গারো পাহাড়ের চিঠি: মনসা পুজা

কাল মনসা ভাসান। শ্রাবণ সংক্রান্তি তিথীতে পুজো। কোথাও একট্টা সমরূপে নেই। গল্পের কাঠামো স্থানের রঙে রঙিন। নানা রূপে পুজিতা। কোথাও ঘট কোথাও পট আবার কোথাও কাঠের কাঠামোতে মনসা মূর্তিমতী—মেলানো সহস্র সাপের ফনার আকার। আবার কোথায় মাটির সরায় তুলির আঁচড়ে শিব পার্বতী ও নালসহ গোলাপী পদ্মের ছড়া।গত শতকের আটের দশকে আমি যখন খালভাঙা গ্রামে যেতাম ভোগাই…

Read More

সাম্প্রতিককালের কবিতার অভিমুখ

সাম্প্রতিককালে পত্রপত্রিকায় অধিকাংশ কবিরাই যেসব কবিতা লিখছেন, তাতে বহুমুখী কাব্যধারার পরিচয় ফুটে উঠছে। হাংরি বা শ্রুতি আন্দোলন বাংলা কাব্য সাহিত্যের ইতিহাসে অনেকখানি জায়গা দখল করে আছে। কিন্তু তারপরেও বাংলা সাহিত্য থেমে থাকেনি। বাংলা কবিতাকে আমরা অনেকেই বিদেশি সাহিত্যের বা শিল্পের প্রভাবান্বিত বলে থাকি। একথা অস্বীকার করা যায় না। মাইকেল মধুসূদন দত্ত বীরাঙ্গনা, ব্রজাঙ্গনা, মেঘনাদ বধ…

Read More

মানুষ সত্যেন্দ্রনাথ

বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর অন্যতম সুহৃদ অধ্যাপক প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশ একবার তাঁর একটি বক্তৃতায় বলেছিলেন – “আচার্য বসুর বৈজ্ঞানিক দিকটা যদিও বা বাইরে থেকে কিছুটা বোঝা যায়, কিন্তু মানুষ সত্যেন্দ্রনাথকে বোঝা খুব সোজা নয়।” আর তাঁর ছাত্র রবীন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন – “সত্যেন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সান্নিধ্যে আসার সৌভাগ্য আমরা পেয়েছি অনেক পরে – তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে…

Read More

যে রকম ছিল আমার শৈশব

১. আমার জন্ম আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের বরিশাল শহরে। তখন আমাদের পরিবার হাটখোলা রোডে ভাড়া বাসায় থাকতো। সে রাস্তায় সপ্তাহে দুবার বসতো হাট। সে হাটের নামানুসারে এলাকাটির নাম হাটখোলা রোড। সেখান থেকে কিছুটা পথ হেঁটে গেলে প্রবাহিত কীর্তনখোলা নদী। আমার যতো প্রথমা বিস্ময় যতো নতুন আবিষ্কার সব ছিলো ঐ হাটকে ঘিরে। আমাদের সময়ে তখনকার…

Read More

গীতিকাব্য: নোনা মাটির নোলক (পর্ব- ১২)

মাটির গান গাইতে গাইতে নোনাজলে ভেসে বেড়ায় মদন, ছমির মিঞারা। প্রকৃতি কাড়ে তাদের সুখ- স্বপ্ন- আশা- ভরসা। নোনাস্রোতে ভাঙনের সাক্ষী হয় রোজ রোজ। রাত নামলে ছমিরের চোখে ভাসে মেয়ে গোলাপির মুখ। শোনে বিবির অসহায় কান্না।কালক্রমে বাঁজা হারামনি শোনে নারী জীবনের কাঙ্খিত মা ডাক। নোনা জল শোনায় নিখোঁজ হওয়া মানুষের গল্প। আখ্যান জড়িয়ে বাঁচে বিপন্ন লোকসংস্কৃতি,…

Read More

ভাদুশিল্পী রতন কাহার পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত

এত গান লিখেও সংসার চলছে না! একসময় আক্ষেপ করেছিলেন বীরভূমের লোকশিল্পী রতন কাহার। এবার সেই প্রকৃতযশা লোকসঙ্গীত শিল্পী রতন কাহার পেলেন ভারত সরকারের পদ্মশ্রী পুরস্কার। “বড়লোকের বিটি লো” গানের স্রষ্টার এই সম্মানে খুব স্বাভাবিকভাবে খুশি রবি ঠাকুরের লালমাটির জেলার বীরভূমবাসি। ভাদু গান গেয়ে যৌবনকালে গায়কজীবন শুরু করেছিলেন রাজ্যের বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতন থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে…

Read More

বিবর্ণ অভিযোজন: পর্ব ২

উপন্যাসিক মুসা আলি’র ‘বিবর্ণ অভিযোজন’ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। এই উপন্যাসে শিক্ষকের পিতৃত্ব একজন ছাত্রের জীবনকে কত বেশি উদ্বেলিত করে তুলতে পারে, সেই অনুভূতির বিস্তার ঘটেছে এ উপন্যাসের পাতায় পাতায়, পরতে পরতে। পড়তে পড়তে আপনি আপনার প্রিয় শিক্ষককে নতুন করে আবিষ্কার করতে পারবেন। ।। দ্বিতীয় পর্ব ।। মাত্র একটা সপ্তাহ দিন ঘন্টা মিনিটে ফিনিস হয়ে গেল।…

Read More

লোকগণিত পরিচয়: চতুর্থ পর্ব

দেশজ গণিত (Indigenous Mathematics): গ্রামীণ মানুষজনের মধ্যে প্রচলিত যে গাণিতিক জ্ঞান বংশপরম্পরায় প্রবাহিত হয়ে আসছে, তা কোনো বিদ্যালয় বা কলেজ থেকে প্রাপ্ত নয়, তাদের নিজস্ব পারিবারিক, দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত হয় এবং তা তাদের জীবনের প্রয়োজনও মেটায়; তাই-ই দেশজ গণিত। অধ্যাপক J. Gay এবং M. Cole গণিতশিক্ষা ও গাণিতিক প্রজ্ঞার উপর অসাধারণ কাজ করেছেন। তারা এই…

Read More

ইচ্ছাপ্রবণ

গভীর আঘাত সয়ে উঠে দাঁড়ালো যে মানুষ মর্মমূল থেকে দুঃখ আছড়ে পড়ছে তার শরীরে হাত, পা কাঁপছে কালো ছায়ার মতন নুয়ে পড়ছে শরীর মোমের মূর্তি ভেঙে পড়ছে শরীরে হলুদ হাওয়ায় ভিজে যাচ্ছে সব আরও কিছুটা অবকাশ দরকার পথ্য, একমুঠো ভাত সব অচল হাত কাঁপছে, পা কাঁপছে দুঃখের যন্ত্রনায় কে যেন অবিরল বলে যাচ্ছে সেরে উঠুক,…

Read More

অণুগল্প: শ্মশানে অমাবস্যার রাতে

কথা হচ্ছিল ভূতের ভয় নিয়ে ঠাকুরবাখুলের দাবায়। বঙ্কিম জেঠুই পাড়ল কথাটা, “কেউ যদি অমাবস্যার রাতে শ্মশানের নিমগাছে পেরেক পুঁতে দিয়ে আসতে পারে তবেই বুঝতে পারা যাবে সে সত্যিকারের বাপের ব্যাটা! ভূতের ভয় তার নেই।” এমন কথায় সকলের মুখই শুকনো হয়ে গেল। এমনিতে গ্রামাঞ্চলে ভূতে বিশ্বাস আর ভূতের ভয় অনেকটাই বেশি। তার উপর অমাবস্যার রাত, শ্মশান,…

Read More

মেঘনাদবধ কাব্যের গৌরব

‘আমার জন্মের দ্বি-শতবর্ষ পরে/কে তুমি পড়িছ বসি আমার কাব্যখানি কৌতূহল ভরে’ এমন কথা মাইকেল মধুসূদন দত্ত কখনো লিখে যাননি। শুধু লিখেছিলেন: ‘রেখো, মা, দাসেরে মনে এমিনতি করি পদে/ পুরাতে মনের সাধ/ ঘটে যদি পরমাদ/ মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।’ অর্থাৎ অমরত্বের ইচ্ছা তাঁর মনেও উত্থিত হয়েছিল বলেই মধুহীন না করার আবেদন জানিয়েছিলেন তব মনঃকোকনদে।যে…

Read More

মাইকেল মধুসূদন দত্ত আজও কেন প্রাসঙ্গিক?

১৮৬০ সালে কোচবিহার রাজ্যের ম্যাজিস্ট্রেট পদে চাকরির প্রার্থী হয়ে মাইকেল মধুসূদন দত্ত কোচবিহারের মহারাজার কাছে যে দরখাস্তটি পাঠিয়েছিলেন, সেই দরখাস্তের একপাশে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর স্বহস্তে মহারাজার উদ্দেশ্যে লিখে দিয়েছিলেন – “একটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ পাঠাইলাম, দেখিও যেন ইহা বাতাসে উড়িয়া না যায়।” মধুসূদনের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ তখনো পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। সমকালীন বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ বলে যিনি তখন স্বীকৃত…

Read More
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!