মালঞ্চা এবং: নবীন বরণ

বৈশালী ও নির্ঝর একই কলেজে পড়ে। বৈশালীর মা-বাবা ও এক ভাই আছে। মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে। মা গৃহকর্ত্রী। বাবার সোনার দোকান। নির্ঝরের বাড়িতে বাবা-মা আছে। এক দাদা ও বৌদি রয়েছে। বাবার বড় কাপড়ের দোকান আছে । বৈশালীর বাড়ি বুনিয়াদপুর। নির্ঝরের বাড়ি মালদা জেলার পান্ডুয়াতে। বুনিয়াদপুর কলেজ। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ত নির্ঝর। প্রথম বর্ষে পড়ত বৈশালী। সবে কলেজে…

Read More

বরিশালের ব্রজমোহন কলেজের জীবনানন্দ

কবিতায় ‘অশ্লীলতার’ অভিযোগে কলকাতার সিটি কলেজ থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পরেও জীবনানন্দ কলকাতাতেই থেকে গিয়েছিলেন এবং এখানে ওখানে চাকরির চেষ্টা করতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু এরপরে বছর খানেক ধরে তিনি কোথাও কোনো চাকরি পাননি। সেই সময়ে নিজের হাতখরচ ও প্রেসিডেন্সি বোর্ডিংয়ের খরচ চালানোর জন্য তিনি সামান্য দু’-একটা টিউশনি করতেন মাত্র। তারপরে ১৯২৯ সালের কোন একসময়ে তিনি খুলনা…

Read More

জীবনানন্দের নার্স

১৯৫৪ সালের ২২ শে অক্টোবরে জীবনানন্দের মহাপ্রয়াণ হয়ে গেছে, জীবনানন্দ দাশের নার্স শান্তি চুপচাপ ‘বনলতা সেন’ কবিতার বইটি কারো কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে এসেছিলেন। আজ রাতে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে ডিউটি সেরে বাড়ি ফিরে বইটি নিয়ে বসেছেন শান্তি। মনে পড়ছে দুর্ঘটনার পর অজ্ঞান অবস্থা থেকে প্রথমবার জেগে জ্বরের ঘোরে জীবনানন্দ হাসপাতালে গভীর রাতে ভুমেন্দ্র গুহ, সমর…

Read More

তোমার চোখে লাগলো হলুদ হাওয়া

…তারপর তারা এসে বসল তোমার চোখে তুমি দুহাতে ঢাকলে লজ্জা হাতের ছায়ায় তুমি তুমি খুললে চোখ আকাশ উচ্চারিত হল দৃষ্টিতে বুকের পাশে উতল হলো ঢেউ … তারপর একটি প্রজাপতি এসে বসল তোমার গায় তোমার ভিতরে তখন অস্থির হলুদ পরাগ নির্জনতা ভেঙে আরও মুখর দূর ভেঙে কাছে কামরাঙা আলো হাওয়ায় ডানায় দোল … তারপর জ্বলে উঠেছে…

Read More

যৌবনের নির্জন একাকিত্বে জীবনানন্দ

জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪) কীভাবে আমাকে ডেকে নিলেন যৌবনের অন্ধকারে কোন প্রাগৈতিহাসিক অবসরে আমি বিনীত নিবেদিত হয়ে গেলাম আজ বলার কোনও অর্থ নেই তার। ‘রূপসীবাংলা’র কবিতায় সেই ধানসিঁড়ি আর শালিক পাখির একাকিত্ব আমার ভেতরেও বিস্তৃত হল। ভেতর ভেতর এক একটি গানের জন্ম হল। নরম জলের দিকে ছিপ ধরে বসে থাকি। শুনতে পাই সরপুঁটি-চিতলের উদ্ভাসিত স্বর মীনকন্যাদের…

Read More

জীবনানন্দ দাশের ‘তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও’

তোমরা যেখানে সাধ চ’লে যাও — আমি এই বাংলার পারে র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে; দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের সন্ধ্যায় হিম হ’য়ে আসে ধবল রোমের নিচে তাহার হলুদ ঠ্যাং ঘাসে অন্ধকারে নেচে চলে–-একবার–দুইবার—তারপর হঠাৎ তাহারে বনের হিজল গাছ ডাক দিয়ে যায় হৃদয়ের পাশে; দেখিব মেয়েলি হাত সকরুণ—শাদা শাঁখা ধূসর বাতাসে শঙ্খের মতো কাঁদে:…

Read More

বাংলা কবিতায় জীবনানন্দের নগ্ন নির্জন হাত

কেন কবিতা লেখেন? পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্র নামক খোঁয়াড়ে নিরবিচ্ছিন্ন তৃপ্তির ঢেকুর না তুলে পাঠক কেন কবিতার দিকে হাত বাড়ান? কোন্ ক্ষুধা তার অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দেয়? এই ভাবনাগুলো চিরায়ত। আসলে এসবের সন্তোষজনক কোন উত্তরও হয়তো পাওয়া যাবে না কোনদিন। রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে বাংলা কবিতা অনেকটাই সাবালক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত ত্রিশের অধ্যাপক কবিগণ…

Read More

লালন শাহের ইসলামীকরণ বিতর্ক

লালন ফকিরের জন্মসাল সম্পর্কে আজও কেউ নিঃসন্দেহ নেন। তবুও সাধারণভাবে তাঁর জীবনকাহিনী নিয়ে মানুষ যতটা পরিচিত রয়েছেন, সেটা এরকম— লালন এক হিন্দু বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পরে তিনি মহাব্যাধিতে আক্রান্ত হলে তাঁর আত্মীয়স্বজনরা তাঁকে পরিত্যাগ করেন। সেই সময়ে এক মুসলমান রমণী কর্তৃক তিনি শুশ্রূষা পেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে লালন ফকির ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন। নিজের জাত সম্পর্কে তাঁকে কোন…

Read More

পুরাণ কাহিনী: অসূয়া

শুধু মর্তে কেন? পুরাণেও দেখা যায়,স্বর্গের দেবীরাও ঈর্ষা (অসূয়া) মুক্ত ছিলেন না। অত্রি মুনির স্ত্রী ছিলেন, অনুসূয়া ছিলেন অপূর্ব রূপবতী ও গুনবতী। যার গর্ভে দুর্বাসা মুনির জন্ম হয়েছিল। তার সতীত্বের খ্যাতি জগৎ-জোড়া। অনুসূয়ার সতীত্বের খ্যাতি, এই মর্তলোক ছাড়িয়ে, স্বর্গের দেবলোকেও ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতে স্বর্গের দেবীরা (সরস্বতী,লক্ষ্মী,দূর্গা) বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন। তারা ভেবেছিলেন, অনুসূয়ার সতী হিসাবে এতোটা…

Read More

ধারাবাহিক উপন্যাস ‘উত্তাল’ (ত্রিশ)

।। পর্ব – ৩০।। কলকাতার রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবীরা বুঝতে পারলেন, এই আন্দোলনটাকে দমন করার জন্য রাজ্য সরকারের দমনপীড়ন নীতির পাশাপাশি অর্ধসত্য ও অসত্যের পথ ধরেছে সরকারের প্রধান শরিক দল সি পি এম। যে কোনও দেশের যে কোনও সরকারের পিঠ যখন একদম দেয়ালে ঠেকে যায়, তখন তারা কোনও রাস্তা না‌ পেয়ে, মরিয়া হয়ে এই পথ নেয়। এটাকে…

Read More

এই শরতের গল্পগাথা

শিশিরে সিক্ত পদ্ম যেমন বোহেমিয়ান ইনহিবিশন খুলে রাখে একে একে নির্বিকার শিউলি কখন ঝরে পড়ে উতল হাওয়ায় রোমাঞ্চ লাগে সেই নদীটির সুমোহনায় কাঁপতে কাঁপতে শীতের পরশ খুইয়ে দিয়ে উষ্ণ রচনা লেখে ঠোঁটে ঠোঁটে আদর ওমে ভাসতে ভাসতে বারদরিয়ায় সমর্পণে সুখের মধ্যে সুখ ডুবে যায় যেমন করে এই কুয়াশায় জীবন আভাস মৃত্যুহিম সমূহ পেরিয়ে আগুনে সেঁকার…

Read More

কোঠিগাঁওয়ের পথে

প্রথমেই বলে রাখা ভাল যারা গভীর ভাবে নির্জনতাকে এবং নিস্তব্ধকে অনুভব করতে চান, একমাত্র তাদের জন্যেই হয়ত এই জায়গাটির আবিষ্কার। এখানে এসে নিজের কণ্ঠস্বরও ভীষণ কর্কশ মনে হয়। এতটাই মোলায়েম এবং নরম এই পরিবেশ। তাই এখানে আসামাত্র প্রতিদিনের সমস্ত ক্লান্তি এক নিমেষে উধাও হয়ে যায়। সবুজ গালিচায় মোড়া পাহাড়ী ঢাল আর মাঝেমাঝে আঁকাবাঁকা পাহাড়ী পথ…

Read More
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!