গীতিকাব্য: নোনা মাটির নোলক (পর্ব- ৮)

মাটির গান গাইতে গাইতে নোনাজলে ভেসে বেড়ায় মদন, ছমির মিঞারা। প্রকৃতি কাড়ে তাদের সুখ- স্বপ্ন- আশা- ভরসা। নোনাস্রোতে ভাঙনের সাক্ষী হয় রোজ রোজ। রাত নামলে ছমিরের চোখে ভাসে মেয়ে গোলাপির মুখ। শোনে বিবির অসহায় কান্না।কালক্রমে বাঁজা হারামনি শোনে নারী জীবনের কাঙ্খিত মা ডাক। নোনা জল শোনায় নিখোঁজ হওয়া মানুষের গল্প। আখ্যান জড়িয়ে বাঁচে বিপন্ন লোকসংস্কৃতি,…

Read More

চক্রবৎ আবর্ততে

সকালে ঘুম থেকে উঠেই পাশের বাড়ির ঘোষগিন্নির চিৎকার কানে গেল: “বলি, বুড়ো হয়ে তো মরতে গেলে, তোমাকে কতদিন বলেছি যে সকাল বেলার বাজারটা তুমি আগে সেরে আসবে ৷ খবরের কাগজটা তো আর পালিয়ে যাচ্ছে না, সারাদিন পড়ে রয়েছে ৷ জানো তুমি, মন্টু আর বৌমা অফিসে বেরিয়ে যাবে৷ তোমার দেখছি বোধবুদ্ধি দিন দিন লোপ পাচ্ছে ৷…

Read More

স্বদেশী আন্দোলন থেকে একাত্তরের বিপ্লবী যোদ্ধা মনোরমা বসু মাসিমা

উপমহাদেশের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, নারীমুক্তি আন্দোলন, মুক্তি সংগ্রামের অনন্য পথিকৃৎ মনোরমা বসু। তিনি বরিশালে মনোরমা মাসিমা বলেই খ্যাত। ভারতবর্ষজুড়ে বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলন চলার সময় যখন স্বদেশী বিপ্লবীরা রাস্তায় গান গেয়ে মিছিল নিয়ে যাচ্ছিল তখন সেই মিছিলেই হাতে হলুদ রাখি বেঁধে স্বদেশী আন্দোলনে দীক্ষা নেন তিনি, তখন তার বয়স ছিল মাত্র আট বছর। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বরিশালের বাঁকাই…

Read More

গারো পাহাড়ের চিঠি: চুনিকণ্ঠি

নাম তাঁর চুনিকণ্ঠি। একবার এখানে পরক্ষণেই হাওয়া। এই যে দাঁড়িয়ে আছি তাঁর আর দেখা পাই না। চারদিকে এতো এতো ঘন ঝোপঝাড় আর ফ্যাকাশে অন্ধকার যে খুব দ্রুত বার বার স্থানও পরিবর্তন করতেও পারছি না। কিঞ্চিৎ শব্দ হলেই শহীদের ভ্রু কুঁচকের ভেতর ফুটিয়ে তুলছে ‘চুপ, চুপ–একদম চুপ’। আমি স্থির দাঁড়িয়ে আছি জলার ভেতর চারদিকে জংলাঘরের বেষ্টনী…

Read More

পিটসবার্গে ‍কবি বুদ্ধদেব বসু

কবি বুদ্ধদেব বসু [১৯০৮-১৯৭৪] বিংশ শতাব্দীর বিশ ও ত্রিশের দশকে বাঙালী আধুনিক কবিতার যারা পথিকৃৎ তিনি তাদের একজন। আমি আমার মাতৃভাষা বাংলায় লিখে থাকি আর বাঙালী কবি হিসেবে আমি যাদের লেখা পড়া আমার কাছে এখনও গুরুত্বপূর্ণ তাদের মাঝে বুদ্ধদেব বসু অন্যতম। আমি গত সাত বছর ধরে আমি আমেরিকার পেনসালভানিয়া রাজ্যের পিটসবার্গে শহরে বসবাস করছি। বুদ্ধদেব…

Read More

ধনতেরাস

আজ কৃষ্ণা ত্রয়োদশী আজ ধনদেবী আর কুবেরের আরাধনার দিন আজ লোভ-লালসার প্রদীপে ঢেলেছি অনেকটা ঘি আগুন বুকে নিয়ে প্রদীপটা জ্বলতে থাকে। ঘি নিঃশেষিত তবু জ্বলতেই থাকে সেই প্রদীপ। লোভ বড় ভয়ানক ছিন্নভিন্ন তোলপাড় করে- হিংসার ঝড়- সব কেড়েকুড়ে নেয় এর তার তোমার আমার। যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ-যুদ্ধের দামামা বাজে রাষ্ট্রনায়কের হাতে যুদ্ধের নৃশংস ট্রিগার কুম্ভীরাশ্রু-ছেলে ভুলানো…

Read More

চোদ্দো শাক

কালীপুজোর আগের দিন সকালে রীতি মেনে ‘চোদ্দো শাক’ কেনার ভিড় এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। প্রবীণদের আক্ষেপ, ‘ভূতচতুর্দশী’তে দুপুরের পাতে চোদ্দো শাক আর সন্ধ্যায় বাড়িতে চোদ্দো প্রদীপ জ্বালানোর চল প্রায় ভুলতে বসেছে নতুন প্রজন্ম। তবু ভূতচতুর্দশীর আগে বিভিন্ন সব্জি বাজার ঘুরলে দেখা যায়, সব্জি বিক্রেতারাই মনে করে চোদ্দো রকম শাক কুঁচিয়ে, হয় পলি প্যাকে…

Read More

গতানুগতিক প্রেমের উচ্চারণ ও অনন্ত প্রেমের কবিতা

কবিতা লেখার প্রথম পাঠ কেমন ছিল? কেমন ছিল প্রেমে পড়ে কবিতা লেখার প্রচেষ্টা? কেমন ছিল দুঃখ দারিদ্রে বেড়ে ওঠার উপলব্ধি? সেসব নিয়ে বিস্তর লেখালেখি করেছি। আজ আর নিজের কথা লিখতে চাই না। যখন একে একে হাইস্কুল, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিঁড়িগুলো ডিঙিয়ে যাচ্ছি, তখন নানা সময়ে সহপাঠী বন্ধু-বান্ধবেরা আমার চারিপাশে ভিড় করেছে। অনেকের সঙ্গেই গড়ে উঠেছে…

Read More

স্মরণে নবনীতা দেবসেন

নামটি: ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ই জানুয়ারি তিনি কলকাতার ভালবাসার বারান্দার বাড়িতে জন্ম নেন। মা লেখিকা রাধারানী দেবী, যাঁর ছদ্মনাম অপরাজিতা দেবী। বাবা বিশিষ্ট লেখক নরেন্দ্র দেব। খুব ছোটবেলার কথা। নামটা নাকি কোনও লেখিকার নামে আমার? কে তিনি? বড় হয়ে পড়ি নবনীতা দেবসেনের ‘হে পূর্ণ তব চরণের কাছে’। পূর্ণ কে? তাঁর চরণে এত মজা করে পৌঁছে যাওয়া…

Read More

হারানো দিন

কালো আগুন্তুক হয়ে শীতবৃষ্টির হেমন্ত কুয়াশায় ভিজে এখানে এসেছি পাহাড়ের গাঢ় ছায়া যেখানে পড়ে যেখানে নদীর আরম্ভ জলের ভেতর মাটির গুল্ম আমার শরীর কথা বলে আদম ভাষায় পাথরের মতন কালো চোখে তুমি তাকাও দীর্ঘ অন্ধকারের ভেতর আমি বড় নুয়ে পড়েছি। +

Read More

সিদ্ধার্থ সিংহের দু’টি রসালো অণুগল্প

বিধিসম্মত সতর্কীকরণ: ছোটরা পড়বেন না। আরও একবার মা এসে ঠাস ঠাস করে চড় মারল মেয়ের গালে। বিয়ের আগেই প্রেগন্যান্ট? যে এই কাজ করছে এক্ষুনি তাকে ডাক। মেয়ে ফোন করতেই লাফাতে লাফাতে চলে এল ছেলেটি। জিজ্ঞেস করল, আমাকে ডেকেছ কেন? পর্দা সরিয়ে মেয়ের মা রণমূর্তি ধারণ করে বলল, ও নয়, আমি ডেকেছি। তুমি জানো যে ও…

Read More

চন্দ্রাবতী দেবী

সময়টা ষোড়শ শতক৷ ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার পাটওয়াড়ি গ্রাম৷ এই গ্রামেই পন্ডিত বংশীদাস ভট্টাচার্য বাস করতেন৷ তিনি দ্বিজ বংশীদাস নামেই খ্যাত ছিলেন৷ তাঁর বিখ্যাত রচনা “মনসার ভাসান”৷ বংশীদাস ভট্টাচার্যর স্ত্রীর নাম সুলোচনা দেবী৷ বংশীদাস ভট্টাচার্য ও সুলোচনা দেবীর কোল আলো করে জন্ম নিলেন চন্দ্রাবতী, প্রাচীন বঙ্গসাহিত্যের মধ্যমনি৷ এমন প্রতিভাময়ী কবির জীবনটা কিন্তু বড়ই যন্ত্রণার। পাটোয়ারী…

Read More
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!