আমরা কি একটু ভিন্নভাবে ভাবতে পারি না?

নিজেকে প্রকাশ করা, জাহির করা কিংবা নিজের অস্তিত্ব জানান দেওয়া আমাদের দেশের মানুষের সহজাত প্রবণতা। এখন এই প্রকাশ কিংবা অস্তিত্ব জানান দেওয়ার পন্থাতে ভিন্নতা রয়েছে। কেউ নিজেকে প্রকাশ করতে চাই সৃজনশীলতা তথা সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে, নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে চাই প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, দ্রোহের মাধ্যমে। কিন্তু এই মানুষদের সংখ্যা নিতান্তই নগণ্য। সিংহভাগ মানুষ সংক্ষিপ্ত রাস্তায় হেঁটে নিজের…

Read More

প্রাচীনকালে বাঙালীর বসন

কাশ্মীরী কবি ক্ষেমেন্দ্র তাঁর ‘দশোপদেশ’ গ্রন্থে কাশ্মীর প্রবাসী গৌড়ীয় বিদ্যার্থীদের বেশ অদ্ভুত রকমের একটা ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। খৃষ্টীয় দশম-একাদশ শতকে প্রচুর গৌড়ীয় বিদ্যার্থী বঙ্গদেশ থেকে কাশ্মীরে বিদ্যালাভ করবার জন্য যেতেন। ক্ষেমেন্দ্র লিখেছিলেন যে, তাঁদের প্রকৃতি ও ব্যবহার রূঢ় এবং অমার্জিত ছিল। তাঁরা অত্যন্ত ছুঁৎমার্গী ছিলেন; তাঁদের দেহ ছিল ক্ষীণ — কঙ্কালমাত্র সার; একটু ধাক্কা লাগলেই যেন…

Read More

গারো পাহাড়ের চিঠি: নাজনীনের নকশা!

বছর বিশেক আগে যে-সকল ছনে ছাওয়া মাটির ঘর এই তল্লাটে দেখেছিলাম; এখন ক্রমেই সেই সব পড়তির দিকে। এখন সেখানে দু’চালা চৌচালা টিনের ঘর। কোথাও কোথাও আবার হাফ-বিল্ডিং। রঙ করা। দেয়ালে সবুজ রঙের কাজ করা লতাপাতা আর ফুলের সমাহার। এই উত্তর প্রান্তিকে নয়া নয়া দালান নতুন সংযোজন। সদরের সাথে যোগাযোগ ভালো। পিচের রাস্তায় সাঁই সাঁই করে…

Read More

বাসন্তিকা

পাতার শেষ বিন্দুতে তোমার ছায়া পাথরে আমার হৃদয় সবুজ আলোর মতো জ্বলে আমাদের বিদায়ী মুহূর্তেরা রোহিনী হয়ে যায় নৌকারা জেগে থাকে তবু রাত পেরিয়ে যাবারও পরে অন্ধকার আমাদের বিচ্ছেদর ডাক নাম না পাওয়ার অভিমান কারও কাছে প্রেম জোৎস্নাও একা কাঁদে কেউ ফিরে গেলে জেনো সমাপ্তিরেখা বলে কিছু নেই আকাশেরও থাকে ছেড়ে যাওয়ার দৃষ্টি কারও গল্পে…

Read More

স্মরণে কবি-শিল্পী-চিত্রপরিচালক-গবেষক পূর্ণেন্দু পত্রী

‘আমার পতাকা উড়ছে পাখিদের স্বাধীনতা ছুঁয়ে।’ এই পতাকা যাঁর উড়ছে আজ তাঁর মহাপ্রয়াণের দিন। একাধারে কবি সাহিত্যিক, প্রচ্ছদশিল্পী, চিত্র পরিচালক, গবেষক প্রভৃতি বিস্ময়কর গুণের অধিকারী সেই ব্যক্তি পূর্ণেন্দুশেখর পত্রী (২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩১ – ১৯ মার্চ ১৯৯৭)। পূর্ণেন্দু পত্রী নামে সর্বাধিক পরিচিত; ছদ্মনাম সমুদ্রগুপ্ত। বাংলা সাহিত্যের শতাধিক ধ্রুপদী গ্রন্থের প্রচ্ছদ অঙ্কন করেছিলেন তিনি। তাঁর অঙ্কিত প্রচ্ছদচিত্রগুলি…

Read More

এই উত্তরদেশ, এই জোড়া মহিষের দেশ

রূপকান্ত তার দুই চোখ দিয়ে কেমন দূরাগত এক বিভ্রম কিংবা ভ্রম নিয়ে এই উত্তরদেশের উত্তর শিথানে প্রবাহিত নদীর দিকে তাকিয়ে ছিল। সে কি নদীজলপ্রবাহ দেখে আদতে কিঞ্চিৎ আনমনা হয়ে পড়ছিল! না কি তার দু চোখের ভেতরের অন্তর্গত কোন এক বিষন্নতা তাকে মরন আর জন্মের এক চিরায়ত ধানজমির পরিসরের বিস্তৃত এক বিস্তারের ভেতর ক্রমে তাড়িয়ে নিয়ে…

Read More

ধারাবাহিক উপন্যাস ‘উত্তাল’ ৭

গোটা পৃথিবী জুড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জমি নিয়ে যত কেলেঙ্কারি ঘটেছে, তার সালতামামী দিয়ে মাত্র আড়াই দিনে লেখা ৮৬,৩৮৫ শব্দের অসামান্য একটি উপন্যাস ‘উত্তাল’ নিয়মিত প্রকাশ করা হবে। ।।সাত।। একটু বেলা করেই ঘুম থেকে উঠেছিল তেরো নম্বর। ভেবেছিল, গোপালদা তার সামনে গরম গরম এক কাপ চা ধরবেন। এখান থেকে যাওয়ার পরে, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সুভাষগ্রামের…

Read More

গ্রাম সংস্কৃতিতে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক ১

ঘটনা: এক    হিন্দু নামেই ডাকবে, বকুনি বাবার। পাশেই বসে ছিল তার বড় বোন। সে জোয়াকে কনুই দিয়ে খোঁচা দিয়ে বলল, ‘তোর নাম তো গুড়িয়া।’ বোনের কথা মতো সে আমাকে আবার বলল যে, তার নাম গুড়িয়া। এর মধ্যেই জোয়ার ভাইকে প্রতিবেশী এক শিশু ‘আনাস’ নামে ডাকল। সাত বছর বয়সী আনাস তার বাবা দিলশাদের দিকে তাকাচ্ছিল।…

Read More

বিবর্ণ অভিযোজন: পর্ব ৯

উপন্যাসিক মুসা আলি’র ‘বিবর্ণ অভিযোজন’ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। এই উপন্যাসে শিক্ষকের পিতৃত্ব একজন ছাত্রের জীবনকে কত বেশি উদ্বেলিত করে তুলতে পারে, সেই অনুভূতির বিস্তার ঘটেছে এ উপন্যাসের পাতায় পাতায়, পরতে পরতে। পড়তে পড়তে আপনি আপনার প্রিয় শিক্ষককে নতুন করে আবিষ্কার করতে পারবেন। ।। নবম পর্ব ।। পরের সপ্তাহে সোমবার। তানুস্যার বাড়িতে ছিলেন না। খবরের কাগজ…

Read More

আমার দেখায় আমার বাংলাদেশ: পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের বাড়ি

পদ্মা সেতু দেখে বাসে চেপে বসলাম ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে। ফুরফুরে মেজাজে বাসের জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখছি অবারিত সবুজের হাতছানি। মাইলের পর মাই জুড়ে ধান আর সবজির ক্ষেত আর তার মাঝ বরাবর পীচঢালা রাস্তা ধরে ছুটে চলেছে আমাদের বাস। অল্প সময়ের মধ্যেই ফরিদপুর পৌঁছে গেলাম। বাস থেকে নেমে পড়লাম আমরা, এরপরে একটা রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করলাম সবাই। সেখানে…

Read More

অস্তিত্বের জাদুঘরেই অনন্ত কবিতার প্রবাহ

কবিতা যখন নিজের সঙ্গে নিজেরই সংলাপ, তখন নিজেকে দেখার এর থেকে বড় আয়না আর আমাদের সামনে নেই। আয়নার সঙ্গে নিজেকে দেখার পার্থক্য হল,আয়না শুধু বাহিরের অবয়বটি দেখাতে পারে,কিন্তু কবিতা ভেতরের রূপটি তুলে আনতে পারে। আর এই ভেতরের রূপটিই আসল রূপ। এখানে ছলনা সাজে না। মিথ্যা আরোপ থাকে না। ভাঙনের নৈঃশাব্দ্যিক ক্রিয়া ও কান্না একইসঙ্গে উঠে…

Read More

বাংলার নবজাগরণ ও মাইকেল মধুসূদন ২

মধুসূদনের জন্ম হয়েছিল পূর্ববঙ্গের যশোহর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে, কিন্তু তাঁর বেড়ে ওঠা-গড়ে ওঠা উনিশ শতকের আধুনিক সংস্কৃতির লীলাভূমি কলকাতায়। সাগরদাঁড়িতে ছিলেন বোধহয় জীবনের প্রথম দশটা বছর। এই সময়পর্বে যথাকালে বাড়ির চণ্ডীমণ্ডপে তাঁর হাতেখড়ি হয়। বাল্যশিক্ষার শুভারম্ভ গ্রামের পাঠশালায়। ফার্সি শিখতেন গ্রামের এক মৌলবির কাছে। বাল্যে তাঁর বিদ্যানুরাগ ও পারদর্শিতা সকলকে চমৎকৃত করেছিল। মধুসূদনের জননী জাহ্নবী…

Read More
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!