জামাতা ছিলেন প্রমথ চৌধুরী৷ সে সময় জ্ঞানদানন্দিনী ছেলে, মেয়ে এবং ভৃত্যকে সঙ্গে নিয়ে একাই বিলেত পাড়ি দিয়েছিলেন। সত্যেন্দ্রনাথ এতটাই আধুনিক মনের মানুষ ছিলেন যে ঘরের বউকে নিয়ে প্রকাশ্য রাজসভায় গিয়েছিলেন তৎকালীন গভর্নর জেনারেলের মজলিসে। সত্যেন্দ্রনাথ আনন্দিত হয়ে এই প্রসঙ্গে…
প্রতিমা
বোধন শুরু হয়ে গেছে এতক্ষণ আর কেউ আসবে না পোটো-খুড়ো ফিরে ফিরে দোরগোড়ার প্রতিমাগুলোর দিকে তাকায়। যেগুলো চলে গেছে, তাদের নিয়ে এখন জাঁকজমক, আনন্দ-উৎসব আর এগুলো ফের বছরের জন্য ঢুকে পড়বে উপরের মাচায় সারা বছর ধরে কালিঝুলি মেখে হবে খাক বোধন শুরু হয়ে গেছে এতক্ষণ আর কেউ আসবে না আসেনি কেউই পেরিয়ে গেছে মেয়ের বয়স সে…
এ এক অন্য আঁধার (শেষ পর্ব)
একটা সূক্ষ্ম পর্যালোচনার দোল শুরু হয়েছে ভিতরে ভিতরে। তাতেই আকাশ দুলছে। জীবনে সে যত অপরাধ করেছে, তাতেই তার জীবন অপরাধ অনুভূতির সমুদ্র হয়ে উঠেছে। চারিত্রিক শক্তি মানুষের মূল পরিচয়। সেটাকেই সে উজ্জ্বল করে তুলতে পারে নি। এমনিই দুর্ভাগ্য যে হেনার সঙ্গে দেখা হলেও নিজের বাড়িতেও আনতে পারল না সে। দুচোখের সামনে তার যে কালো হাতটা…
পরিবর্তন
বান্টির আজকাল মাকে দেখলে একইসাথে রাগ হয় আর কষ্টও হয়। কেন মা কিছু বুঝতে পারেনা! কেন এত বিশ্বাস মায়ের! অন্ধবিশ্বাস কথাটাও যেন মায়ের কাছে হেরে যায়। মা কবে বুঝবে সব? কবে প্রশ্ন করতে শিখবে? কিন্তু সেদিন কি হতে পারে, তা ভেবেও বান্টির গায়ে কাঁটা দেয়। কিভাবে সামাল দেবে মা তখন সব? পারবে মা সহ্য করতে?…
অণুগল্প: দুগ্গা দুগ্গা
স্ত্রী ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললেন, এই তোমার ফোনটা দাও তো… স্বামী বলল, কেন? — আমার ফোনে ব্যালেন্স নেই। মাকে ফোন করব। স্বামী ফোন দিতেই স্ত্রী হাতে নিয়ে দেখলেন, একটা ফোন ঢুকছে। তাই বললেন, একটা ফোন এসেছে। স্বামী বললেন, দাও। স্বামীর চালচলনে যথেষ্ট সন্দেহ করেন তিনি। তাই বললেন, আমি ধরব। বলেই, ফোনটা ধরলেন, হ্যালো… কে বলছেন?…
সাহিত্যে বাঙালি নারী: রামী
নির্জন রাত। শান্ত প্রকৃতি। বাসুলি দেবীর মন্দিরের পুজারি চণ্ডীদাস এক মনে কৃষ্ণের ভজন গেয়ে চলেছেন। গ্রামের কিছু মানুষ তন্ময় হয়ে সেই গান শুনছেন। উদাস প্রকৃতির মানুষ এই চণ্ডীদাস। সংসারি হওয়ার কোনও বাসনা নেই। ছেলেবেলা থেকেই দেবতার প্রতি অসীম ভক্তি আর ঐশ্বর্য বলতে পদ রচনা এবং তাতে সুর দিয়ে কণ্ঠের মায়াজাল সৃষ্টি করা। যে একবার তাঁর…
দেশ কাল: কবি ও কবিতা
কবিতা আজও সার্বিকভাবে গ্রহণীয় হয়ে ওঠেনি। সামান্য কিছু মানুষ কবিতা পড়েন। কবি এখনও অনেকের কাছে অবজ্ঞা বা করুণার পাত্র। তবে শুধু আজই নয়, শেলীর যুগেও একজন সমালোচক (T.Peacock) বলেছেন যে, ‘কাব্যের স্থান লৌহ-যুগে।’ যখন যুদ্ধবাজ তস্কর-বীরদের স্তুতিগান করাই কাব্যের মূল লক্ষ্য ছিল। সমাজ বুদ্ধির দ্বারা পরিচালিত হলে নাকি কাব্য নষ্ট হয়। এখনও কবিরা অতীত স্বর্ণ-যুগের…
কবিতা: প্রশ্ন
মাগো প্রতিবছর শরতের এই চারটি দিনে তুমি আসো আমাদের ভীষণ কাছাকাছি, খুশির মঙ্গল শঙ্খ বেজে ওঠে দশদিকে। শরত সাজিয়ে রাখে পদ্মের কলি তোমার ওই রক্তিম চরণের প্রান্তে। মহালয়ার তর্পণের মন্ত্রে বেজে ওঠে আগমনী দশমীর শেষ লগ্নে চলে যাও কৈলাস ভূমি। মাগো তোমারই তো প্রতিরূপ আমাদের প্রতিটি ঘরে ঘরে– তবু কেন এই দুর্গারা চির অবহেলা অনাদরে…
